বলিউড

যে কারণে ভেঙে যায় দিলীপ কুমার ও মধুবালার প্রেম

মুম্বাই, ১৪ জুলাই – মধুবালার সঙ্গে দিলীপ কুমারের সম্পর্ক নিয়ে বহু গল্প ও কথকতা তৈরি হয়েছে। তাদের গল্পটা সিনেমার তুলনায় কম কিছু না। রোমান্স ছিল, মন-বাগানে ফুল ফোটার ব্যাপার ছিল। তেমনি ছিল ট্র্যাজেডি। গল্পটা হূদয় ভাঙার। সবাই সাধারণভাবে জানে মধুবালার বাবা চাননি বিয়েটা হোক। তিনি দিলীপ কুমারকে পছন্দ করতেন না। কিন্তু বিষয়টা মূলত তেমন ছিল না। মধুবালার বোন মধুর ভূষণের মতে একটি কোর্ট কেস থেকে এ দ্বন্দ্বের শুরু।

গল্পের বিষয়টি শুরু ‘নয়া দওর’ (১৯৫৭) সিনেমা থেকে। দিলীপ ও বৈজয়ন্তীমালা অভিনীত সিনেমাটি কাল্ট ক্ল্যাসিকের মর্যাদা পেয়েছে। গানগুলো এখনো বাজে উপমহাদেশের ঘরে ঘরে। কিন্তু এ সিনেমার নায়িকা প্রথমে ছিলেন মধুবালা। ১০ দিন শুটিং করার পর জানা যায় সিনেমার জন্য ইউনিটসহ সবাইকে আউটডোর শুটিংয়ে যেতে হবে। কিন্তু মধুবালার আউটডোর শুটিংয়ের ব্যাপারে তার বাবা আপত্তি জানান। বিআর চোপড়া মধুবালাকে বাদ দিয়ে বৈজয়ন্তীমালাকে নায়িকা হিসেবে কাস্ট করলে আতাউল্লাহ খান মধুবালার হয়ে পরিচালকের বিরুদ্ধে মামলা করেন। আদালতে দিলীপ কুমার মধুবালার বিপক্ষে সাক্ষ্য দেন। বিআর চোপড়া মামলায় জিতেছিলেন আর ঘটনাটি দিলীপ-মধুবালার মধ্যে একটা কাঁটা বিঁধিয়ে রাখে।

কিন্তু এমন ঘটনার পরও দিলীপ কুমারের সঙ্গে মধুবালার সম্পর্ক ভেঙে যায়নি। আর মধুর ভূষণের মতে, মামলাটা না হলে তাদের বিয়ে হয়েই যেত। এর পরও হতে পারত যদি দিলীপ কুমার তার সেই সাক্ষ্যের জন্য মধুবালার বাবার কাছে দুঃখ প্রকাশ করতেন। মধুর জানান, মধুবালার পক্ষ থেকে দিলীপ কুমারকে বারবার বলা হয়েছিল যেন তিনি (দিলীপ) একবার দুঃখ প্রকাশ করেন। মধুবালা বলতেন, ‘দেখো, এমন করলে আমাদের জীবনটা নষ্ট হয়ে যাবে।’ দিলীপের উত্তর হতো, ‘তুমি এমন জেদ কেন করছ?’

মধুবালার ক্যারিয়ার, সফলতার পেছনে তার বাবা আতাউল্লাহ খানের অবদান ছিল। এমনকি আউটডোর শুটিংয়ে বাধা দেয়ার কারণ মধুবালার হূদযন্ত্রের অসুখ। মধুবালা চাইলেই বাবার অবাধ্য হয়ে প্রেমিককে বিয়ে করতে পারতেন কিন্তু সেটা আতাউল্লাহ খানের অসম্মান হতো। মধুবালা বাবার মন ভাঙতে চাননি। দিলীপ কেন এমন জেদ করেছিলেন তা এক রহস্য। কেননা মধুর ভূষণের ভাষায়, ‘তিনি (দিলীপ কুমার) ছিলেন অত্যন্ত চমত্কার একজন মানুষ।’ কিন্তু সে চমত্কার মানুষটিই মধুবালার মন ভাঙার কারণ হন।

এম এস, ১৪ জুলাই

Back to top button