জাতীয়

বঙ্গবন্ধুর ১৯ ফুট উঁচু ব্রোঞ্জের ভাস্কর্য হচ্ছে সোহরাওয়ার্দীতে

মফিজুল সাদিক

ঢাকা, ১১ জুলাই – সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। রাজধানীর ঐতিহাসিক এই স্থানটি ১৯৭১ সালে পরিচিত ছিল রেসকোর্স ময়দান হিসেবে। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে এই ময়দানে লাখো বাঙালির সম্মিলন ঘটে ৭ মার্চ। এই উত্তাল জনতার সামনে ভাষণ দেন বঙ্গবন্ধু। সেই স্মৃতি ধারণ করে ঐতিহাসিক ওই ভাষণের স্থানে বঙ্গবন্ধুর একটি ব্রোঞ্জের ভাস্কর্য নির্মিত হবে। এ ভাস্কর্যের উচ্চতা হবে ১৯ ফুট ৬ ইঞ্চি এবং বেদী ৬ ফুট ৯ ইঞ্চি।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৭ মার্চের সেই ঐতিহাসিক সমাবেশের পাশাপাশি আরও একটি স্মরণীয় ঘটনা ঘটে। মুক্তিযুদ্ধে বীর বাঙালির কাছে হেরে যাওয়ার পর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর তৎকালীন এই রেসকোর্স ময়দানেই আত্মসমর্পণ করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। তাদের আত্মসমর্পণের ওই স্থানেও সেই মুহূর্তের একটি ব্রোঞ্জের ভাস্কর্য হবে। এই ভাস্কর্যের উচ্চতা হবে ১৫ ফুট এবং বেদী ৮ ফুট।

এজন্য ‘ঢাকাস্থ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ (তৃতীয় পর্যায়)’ শীর্ষক একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এ প্রকল্পের আওতায় ওই দুটি ভাস্কর্যসহ নানা অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। ভাস্কর্য দুটির নকশা হয়ে গেছে। সংশোধিত প্রকল্পটি চূড়ান্তভাবে অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু হবে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) কামরুন নাহার বলেন, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্পের আওতায় বঙ্গবন্ধুর একটি ভাস্কর্য নির্মিত হবে। ভাস্কর্যের উচ্চতা হবে ১৯ ফুট ৬ ইঞ্চি এবং বেদী ৬ ফুট ৯ ইঞ্চি। ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ঐতিহাসিক আত্মসমর্পণের স্থানে আত্মসমর্পণের একটি ভাস্কর্য হবে। এই ভাস্কর্যের উচ্চতা হবে ১৫ ফুট এবং বেদী ৮ ফুট। আমরা এরই মধ্যে প্রকল্পের প্রস্তাবনা পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছি। কমিটি করে নকশা ফাইনাল করেছি। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলেই বাকি কাজ শুরু হবে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানায়, ‘ঢাকাস্থ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ (৩য় পর্যায়) ’ প্রকল্পটির মোট অনুমোদিত প্রাক্কলিত ব্যয় ২৬৫ কোটি ৪৪ লাখ টাকার বিপরীতে মে, ২০২২ পর্যন্ত অগ্রগতি হয়েছে ১১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। ২০২১-২২ অর্থবছরে এ প্রকল্পের অনুকূলে ৩৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে এবং মে, ২০২২ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৩২ কোটি ৪১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। প্রকল্পের আওতায় অন্যান্য অবকাঠামোর নির্মাণকাজ চলমান। অবকাঠামোর মধ্যে ভূগর্ভস্থ কার পার্কিং, ধারণ ক্ষমতা ৫০০টি, এর ছাদ ঢালাই সম্পন্ন হয়েছে, এন্ট্রি ও এক্সিট লুপ নির্মাণকাজ চলমান, ভৌত অগ্রগতি ৯৬ শতাংশ।

