ঢাকা

ওমিক্রনের বিএ.৫ উপ-ধরনে ঢাকার মানুষ বেশি আক্রান্ত

ঢাকা, ০৫ জুলাই – মহামারি করোনাভাইরাসের ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের নতুন বিএ.৫ সাব-ভ্যারিয়েন্ট বা উপ-ধরনে রাজধানী ঢাকার বাসিন্দারা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র (আইসিডিডিআরবি)।

মঙ্গলবার (৫ জুলাই) নিজেদের ওয়েবসাইটে এক পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছে আইসিডিডিআরবি।

আইসিডিডিআরবি বলছে, গত ১৯ মে ঢাকায় প্রথম সন্দেহভাজন ওমিক্রন সাব-ভ্যারিয়েন্ট বিএ.৫ শনাক্ত হয়। এরপর গত প্রায় ছয় সপ্তাহে উপ-ধরনটি সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ঘটিয়েছে ঢাকায়। এ সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ জিনোম সিকোয়েন্সিং ব্যবহার করে ৫২টি কোভিড-১৯ পজিটিভের মধ্যে ৫১টি বিএ.৫ সাব-ভ্যারিয়েন্ট এবং একটি বিএ.২ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছিল।

আইসিডিডিআরবি আরও জানায়, ওমিক্রনের বিএ.৪ বা বিএ.৫ সাব-ভ্যারিয়েন্ট দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং এটি সংক্রমণ বাড়াচ্ছে। এ উপ-ধরনটি ভাইরাসের অতীত সংস্করণগুলির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য প্রস্তুত।

বাংলাদেশে ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টটি প্রথম ২০২১ সালের ৬ ডিসেম্বর শনাক্ত করা হয়েছিল। এরপর চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি আইসিডিডিআরবি এক প্রতিবেদনে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের তিনটি উপ-ধরন (সাব-ভ্যারিয়েন্ট) শনাক্তের তথ্য জানায়। এসব উপ-ধরন রাজধানীতে দ্রুত ছড়াচ্ছে বলে তখন জানানো হয়।

গত ২১ জুন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) জিনোম সেন্টারের একদল গবেষক দেশে ওমিক্রনের নতুন বিএ.৪/৫ (BA.4/5) নামের সাব-ভ্যারিয়েন্ট শনাক্তের তথ্য জানায়।

গবেষক দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশি দুজনের শরীরে করোনাভাইরাসের ওমিক্রন ধরনের নতুন সাব-ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে। জিনোম সেন্টারের একদল গবেষক যশোরের দুজন আক্রান্ত ব্যক্তির থেকে সংগৃহীত ভাইরাসের আংশিক (স্পাইক প্রোটিন) জিনোম সিকুয়েন্সের মাধ্যমে করোনার নতুন এ উপ-ধরনটি শনাক্ত করেন। যাদের একজনের বয়স ৪৪ বছর এবং অন্যজনের ৭৯ বছর। আক্রান্ত ব্যক্তিদের একজন করোনা প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের বুস্টার ডোজ এবং অন্যজন দুই ডোজ ভ্যাকসিন নিয়েছেন।

গত বছরের ১১ ডিসেম্বর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জিম্বাবুয়েফেরত দুই নারী ক্রিকেটার করোনার ওমিক্রন ধরনে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য জানিয়েছিল। এরও পাঁচদিন আগে গত ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের সর্বশেষ ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন শনাক্ত হয়। ওই সময় ৭৭ জন রোগীর নমুনা পরীক্ষা করে পাঁচজনের শরীরে নতুন এ ভ্যারিয়েন্ট পায় আইসিডিডিআরবি। বাকি ৭২ জনই ছিলেন ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত।

তবে চলতি বছরের শুরু থেকেই বদলে যায় চিত্রপট। ধীরে ধীরে ডেল্টা ভ্যারিয়ান্টের চেয়ে ওমিক্রনে শনাক্তের হার বাড়তে থাকে। এরইমধ্যে বিশ্বের অধিকাংশ দেশ ওমিক্রনের অভিঘাতে পড়েছে। বিজ্ঞানীরা শুরু থেকেই ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টটিকে ‘সুপারস্প্রেডার’ হিসেবে বর্ণনা করছেন।

সূত্র: জাগো নিউজ
এম ইউ/০৫ জুলাই ২০২২

Back to top button