গাজীপুর

প্রেমের টানে শ্রীপুরে মার্কিন তরুণী

গাজীপুর, ১১ জুলাই – যুক্তরাষ্ট্র থেকে লিডিয়া লুজা নামে এক তরুণী প্রেমের টানে চলে এসেছেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী কুমারভিটা এলাকার যুবক ইমরান খানের কাছে। আজ সোমবার ভোরে তিনি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। এরপর ইমরানের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন।

লিডিয়া লুজা আজ ভোরে বিমানবন্দরে পৌঁছালে ইমরান খান তাকে স্বাগত জানান। তারপর বাড়িতে নিয়ে আসেন। ঈদের পরদিন ভিনদেশি তরুণীকে পরিবারের সদস্য হিসেবে পাওয়ায় ইমরানের পরিবারে ঈদ আনন্দ দিগুণ হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা স্টেটের বাসিন্দা লিডিয়া লুজা। তার বাবা মারা গেছেন। মা অন্য এখন সংসারের সদস্য। তারা দুই ভাই, এক বোন। ছোটবেলা থেকে লিডিয়া তার দাদুর কাছে বড় হয়েছেন। তিনি জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে চাকরি করতেন।

আর ইমরান খান গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার বরমী কুমারভিটা এলাকার মৃত জালাল উদ্দিন মাস্টারের ছেলে। তিনি ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সির শিক্ষার্থী। তিনি লিডিয়া লুজাকে ধর্মান্তরিত করে বিয়ে করেছেন। তাই লুজার নামের সঙ্গে স্বামীর পরিবারের উপাধি হিসেবে ‘খান’ শব্দটি যুক্ত হয়েছে।

লিডিয়া লুজা খান জানান, ফেসবুকের কল্যাণে তাদের পরিচয় হয়। প্রতিদিনের আলাপচারিতায় ইমরানকে ভালো লেগে যায় তার। পরে উভয় পরিবার রাজি হলে লিডিয়া বাংলাদেশে আসার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি ধর্মান্তরিত হয়ে বিয়ে করেন ইমরানকে।

বাংলাদেশ সম্পর্কে লিডিয়া বলেন, প্রকৃতির মতোই এ দেশের মানুষগুলো সহজ-সরল ও সুন্দর। তাই ইমরানও ভালো মানুষ। তবে শ্বশুরের এলাকার লোকজন ইংরেজি না জানার কারণে সবার সঙ্গে কথা বলতে একটু সমস্যা হচ্ছে।

এ বিষয়ে ইমরান খান জানান, গত জানুয়ারির শেষ সপ্তাহের ফেসবুকের মাধ্যমে তাদের পরিচয় হয়। একপর্যায়ে মাসখানেক পরেই লিডিয়া তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। প্রথমে তিনি বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। তিনি রাজি হলে মার্চ মাসের প্রথম দিকে লিডিয়া তুর্কি ট্রানজিট করে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন। মার্কিন নাগরিক হওয়ায় তার ধারণা ছিল ভিসা ছাড়াই বাংলাদেশে ঢুকতে পারবেন। পরে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ তাকে ফেরত পাঠিয়ে দেয়। পরে আজ ভোরে আবার এসে পৌঁছান বাংলাদেশে।

ইমরানের মা আনোয়ারা বেগম জানান, যুক্তরাষ্ট্রের মেয়েকে পুত্রবধূ হিসেবে পেয়ে তিনি খুশি। আর ধর্মান্তরিত হওয়ার পর তারা বিয়েতে আবদ্ধ হয়েছেন, তাই তিনি পারিবারিকভাবে মেনে নিয়েছেন।

সূত্র : আমাদের সময়
এম এস, ১১ জুলাই

Back to top button