কুড়িগ্রাম

এক টুকরো কোরবানির মাংস জোটেনি যে গ্রামে

কুড়িগ্রাম, ১২ জুলাই – কুড়িগ্রামে বন্যায় বিপর্যস্ত অনেক পরিবারে ছিল না ঈদের কোনো আমেজ। কোরবানির এক টুকরা মাংসের দেখাও পাননি তারা। তেমনই এক গ্রাম কুড়িগ্রাম সদরের যাত্রাপুর ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র নদের অববাহিকার দক্ষিণ ভগপতিপুর। এ গ্রামের প্রায় ১৫০ পরিবারের বাস।

সরেজমিনে দেখা যায়, দ্বীপের মতো দেখতে গ্রাম এ দক্ষিণ ভগবতীপুর। চারদিকে থই থই পানি। নৌকা ছাড়া যাওয়ার কোনো উপায় নেই এ গ্রামে। এখানে ১৫০ পরিবারের আশ্রয়। রয়েছে একটি গুচ্ছ গ্রামও।

গ্রামে নৌকা ভিড়লে ছুটে আসতে দেখা যায় শিশু-কিশোর-বৃদ্ধদের। তাদের কাছে নৌকা মানে ত্রাণ পাওয়ার আশায়। তাদের চোখে-মুখে ক্লান্তি আর হতাশার ছাপ। চোখের দিকে যেন তাকানো যায় না। ঈদ তাদের জীবন থেকে ভেসে গেছে বন্যার পানিতে। তারা জানাল, অন্যবার ঈদের আগ থেকে প্রস্তুতি থাকলেও এবার কিছুই করা যায়নি। সকালে সেমাই খেয়ে ঈদ জামাতে যাওয়ার সৌভাগ্য হয়নি, কোরবানির মাংস চোখেও দেখেনি।

সেখানকার বাসিন্দা আবুল কালাম শেখ নামের একজন বলেন, আমাদের এ এলাকাটা একদম হতদরিদ্র। এ এলাকায় কোরবানি যে কি জিনিস গত কয়েক বছর শুনি না। ঈদে এখানকার মানুষ কোরবানির মাংস খাইছে কি না আমি জানি না। তবে ধারণা করি কেউ খেতে পারেনি। অন্যান্য এলাকায় শুনছি বেসরকারিভাবে কোরবানির গরু দেওয়া হয়েছে। এ গ্রামে কেউ গরু দেয় নাই, কোরবানিও হয় নাই।

ওই গ্রামের ছালেয়া বেগম বলেন, ‘বন্যায় বাড়ি-ঘর ভেসে যাওয়ায় আমরা এ গ্রামে এসে আশ্রয় নিছি। পানির জন্য বর্তমানে কোনো কামাই-রোজগার নাই। হামার স্বামীর কোনো জমিন নাই। বাড়ির লোকজন নদীত মাছ ধরে তাহে দিয়া কোনোরকম ভাবে চলছি। অভাবের জন্য কিছু করবার পাই না। হামার এই দেশে কোরবানি নাই। ঈদের হামরা কোরবানির গোশত খাইতে পারি নাই’।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মেম্বার রায়হান আলী মন্ডল বলেন, আমার ওয়ার্ডের এই গ্রামটির নাম দক্ষিণ ভগপতিপুর। এখানে একটি গুচ্ছ গ্রামসহ প্রায় ১৫০ পরিবারের বসবাস। এখানকার সবাই দিনমজুরের কাজ করে কোনোরকমে জীবন বাঁচান। এ এলাকায় সচ্ছল পরিবার না থাকায় এখানে কোরবানি হয় না। কোরবানি না হওয়ায় এ বছরও তারা কোরবানির মাংস খেতে পারেনি।

এ বিষয়ে সদরের যাত্রাপুর ইউনিয়নের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. আব্দুল গফুর বলেন, এ বছর বন্যার কারণে আমার ইউনিয়নের অনেক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের কথা চিন্তা করে বেসরকারিভাবে কয়েকটি স্থানে কোরবানির ব্যবস্থা হয়েছে। তবে দক্ষিণ ভগপতিপুর এলাকায় কোরবানির ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। সমাজের দানশীল মানুষজন এগিয়ে আসলে হয়তো বা ওই চরটির মানুষের মুখে কিছুটা হাসি ফুটতো।

সূত্র: দেশ রূপান্তর
এম ইউ/১২ জুলাই ২০২২

Back to top button