চট্টগ্রাম

পটিয়ায় বাসচাপায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬

চট্টগ্রাম, ১২ জুলাই – চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে বাসচাপার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ছয় জন। এরমধ্যে পাঁচ জন অটোরিকশার যাত্রী। অপরজন বাস যাত্রী বলে ধারণা করা হচ্ছে। সোমবার (১১ জুলাই) রাত ৮টার দিকে পটিয়া উপজেলার ভাইয়ারদিঘীর পাড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বাসচাপায় অটোরিকশাটিদুমড়ে-মুচড়ে গেছে। দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে পাঁচ জন পুরুষ ও একজন নারী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা রিলাক্স পরিবহনের একটি বাস ভাইয়ারদিঘী এলাকার পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অটোরিকশাকে চাপা দেয়। এতে অটোরিকশাতে থাকা পাঁচ জন যাত্রী নিহত হন। দুর্ঘটনার এক পর্যায়ে যাত্রীবাহী বাসটি উল্টে খাদে পড়ে যায়। এতে বাসেরও কয়েকজন যাত্রী আহত হন। আহত বাস যাত্রীদের উদ্ধার করে প্রথমে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। সেখানে এক বাস যাত্রীকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। আহত কয়েকজনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পটিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের লিডার প্রদীপ ত্রিপুরা বলেন, ‘দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের টিম উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। এতে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় উল্টে যাওয়া বাস যাত্রীদের উদ্ধার করা হয়। আহত বাস যাত্রীদের স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। ঘটনাস্থলে অটোরিকশার পাঁচজন মারা যান।’

পটিয়া ক্রসিং হাইওয়ে থানার ওসি মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, দুর্ঘটনায় ছয় জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচ জন পুরুষ এবং একজন নারী। চার জনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। এরা হলেন রেজাউল করিম (৪৫), সাব্বির হোসেন (২৮), শুভ (২৭) ও আমান (৪২)।

এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। এরমধ্যে শাহ আলম (৪০) ও সুখি আকতার (২৯) নামে দু’জনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল করেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।

পটিয়া থানার ওসি রেজাউল করিম বলেন, বাস-অটোরিকশার মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই পাঁচ জন নিহত হন। আহতদের প্রথমে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসক একজনকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে সেখান থেকে গুরুতর আহত কয়েকজনকে চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সভ্যচাচি নাথ বলেন, ‘দুর্ঘটনা আহত আট জনকে হাসপাতালে আনা হয়। এরমধ্যে একজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। তার নাম-ঠিকানা পাওয়া যায়নি। চার জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহত তিন জনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আলাউদ্দিন তালুকদার বলেন, ‘দুর্ঘটনায় আহত দু’জন চমেক হাসপাতালে আনা হয়েছে। এরমধ্যে একজনের নাম শাহা আলম এবং অপরজনের নাম সুখি আকতার। তাদেরকে হাসপাতালের ২৬ নম্বর ও ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি দেওয়া হয়েছে।’

সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন
এম এস, ১২ জুলাই

Back to top button