জাতীয়

তিক্ততা পেছনে ফেলে ঢাকা-আঙ্কারা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গভীর হচ্ছে

আরিফুজ্জামান মামুন

ঢাকা, ০৫ জুলাই – আধুনিক তুরস্ক প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা মোস্তফা কামাল আতাতুর্কের আবক্ষ ভাস্কর্য বসছে ঢাকায়। রাজধানী কামাল আতাতুর্ক এভিনিউতে এই ভাস্কর্য বসছে। এ ছাড়া বনানীর পার্কটির নামকরণ করা হচ্ছে তুরস্কের প্রতিষ্ঠাতার নামে। দুই দেশের মধ্যেকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে বিভিন্ন উদ্যোগের অংশ হিসেবে এটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

আতাতুকের আবক্ষ ভাস্কর্য ও পার্ক উদ্বোধন এবং ডি-৮ সম্মেলনে যোগ দিতে ঢাকা আসছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসগ্লু। আগামী ২৬ তারিখ ঢাকায় আসার কথা রয়েছে তার। কূটনৈতিক সূত্র বিষয়টি জানিয়েছে।

এর আগে গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে আঙ্করায় তার একটি ভাস্কর্য স্থাপন করে তুরস্ক। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধুর নামে একটি পার্ক উদ্বোধন করা হয় সেই সময়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন স্বশরীরে উপস্থিত থেকে সেটি উদ্বোধন করেন।

তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কটা তিক্ত ছিল অনেকদিন। দুই দেশের রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের কিছু সফর হলেও সম্পর্কে একটা শীতলভাব বিরাজ করছিল। বিশেষ করে জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে তুরস্কের নাক গলানো ঢাকাকে এতটাই ক্ষুব্ধ করে যে বাংলাদেশ সরকার প্রকাশ্যে তুরস্ক বিরোধী শক্ত অবস্থান ব্যক্ত করে। সেই তিক্ততা ভুলে দুদেশের সম্পর্ক এখন অনেক ঘনিষ্ঠ। সন্ত্রাস দমন, নিরাপত্তা এবং মাদক পাচার রোধে বাংলাদেশ এবং তুরস্ক একসঙ্গে কাজ করতে রাজি হয়েছে।

এ ছাড়া মুসলিম বিশ্বে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে তুরস্কের মতো আর কোনো দেশ বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ায়নি। দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোগান রোহিঙ্গাদের দেখতে ঢাকায় পাঠিয়েছিলেন স্বয়ং তার স্ত্রীকে। তুরস্কের সহায়তায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফিল্ড হাসপাতালও চলমান। রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের পক্ষে শক্ত অবস্থান দুই দেশকে কাছাকাছি নিয়ে এসেছে।

এদিকে, আগামী ২৭ জুলাই ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ডি-৮ পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক। এখনো পর্যন্ত তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রী অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছেন বলে সূত্র জানিয়েছে।

বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ডি-৮ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক আয়োজন করতে যাচ্ছে জানিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘বৈশ্বিক মহামারি কেভিড-১৯ এর পুনরুদ্ধারের পর্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে ডি-৮ বৈঠকটি হতে যাচ্ছে। এটি আমাদের অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার একটি সুযোগ। এর মধ্যদিয়ে আমরা আমাদের বিদ্যমান বাণিজ্য সম্পর্ক আরও জোরদার এবং শক্তিশালী করার প্রয়াস চালাতে পারি। ডি-৮ বৈঠকে অংশগ্রহনকারী দেশগুলোর প্রতিনিধিদল সাইড লাইনে বিশেষ ব্যবসায়িক এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মিলিত হওয়ার সুযোগ পাবে, যা ডি-৮ এর ২৫তম প্রতিষ্ঠার স্মরণে আয়োজন করা হবে।’

সূত্র : আমাদের সময়
এম এস, ০৫ জুলাই

Back to top button