ঠাকুরগাঁও

প্রেমের টানে ইতালির যুবক ঠাকুরগাঁওয়ে

ঠাকুরগাঁও, ২৬ জুলাই – প্রেমের টানে বাংলাদেশের ঠাকুরগাঁওয়ে আসলেন এক ইতালিয়ান যুবক। জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার অজোপাড়াগাঁ চাড়োলের খোকোবাড়ি গ্রামের মারকুস দাসের মেয়ে রত্না রানী দাসের মেয়ের প্রেমে পড়ে ছুটে আসেন ইতালিয়ান নাগরিক আলী সান্দ্র্রে চিয়ারোমিন্ডে। সোমবার রাতে সনাতন ধর্মের রীতি অনুযায়ী দুজনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

চাড়োল ইউপি চেয়ারম্যান দিলীপ কুমার রায় বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সাড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে তাদের বিয়েও হয়েছে।

রত্নার বাবা মারকুস দাস বলেন, আমার এক ভাই ইতালি থাকেন। তার মাধ্যমেই জামাইয়ের সঙ্গে আমার মেয়ের পরিচয় হয়। তারপর মোবাইল ফোনে তাদের কথাবার্তা হয়। জামাই সোমবার দুপুর ১টায় বাংলাদেশে পৌঁছার পর আমাদের বাড়িতে আসে। ধর্মীয় সব আইনকানুন মেনে ধুমধাম করে তাদের বিয়ে দিয়েছি।

রত্না রানীর মা জানগি দাস বলেন, আমার দেবর তার পরিবার নিয়ে ইতালি থাকে। সেখান থেকে আমাদের প্রস্তাব দেয়। পরে প্রস্তাবের মাধ্যমে আমার মেয়েকে জামাই পছন্দ করে। পরে আমরা ধুমধাম করে এবং আয়োজন করে বিয়ে সম্পন্ন করেছি। আমার জামাই আমার মেয়েকে ইতালি নিয়ে যাবে। পরে আমরাও যাব।

রত্না রানী বলেন, সান্দ্র্রে সম্পর্কে আমার চাচা আমার মা-বাবাকে প্রস্তাব দেন। পরে তারা ইমুতে যোগাযোগ করেন। আমিও কথা বলি। একে অন্যের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হয়। চাচা আমাকে ইতালির কিছু ভাষা শিখিয়ে দিয়েছিলেন। সেগুলো দিয়ে তার সঙ্গে কথা বলি। তারপর সোমবার আমাদের বিয়ে হয়। সান্দ্রে অনেক ভালো মনের মানুষ। সে সবকিছু মানিয়ে নিতে চেষ্টা করছে। সেও আমাদের ভাষা শেখার চেষ্টা করছে।

আলী সান্দ্রে চিয়ারোমিন্ডে ঢাক বলেন, ইতালিতে রত্নার চাচার সঙ্গে আমি একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি। সেখানে দেখেছি তিনি অনেক সুন্দর দাম্পত্য জীবন পরিচালনা করেন। সেখান থেকেই আমি অনুপ্রাণিত হয়ে চাচা জোসেফকে বলি বাংলাদেশে বিয়ে করার কথা। তিনি রত্নার বিষয়ে আমাকে প্র্রস্তাব দেন। আমারও তাকে অনেক পছন্দ হয়।

তিনি বলেন, আমার স্ত্রী ও তার পরিবার অনেক ভালো। তারা অনেক আন্তরিক ও ভালো মনের মানুষ। আমি আমার স্ত্রীকে আমার দেশে নিয়ে যাব।

পাত্রকে দেখতে আসা প্রতিবেশী চম্পা খাতুন বলেন, এর আগে বিয়ে দেখতাম নিজ দেশের ছেলে ও মেয়ের। এবার ব্যতিক্রমী একটা বিয়ে দেখলাম। আমাদের প্রচলিত দেশের ছেলের বদলে ভিনদেশি পাত্র।

চাড়োল ইউপি চেয়ারম্যান দিলীপ কুমার রায় বলেন, সোমবার বিয়ের মাধ্যমে তাদের প্রণয় ঘটে।

বালিয়াডাঙ্গী থানারা ওসি খায়রুল ইসলাম ডন বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

সূত্র: যুগান্তর
এম ইউ/২৬ জুলাই ২০২২

Back to top button