পাবনা

ঈদ অজুহাতে চিকিৎসকশূন্য হাসপাতালে ক্ষুব্ধ এমপি

পাবনা, ১২ জুলাই – পাবনা জেনারেল হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা দেখে অতিরিক্ত সচিবের পর এবার ক্ষুব্ধ হলেন পাবনা-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্স।

ঈদের দ্বিতীয় দিন সোমবার (১১ জুলাই) দুপুরে হাসপাতালে রোগীদের খোঁজ নিতে হাসপাতাল ঝটিকা পরিদর্শনে যান তিনি। এ সময় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অনুপস্থিতি, অব্যবস্থাপনা, অপরিচ্ছন্নতা ও খাবারের নিম্নমান নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন সংসদ সদস্য।

গোলাম ফারুক প্রিন্স জানান, হাসপাতালটি শুধু সদর উপজেলা নয়, পাবনার প্রায় ৩০ লাখ মানুষের চিকিৎসায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। বিপদগ্রস্ত হয়েই মানুষ এ হাসপাতালে আসে। আর ঈদের দিনগুলোতে বিপদাপন্ন, সংকটে থাকা মানুষ আরও বেশি অসহায় বোধ করে। তাদের সাহস দিতে, মনোবল ধরে রাখতে প্রতি ঈদেই আমি হাসপাতাল পরিদর্শন করে রোগী ও স্বজনদের খবর নেই। সে ধারাবাহিকতায় সোমবার হাসপাতালে গিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে যা দেখেছি তাতে আমি চরম হতাশ। এক কথায় চিকিৎসক ও হাসপাতাল প্রশাসন দায়িত্ব জ্ঞানহীন আচরণ করেছেন।

এ সংসদ সদস্য আরও বলেন, গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে সরকারি হাসপাতালে সার্বক্ষণিক চিকিৎসা সেবা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও সোমবার গিয়ে আমি চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীদের অধিকাংশই অনুপস্থিত দেখেছি। এমনকি হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ওমর ফারুক মীরকে জানিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার পরও তিনি আসেননি। পুরো হাসপাতালে নোংরা, দুর্গন্ধ। ঈদের দিনও হাসপাতালে দেওয়া হয়েছে নিম্নমানের খাবার। দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছ থেকে সাধারণ মানুষের প্রতি এমন আচরণ অনাকাঙ্ক্ষিত, অপ্রত্যাশিত। আমার মনে হচ্ছে এ ব্যর্থ তাদেও নয় আমাদের। আমি এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে জানাবো।

গোলাম ফারুক প্রিন্স বলেন, সরকার সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে পাবনায় পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে। অত্যাধুনিক সিটি স্ক্যান, এক্সরে মেশিন সংযোজন করেছে। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে তা প্রায় সময় বন্ধ ও অকার্যকর থাকে। হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হিসেবে আমি হাসপাতালের মধ্যে ওষুধের দোকান, দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধ, যন্ত্রপাতিগুলা কার্যকর করা, অব্যবস্থাপনা, অপরিছন্নতাসহ বেশকিছু বিষয়ে জরুরি নির্দেশনা দিয়েছি। কিন্তু তার কোনোটিই বাস্তবায়ন হয়নি। এসব কারণে সরকারের দুর্নাম হচ্ছে। জনগণের কাছে সরকার, জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহি করতে হয়। স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বে অবহেলা আমরা মেনে নিতে পারি না। আমার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। আগামী বৈঠকে আমি এ সব বিষয়ে ব্যাখ্যা চাইবো।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ওমর ফারুক মীর বলেন, ‘সকালে হাসপাতালে চিকিৎসকরা রাউন্ড দিয়েছেন। এমপি পরিদর্শনের সময় আমি নামাজের জন্য বাইরে ছিলাম। ডিউটি ডক্টররাও হাসপাতালেই থাকার কথা। কিন্তু তারা কোথায় ছিলেন আমি সঠিক জানি না। আর ঈদে একদিন উন্নত খাবার দেওয়া হয়। সেটি ঈদের দিন দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকারি ছুটির দিন বলে বায়োমেট্রিক উপস্থিতি যন্ত্রেও হাজিরা নেওয়া হয়নি। তাই ঠিক কতজন অনুপস্থিত তা সঠিকভাবে জানানো সম্ভব নয়।’

এদিকে ৩ জুলাই পাবনা জেনারেল হাসপাতালে আসেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) সাইদুর রহমান। তিনি ওই দিন দুপুর ২টার দিকে সরাসরি পাবনা জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনে আসেন। বিকেল ৪টা পর্যন্ত টানা দুই ঘণ্টা তিনি হাসপাতালে অবস্থান করেন। হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা দেখে চরম ক্ষুব্ধ হন। দ্রুত এসব অব্যবস্থাপনা দূর করে চিকিৎসাসেবার মান বাড়াতে হাসপাতালের সহকারী পরিচালককে নির্দেশ দেন। এ সময় অতিরিক্ত সচিব বলেন, আপনি কাজ করতে না পারলে সরে যান।

সূত্র : জাগো নিউজ
এম এস, ১২ জুলাই

Back to top button