দক্ষিণ এশিয়া

শ্রীলঙ্কায় বাড়ল স্কুল বন্ধের মেয়াদ

কলম্বো, ০৪ জুলাই – অর্থনৈতিক সংকটে থাকা শ্রীলঙ্কায় আবারও বাড়ল স্কুল বন্ধের মেয়াদ। রোববার এক সপ্তাহ বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে এই সময়সীমা।

কারণ হিসেবে জানানো হয়েছে শিক্ষক এবং অভিভাবকদের কাছে বাচ্চাদের স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি নেই। জ্বালানি মন্ত্রী দেশের প্রবাসীদেরকে দেশে অর্থ পাঠানোর আবেদন করেন।

বিপুল বৈদেশিক ঋণের বোঝা মাথায় থাকা ভারত মহাসাগরের দ্বীপ রাষ্ট্রকে সরবরাহকারীরা কেউই ক্রেডিটে জ্বালানি বিক্রি করতে রাজি নয়। দেশে যে স্টক রয়েছে তা শুধুমাত্র কিছুদিন চলবে। যে জ্বালানি আছে তা স্বাস্থ্য, বন্দর কর্মী, গণপরিবহন এবং খাদ্য বিতরণ সহ প্রয়োজনীয় পরিষেবাগুলির জন্য সরবরাহ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী কাঞ্চনা উইজেসেকেরা বলেন, সরকার নতুন জ্বালানি মজুদের নির্দেশ দিয়েছে। ৪০,০০০ মেট্রিক টন ডিজেল নিয়ে প্রথম জাহাজ শুক্রবার পৌঁছাবে বলে মনে করা হচ্ছে এবং পেট্রল বহনকারী প্রথম জাহাজটি ২২ জুলাই আসবে।

আরও বেশ কিছু জ্বালানি আসার কথা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। কিন্তু তিনি বলেন, সরকার জ্বালানির জন্য ৫৮৭ মিলিয়ন ডলার জোগাড় করার চেষ্টা করছে। উইজেসেকেরা আরও বলেছে যে শ্রীলঙ্কা সাতটি জ্বালানি সরবরাহকারীর কাছে প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলার ধার করে রেখেছে।

গত মাসে, জ্বালানি সংকটের কারণে দেশব্যাপী সব স্কুল একদিনের জন্য বন্ধ করে রাখা হয়। শহরাঞ্চলে গত দুই সপ্তাহ স্কুল বন্ধ ছিল এবং আগামী শুক্রবার পর্যন্ত স্কুল বন্ধ থাকবে বলেই জানানো হয়েছে।

সরকার জানিয়েছে সোমবার থেকে দিনে তিন ঘন্টা দেশজুড়ে বিদ্যুৎ বন্ধ করা হবে। বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলিতে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছেনা বলেও জানিয়েছে তারা।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের রেমিট্যান্স, যা সাধারণত প্রতি মাসে ৬০০ মিলিয়ন ডলার হত তা জুন মাসে কমে ৩১৮ মিলিয়ন ডলার হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, দেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনকারী রেমিট্যান্স ২০২১ সালের প্রথম ছয় মাসে ছিল ২.৮ বিলিয়ন ডলার যা ২০২২ সালের একই সময়ের ৫৩ শতাংশ কমে হয়েছে ১.৩ বিলিয়ন ডলার।

শ্রীলঙ্কা তার জ্বালানি চাহিদার বেশিরভাগই প্রতিবেশী দেশ ভারতের কাছ থেকে পায়। সরকার জানিয়েছে তারা রাশিয়া এবং মালয়েশিয়ার সরবরাহকারীদের সঙ্গেও আলোচনা শুরু করেছে।

শ্রীলঙ্কাকে ২০২৬ সালের মধ্যে ২৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ পরিশধ করতে হবে। এর মধ্যে ২০২২ সালে বকেয়া প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার। এই বিদেশী ঋণের পরিশোধ স্থগিত করেছে তারা। দেশের মোট বৈদেশিক ঋণ ৫১ বিলিয়ন ডলার।

সূত্র : বাংলাদেশ জার্নাল
এম এস, ০৪ জুলাই


Back to top button
🌐 Read in Your Language