জাতীয়

ঢাকায় ডি-৮ বৈঠকের আনুষ্ঠানিকতা শুরু আজ, গুরুত্ব পাবে যে ৬ বিষয়

ঢাকা, ২৬ জুলাই – উন্নয়নশীল আটটি মুসলিম দেশের জোট ডি-৮ পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের প্রস্তুতি হিসাবে সোমবার ঢাকায় কর্মকর্তাদের বৈঠক শুরু হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে কমিশন বৈঠক এবং আগামীকাল বুধবার মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার সকালে ভার্চুয়ালি সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ডি-৮ অর্থনৈতিক সহযোগিতার জোট। এখানে রাজনৈতিক আলোচনা প্রাধান্য পায় না। তবে সম্মেলনের সুযোগে বিদেশি অতিথিদের সঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যায়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।

রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এই সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, পাকিস্তান ও তুরস্কের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং অপরাপর সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। ছয়টি বিষয়ে সম্মেলনে আলোচনা হবে।

এগুলো হলো বাণিজ্য, কৃষি, পরিবহণ, যোগাযোগ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ, পর্যটন ও জ্বালানি নিরাপত্তা। অগ্রাধিকার বাণিজ্য এবং আজারবাইজানের সদস্য হওয়ার আবেদন বিবেচনা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

বাংলাদেশ, মিসর, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ইরান, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান ও তুরস্ক ডি-৮ জোটের সদস্য।

এদিকে ঢাকায় আজ শুরু হচ্ছে দুদিনব্যাপী ডি-৮ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (ডি-৮ সিসিআই) বিজনেস ফোরাম এক্সপো। সংগঠনটি প্রতিষ্ঠার ২৫ উপলক্ষ্যে বর্তমান চেয়ারম্যান হিসাবে বাংলাদেশ এই এক্সপোর আয়োজন করেছে।

অনুষ্ঠানে সদস্যভুক্ত ৮টি দেশের ব্যবসায়ীরা অংশ নেবেন। দেশগুলোর বেসরকারি খাতের মধ্যে সম্পৃক্ততা বাড়িয়ে বিনিয়োগ ও ব্যবসা বাণিজ্যের উন্নয়ন আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

সোমবার হোটেল সোনারগাঁওয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ডি-৮ সিসিআই প্রেসিডেন্ট শেখ ফজলে ফাহিম এসব তথ্য জানান। একই ভেুন্যতেই (হোটেল সোনারগাঁও) হবে মূল এক্সপো।

উন্নয়নশীল ৮টি মুসলিম দেশের সংগঠন ডি-৮ বা ডেভেলপিং ইকোনমি। ১৯৯৭ সালে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ ছাড়া অন্য ৭টি সদস্য দেশ হলো- মিসর, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান ও তুরস্ক। বর্তমানে দেশগুলোর মোট অর্থনীতির আকার ৫ ট্রিলিয়ন ডলার।

সংবাদ সম্মেলনে শেখ ফজলে ফাহিম বলেন, এই আয়োজন সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে এবং ব্যবসার নতুন সুযোগ উন্মোচনে সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে। দেশগুলোর জন্য ব্যবসা ও বাণিজ্য পরিচালনায় এবং তাদের নিজ নিজ অর্থনীতিকে সহযোগিতামূলক পদ্ধতিতে এগিয়ে নেওয়ার নতুন দ্বার উন্মোচন করবে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এবার যেসব বিষয়ে আলোচনা হবে এর মধ্যে রয়েছে- পণ্যসামগ্রী-খনিজ ও শক্তি, শ্রমনির্ভর পণ্য-বস্ত্র, পোশাক, হালকা প্রকৌশল ও চামড়াজাত পণ্য; শ্রমনির্ভর সেবা-পরিবহণ, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন; অঞ্চলভিত্তিক প্রক্রিয়াকরণ-কৃষি, জলজসম্পদ ও পশুসম্পদ।

জ্ঞানভিত্তিক পণ্যের মধ্যে রয়েছে-ইলেকট্রনিক্স উপাদান, সেমিকন, সাইবার নিরাপত্তা সরঞ্জাম উপাদান, লজিস্টিকস ও পরিবহণ সরঞ্জাম।

জ্ঞানভিত্তিক সেবার মধ্যে রয়েছে-আইসিটিতে পেশাদার সেবা, অর্থনৈতিক খাতে প্রযুক্তি সক্ষম করা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার সিকিউরিটিজ, দক্ষতা এবং গবেষণা ও উন্নয়ন। এছাড়া চতুর্থ শিল্প বিপ্লব, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এবং প্রয়োগভিত্তিক দক্ষতা ইত্যাদি।

আলোচ্য ক্ষেত্র হিসেবে আরও থাকবে হালাল অর্থনীতি, ব্লু-ইকোনমি, সাইবার নিরাপত্তা, রোবোটিক্স, স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম, যুব-নারীর ক্ষমতায়ন ও এমএসএমই, কৃষিপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসংক্রান্ত প্রযুক্তি, পণ্যের মান ও সমন্বয় এবং মুদ্রার সমন্বয়।

করোনায় সৃষ্ট অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকি মোকাবিলায় এবং বৈশ্বিক উন্নয়নে সাড়া দেওয়ার অংশ হিসেবে, কৃষি খাত এবং উৎপাদন খাতের জন্য কৌশলগত রোডম্যাপ গঠনে কাজ করছে।

অনুষ্ঠানের প্রথমদিন সাধারণ পরিষদে সম্ভাব্য রোডম্যাপ ও এর কৌশল নিয়ে আলোচনা এবং দ্বিতীয় দিনে ডি-৮ মন্ত্রী পর্যায়ে তা উপস্থাপন করা হবে।

পরে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব দেওয়া হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন।

বিশেষ অতিথি থাকবেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম এবং ডি-৮-এর সেক্রেটারি জেনারেল রাষ্ট্রদূত ইসিয়াকা আব্দুল কাদির ইমাম।

এছাড়া ৮ সদস্য দেশের পক্ষ থেকে ৪০ জনের অধিক প্রতিনিধি অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। আগত দর্শনার্থীদের জন্য এক্সপো জোনে ‘বিল্ড ইন বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন’-এ বাংলাদেশের স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের স্টল থাকবে। আগামীকাল এক্সপো শেষ হবে।

সূত্র : যুগান্তর
এন এ/ ২৬ জুলাই

Back to top button