জাতীয়

সংশ্লিষ্টতা না থাকা সত্বেও বিদেশ প্রশিক্ষণে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা

রাশেদুল হাসান

ঢাকা, ১৭ জুলাই – কাজে সংশ্লিষ্টতা না থাকলেও অধীনস্থ সংস্থা যেমন ওয়াসা, সিটি করপোরেশন ও এলজিইডির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে বেশিরভাগ বিদেশ প্রশিক্ষণ ও সফরে অংশ নেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। মন্ত্রণালয়টির বিদেশ সংক্রান্ত অনুমোদনপত্র পর্যালোচনা করে এ তথ্য পাওযা গেছে। বিদেশ প্রশিক্ষণ ও স্টাডিট্যুরে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের না রাখলে এগুলোর অনুমোদন পেতে ঝামেলা হয়, তাই তাদের রেখেই প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয় বলে অভিযোগ করেছেন অধীনস্থ সংস্থার অনেক কর্মকর্তা।

জানা যায়, সিটি করপোরেশনের রাস্তার বাতি পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ, ময়লার যান ও যন্ত্রপাতি চালানোর প্রশিক্ষণ কিংবা ওয়াসার পানি জীবাণুমুক্ত করতে যন্ত্র কিনতে পরিদর্শন, এমনকি পৌরসভার মেয়রদেরও বিদেশে প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।

বৃহস্পতিবার (১৪ জুলাই) চট্টগ্রাম ওয়াসার একটি দল পানি জীবাণুমুক্ত করতে যে যন্ত্র কেনা হচ্ছে, তা দেখতে ও পরীক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্র যান । এটি একটি কারিগরি বিষয় হলেও, সফরে থাকছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খাইরুল ইসলাম।

এছাড়া স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের একটি প্রকল্পে ‘নগর পরিকল্পনা’ শীর্ষক একটি প্রশিক্ষণের জন্য গত মে মাসের ১১ তারিখ যুক্তরাজ্য সফরের অনুমতি দেয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। তবে এই সফরে কোনও নগর পরিকল্পনাবিদ ছিলেন না। বরং অধিদফতরের প্রকৌশলীদের সঙ্গে সফরের অনুমোদন পেয়েছেন যুগ্মসচিব মো. জসিম উদ্দিন।

অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের একটি দল এলইডি বাতি পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শিখতে গত ১-৯ জুলাই নেদারল্যান্ড ভ্রমণ করে। রাস্তায় বাতির কাজ শিখতে দলটির সঙ্গে ভ্রমণ করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মো জহিরুল ইসলাম।

এর আগে, মে মাসে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ক্রয়কৃত লোডার মেশিনের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ শিখতে দেশের বাইরে যান ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের একটি দল। সেই প্রশিক্ষণের কর্মকর্তাদের তালিকায় ছিলেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো শরীফুল আলম তানভীর।

এরকম প্রায় প্রতিটি সংস্থার বিদেশ প্রশিক্ষণ ও সফরে থাকেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের এক প্রকৌশলী বলেন, ‘তালিকায় মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের না রাখলে প্রশিক্ষণের অনুমোদন পাওয়া কঠিন হয়। তাই প্রস্তাব লেখার আগেই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে মন্ত্রণালয়ের কে যাবেন তার নাম দেওয়া হয়। তারপর প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।’

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অপর একজন প্রকৌশলী বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের অধীনস্থ সংস্থার বিদেশ সফরে ভাগ বসানো দীর্ঘ দিনের রেওযাজ।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা মোহাম্মদ মেজবাহ্ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘আপনার কথার সঙ্গে একমত হতে পারছি না, আবার দ্বিমতও করতে পারছি না। কারণ জিও (গভর্নমেন্ট অর্ডার) আমার হাতে নেই। আর দ্বিতীয়ত এ প্রশিক্ষণগুলো হয় দক্ষতা উন্নয়নের জন্য, স্পেসিফিকেলি এগুলো টেকনিক্যাল বিষয়ে হয়। সেক্ষেত্রে এসব বিষয়ে আমাদের দেখার ও জানার সুযোগ আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সংস্থাগুলোগুলোতে যে টেকনিক্যাল লোকগুলো কাজটা করেন তাদের তত্ত্বাবধান করে মন্ত্রণালয়, বিশেষ করে কর্মকর্তারা। তত্ত্বাবধান করতে গেলে ওই কাজগুলো সর্ম্পকে ধারণা থাকার প্রয়োজন আছে। এটা একটা প্রতিষ্ঠিত প্রয়োজনীয়তা। শুধুমাত্র কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন লোকেরা প্রশিক্ষণ নেবেন, তবে তারা কী প্রশিক্ষণ নিলো, সে বিষয়গুলো কীভাবে নিষ্পন্ন হলো, তা দেখভাল করতে ডেস্ক লেভেলের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার দরকার আছে। তবে আমি বলবো না সিনিয়রদেরও প্রশিক্ষণে যাওয়ার দরকার আছে।’

এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘প্রশিক্ষণের নামে বিদেশে যাওয়ার সুযোগকে যে ক্রমবর্ধমান হারে ক্ষমতার কাছাকাছি এক শ্রেণির কর্মকর্তারা প্রমোদ ভ্রমণসহ নিজেদের সুবিধা অর্জনের লাইসেন্সে রূপান্তর করেছেন, এটি তারই একটি উদাহরণ।’

সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন
এন এ/ ১৭ জুলাই

Back to top button