সচেতনতা

গর্ভাবস্থা যে ৮ পানীয় সুস্থ রাখবে মা ও শিশুকে

গর্ভাবস্থা প্রত্যেক নারীর জীবনেই খুব বিশেষ একটা সময়। সন্তানের সুস্থতা এবং নিজের স্বাস্থ্যের কথা ভেবে এই সময় হবু মা-কে বেশ কিছু বিধিনিষেধ মেনে চলতে হয়। বিশেষ করে খাওয়াদাওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দেন ডাক্তাররা। প্রিয় খাদ্যগুলো ডায়েট থেকে বাদ চলে যায় এবং যেগুলো একবারেই খেতে ভালো লাগেনা, অনিচ্ছা সত্বেও সেগুলোই খাদ্যতালিকায় যোগ করতে হয়।

তবে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় মা এবং গর্ভস্থ শিশু উভয়ই সুস্থ থাকতে হলে বেশ কিছু পানীয় নিয়মিত খাওয়া অত্যন্ত জরুরি । চলুন জানা যাক…

ডাব

ডাব সবচেয়ে পুষ্টিকর ও রিফ্রেশিং প্রাকৃতিক পানীয়। ডাবে থাকা সোডিয়াম, পটাসিয়াম এবং ক্যালসিয়ামের মতো খনিজ লবণগুলো ভ্রুণের বৃদ্ধি এবং বিকাশের মূল নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে। এছাড়াও, ডাবে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি এবং সি রয়েছে। অন্তঃস্বত্তা অবস্থায় অনেক নারীই অম্বল, অ্যাসিডিটি এবং কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগেন। ডাব এই সকল সমস্যা খুব সহজেই দূর করতে পারে।

টাটকা ফলের রস

ফলের রস গর্ভবতী নারীদের ডায়েটরি ফাইবার সরবরাহ করে। গর্ভাবস্থায় সব ধরনের মৌসুমী ফলের রস খাওয়া যেতে পারে। প্রায় সমস্ত ফলই আমাদের দেহে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এবং খনিজ সরবরাহ করে, যা ক্রমবর্ধমান শিশুর জন্য অপরিহার্য।

স্যুপ

অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় বিভিন্ন সবজি দিয়ে তৈরি স্যুপ নিয়মিত গ্রহণ করা উচিত। স্যুপ আমাদের শরীরে পুষ্টি সরবরাহ করে এবং গর্ভাবস্থায় যে সকল নারীরা খাবার খেতে চান না, তাদের ক্ষুধা বাড়াতে সাহায্য করে। ব্রকলি, গাজর, বাঁধাকপি, পেঁয়াজ, টমেটো, এই সব সবজি দিয়ে তৈরি স্যুপ দেহে প্রোটিন এবং ফাইবার সরবরাহ করে।

বাটারমিল্ক

বাটারমিল্ক বা ঘোল পাচনতন্ত্রকে প্রশমিত করে এবং গর্ভাবস্থায় অম্বলের সমস্যা দূর করে। ঘোল আমাদের অন্ত্রে ভালো ব্যাকটেরিয়া বাড়াতেও সাহায্য করে। গরমকালে দিনের বেলা এই পানীয় খেলে শরীরে তরল এবং লবণের ঘাটতি দূর হয়।

দুধ

দুধ হল ক্যালসিয়ামের অন্যতম উৎস। শিশুর হাড় ও দাঁতের বিকাশের জন্য পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তাই গর্ভাবতী নারীদের নিয়মিত দুধ এবং দুগ্ধজাত দ্রব্য খাওয়া আবশ্যক।

লেবু পানি

লেবু পানি এক ধরনের শক্তিদায়ক পানীয়। সকালে এক চা চামচ মধুর সঙ্গে উষ্ণ লেবু পানি খেতে পারেন। এই সাইট্রাস ফলটি ভিটামিন সি-র পাওয়ার হাউস, যা হজমে সাহায্য করে, বমি বমি ভাব দূর করে, মর্ণিং সিকনেস এবং পেটের ফোলাভাব উপশম করতে সহায়তা করে।

শাকসবজির রস

ফলের রসের মতো, শাকসবজির জুস করেও খেতে পারেন। শাকসবজি ফাইবার, ভিটামিন, প্রোটিন এবং খনিজের দুর্দান্ত উৎস। এর জন্য গাজর, বীট, শসা এবং পালং শাক ব্যবহার করতে পারেন।

পানি

গর্ভবতী নারীদের সারাদিন প্রচুর পরিমাণে পানি খাওয়া উচিত। এর অগণিত উপকারিতা রয়েছে। পানি কেবলমাত্র ডিহাইড্রেশন প্রতিরোধ করে না, এর পাশাপাশি হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখে, মুড ঠিক রাখে এবং শরীর থেকে টক্সিন বের করে।

মুন/২৬ জুলাই

Back to top button