বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

চলতি বছর টিকটক করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ১০ জন

হিটলার এ. হালিম

চলতি বছরে শর্ট ভিডিও মেকিং প্ল্যাটফর্মে টিকটক তৈরি করতে গিয়ে বাংলাদেশের অন্তত ১০ তরুণ-তরুণী প্রাণ হারিয়েছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন।

সংগঠনটি বলছে, কয়েক বছর ধরে চীনা শর্ট ভিডিও মেকিং প্ল্যাটফর্ম টিকটক’র অপব্যবহার এতটা বেড়েছে, যা বর্তমান প্রজন্মের তরুণ তরুণীদের মাঝে মৃত্যুফাঁদ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

একইসঙ্গে সংগঠনটি টিকটকের ‘ব্ল্যাক-আউট চ্যালেঞ্জ’-এর প্ররোচনায় টিকটক তৈরি করতে গিয়ে বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীরা মৃত্যুর মুখে পড়ছে কিনা তাও তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

প্রসঙ্গত, ব্ল্যাক-আউট চ্যালেঞ্জ হচ্ছে এমন ধরনের অপশন, যেখানে তরুণ-তরুণীকে তার বেল্ট, অথবা অন্য কোনও মাধ্যম ব্যবহার করে ফাঁসিতে ঝুলতে বা আত্মহত্যা করতে প্ররোচনা দেয়।

টিকটকে ব্ল্যাক-আউট চ্যালেঞ্জ বিষয়ে জানতে চাইলে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, আমি আজ (বুধবার) টিকটকের সঙ্গে কথা বলেছি। ওরা কয়েক মিনিটের মধ্যে আমাকে জানায়, ব্ল্যাক-আউট চ্যালেঞ্জ টিকটকের কোনও প্রোডাক্ট নয়। কেউ কেউ ব্যক্তিগতভাবে এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে এটা করে থাকতে পারে। আমি ওদের জানিয়েছি, টিকটক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে যাতে কেউ এটা করতে না পারে সেটার ব্যবস্থা নিতে। তারা আমাকে আশ্বস্ত করেছে, টিকটক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে কেউ এটা করতে পারবে না। তারা নিয়মিত মনিটর করবে।

মন্ত্রী জানান, টিকটককে এতদিন বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এখন তাদের নিয়মিত মনিটর করা হয়। টিকটক এখন প্রতিদিন বাংলাদেশকে রিপোর্ট দেয়। মন্ত্রী জানান, আগামী ২৬ জুলাই টিকটক বিটিআরসিতে একটি কর্মশালা করবে। কর্মশালায় সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডাররা উপস্থিত থাকবেন।

এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, টিকটককে জানানো হয়েছে টিকটকে ব্ল্যাক-আউট চ্যালেঞ্জ যদি থাকে তাহলে বাংলাদেশে এটি বন্ধ করে দেওয়া হবে।

বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছিলাম টিকটককে নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহির মধ্যে আনার। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দাখিল করা হয়েছে। কিন্তু কোনও কিছুতেই টিকটককে জবাবদিহির আওতায় ও নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না কেন তা আমাদের কাছে বোধগম্য নয়। টিকটক প্ল্যাটফর্মে ব্ল্যাক-আউট চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে বিভিন্ন দেশেও প্রচুর অভিযোগ রয়েছে। ইতোমধ্যে ইতালি, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রিয়ায় ব্ল্যাক-আউট চ্যালেঞ্জ’র কারণে তরুণদের মৃত্যু হয়েছে বলে অনেক তরুণ-তরুণী ও অভিভাবক টিকটকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

টিকটক ২০২১ সালের চতুর্থ প্রান্তিকের (অক্টোবর-ডিসেম্বর) রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা গেছে, কমিউনিটি গাইডলাইন লঙ্ঘনের অভিযোগে বাংলাদেশ থেকে এ সময়ে ২৬ লাখ ৩৬ হাজার ৩৭২টি ভিডিও সরানো হয়েছে। ২০২১ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে সবচেয়ে বেশি ভিডিও সরানো হয়েছে বাংলাদেশ থেকে।

জানা যায়, গত ৮ জুলাই নোয়াখালীর চাটখিলে টিকটক ভিডিও বানানোর সময় অসাবধানতাবশত পা পিছলে গেলে সানজিদা আক্তার নামে ১১ বছর বয়সী এক কিশোরীর মৃত্যু হয়। গত ১১ জুলাই কুমিল্লায় চলন্ত ট্রেনের ছাদে টিকটক ভিডিও তৈরি করতে গিয়ে পা পিছলে মেহেদী হাসান নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। মোটরসাইকেল চালিয়ে টিকটক ভিডিও বানাতে গিয়ে এ বছরের ৫ জানুয়ারি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন জয়পুরহাটের কালাই পৌরসভার মেয়রের ছেলে। টিকটক হ্যাংআউটে যোগাযোগ, তারপর ভারতে তরুণী পাচারের মতো ঘটনাও ঘটেছে। নারায়ণগঞ্জে টিকটক ভিডিও বানাতে গিয়ে ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যু হয়েছে এক তরুণের। গত ২২ মে নীলফামারীর সৈয়দপুরে টিকটক ভিডিও বানাতে গিয়ে খরখরিয়া নদীতে ডুবে মৃত্যু হয়েছে এক কিশোরের। নাটোরের চন্দ্রকোলা এস আই উচ্চ বিদ্যালয়ে টিকটক করার অভিযোগে তিন ছাত্রকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ধরনের অসংখ্য দুর্ঘটনা রয়েছে টিকটক ভিডিও তৈরি করতে গিয়ে।

এম ইউ/১৩ জুলাই ২০২২

Back to top button