প্রকল্পের আওতায় কার পার্কিংয়ের উভয় পাশে শিশুপার্কের দর্শনার্থীদের চলাচলের জন্য আন্ডারপাস নির্মাণ কাজের ভৌত অগ্রগতি ৯০ শতাংশ, মসজিদের ফিনিসিং কাজ চলমান, সাবস্টেশন, জেনারেটর ভবন নির্মাণকাজের ভৌত অগ্রগতি ৮০ শতাংশ শেষ হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় গাড়ি পার্কিং- এরিয়ার উভয় পাশে ওয়াটার ফাউন্টেইন নির্মাণকাজের ভৌত অগ্রগতি ৮০ শতাংশ, উদ্যান এলাকায় সাতটি ফুড কিওস্ক নির্মাণকাজের ভৌত অগ্রগতি ৯৪ শতাংশ, ওয়াকওয়ে নির্মাণকাজের ভৌত অগ্রগতি ৫৬ শতাংশ, ওয়াটার রিজার্ভার নির্মাণকাজের ভৌত অগ্রগতি ৯০ শতাংশ।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানায়, চলমান নির্মাণকাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে নির্মাণ সংশ্লিষ্ট সব কাজ দ্রুততার সঙ্গে সম্পাদন করার তাগিদ দেওয়া হয়। প্রকল্পটি ২৬৫ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে জানুয়ারি ২০১৮ থেকে জুন ২০২২ পর্যন্ত মেয়াদে বাস্তবায়নাধীন। প্রকল্পটির পূর্ব নির্মাণকাজ গণপূর্ত অধিদপ্তরের মাধ্যমে বাস্তবায়ন হচ্ছে। এ পর্যায়ে প্রকল্পের কিছু খাতের ব্যয় বৃদ্ধি, কয়েকটি নতুন খাত সংযোজন ও ভাস্কর্য নির্মাণ করা হবে।

প্রকল্পের মেয়াদ জুন ২০২৪ পর্যন্ত বৃদ্ধিসহ মোট ব্যয় ৪৭ শতাংশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে প্রকল্পের মোট প্রস্তাবিত ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ৩৯০ কোটি ১২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। পুনঃনির্ধারিত ব্যয়ে প্রকল্পটির প্রথম সংশোধন প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পটির প্রথম সংশোধনের প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে ।

প্রকল্প সংশোধন এবং মেয়াদ বৃদ্ধি সম্পর্কে প্রকল্প পরিচালক (যুগ্ম-সচিব) মো. হাবিবুল ইসলাম বলেন, ভূগর্ভস্থ কার পার্কিং ও আন্ডারপাস এরিয়ার ভৌত নির্মাণকাজ ৪ হাজার ৭২৬ দশমিক ৭৭ বর্গফুট বৃদ্ধি পেয়েছে। ৭ মার্চ, ১৯৭১ এ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের ভাস্কর্য এবং ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১ এ পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের ভাস্কর্য রড-সিমেন্ট-কংক্রিটের পরিবর্তে সম্পূর্ণ ব্রোঞ্জের ভাস্কর্য নির্মাণ করা হবে। ফুড-কিওস্ক ও আরসিসি ওয়াকওয়ে নির্মাণকাজের পরিমাণ বৃদ্ধি ও ভূগর্ভস্থ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের সংরক্ষণ কাজের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়াসহ আনুষঙ্গিক কিছু কারণে প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে।

স্থাপত্য অধিদপ্তর এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রতিনিধি বলেন, উদ্যানে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ব্রোঞ্জের ভাস্কর্য নির্মাণে প্রায় ১৮ মাস সময় প্রয়োজন হবে এবং সার্বিক কার্যক্রম ২০২৪ মেয়াদে শেষ হবে।

১৯৭১-এ বঙ্গবন্ধুর মহান ঐতিহাসিক ৭ মার্চের উদাত্ত আহ্বান এবং পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পরাজয় ও আত্মসমর্পণের দলিল স্বাক্ষরের উজ্জ্বল স্মৃতিকে সংরক্ষণ, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের বিভিন্ন সময়ের আন্দোলন ও ঘটনাসহ মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা হবে।

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ, ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণ এবং ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর ভাষণের স্থান সংরক্ষণসহ আনুষঙ্গিক কাজ করা হবে।

সূত্র: জাগো নিউজ
এম ইউ/১১ জুলাই ২০২২

Back to top button