ইউরোপ

রাশিয়ায় প্রথমবার মাঙ্কিপক্স শনাক্ত

মস্কো, ১২ জুলাই – রাশিয়ায় প্রথমবার মাঙ্কিপক্স শনাক্ত হয়েছে। ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশে সফর শেষ করে দেশে ফেরার পর এক ব্যক্তির দেহে মাঙ্কিপক্সের অস্তিত্ব ধরা পড়েছে। মঙ্গলবার স্থানীয় কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। খবর এএফপির।

স্বাস্থ্য বিষয়ক পর্যবেক্ষক সংস্থা রোসপোট্রেবনাদজোর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এক তরুণের দেহে মাঙ্কিপক্সের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। সম্প্রতি তিনি ইউরোপীয় দেশগুলোতে ভ্রমণ করে ফিরেছেন। শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়ায় তিনি চিকিৎসা নিতে গেলে তার দেহে মাঙ্কিপক্স শনাক্ত হয়।

তবে তার দেহে মৃদু সংক্রমণ ধরা পড়েছে এবং বর্তমানে তিনি আইসোলেশনে রয়েছেন বলে জানানো হয়। সম্প্রতি তার সংস্পর্শে আসা লোকজনকে চিকিৎসকরা পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।

গত মে মাস থেকেই পশ্চিম ও কেন্দ্রীয় আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে এই ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে। পরবর্তীতে ব্রিটেন, স্পেন, জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে।

নাক, মুখ, চোখের পাশাপাশি আক্রান্তের পোশাক থেকেও সংক্রমিত হতে পারে এই ভাইরাস। এই ভাইরাসটি খুবই সংক্রামক বলে সতর্ক করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি এক বিশেষ ধরনের বসন্ত। জলবসন্ত বা গুটিবসন্তের প্রতিকার থাকলেও এই ভাইরাস এতই বিরল যে, এখনো পর্যন্ত এর নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসাপদ্ধতি জানতে পারেননি চিকিৎসকরা।

মূলত পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকার কিছু দেশে এই ভাইরাসের খোঁজ মেলে। তবে নাম ‘মাঙ্কিপক্স’ হলেও একাধিক বন্যপ্রাণির মাধ্যমে ছড়াতে পারে এই ভাইরাস। এটি সবচেয়ে বেশি ছড়ায় ইঁদুরের মাধ্যমে।

এই ভাইরাসের উপসর্গ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাঙ্কিপক্সে আক্রান্তদের শরীরে প্রাথমিক উপসর্গের মধ্যে জ্বর, মাথাব্যথা, পিঠ ও গায়ে ব্যথার মতো লক্ষণ থাকে। এ থেকে হতে পারে কাঁপুনি ও ক্লান্তি।

এর পাশাপাশি দেহের বিভিন্ন লসিকা গ্রন্থি ফুলে ওঠে। সঙ্গে ছোট ছোট ক্ষতচিহ্ন দেখা দিতে থাকে মুখে। ধীরে ধীরে তা পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞদের দাবি, আক্রান্ত ব্যক্তির আশেপাশে থাকা ব্যক্তির মধ্যে সহজেই ছড়িয়ে পড়তে পারে এই ভাইরাস।

শ্বাসনালি, ক্ষতস্থান, নাক, মুখ কিংবা চোখের মাধ্যমে এই ভাইরাস প্রবেশ করতে পারে সুস্থ ব্যক্তির দেহে। এমনকি আক্রান্তের ব্যবহার করা পোশাক থেকেও ছড়ায় সংক্রমণ।

সূত্র: জাগো নিউজ
এম ইউ/১২ জুলাই ২০২২


Back to top button
🌐 Read in Your Language