শিক্ষা

পরীক্ষার খাতায় ‘আজকে আমার মন ভালো নেই’ লিখে অনুতপ্ত সেই শিক্ষার্থী

ঢাকা, ০২ জুলাই – ‘আজকে আমার মন ভালো নেই’ তিন মিনিটের একটি ভিডিওতে বলা এই উক্তি ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। নানা কারণে নানাভাবে মানুষ কথাটি বলছে। এদের সিংহভাগই কথাটি বলছে রসিকতার ছলে এবং বিদ্রূপার্থে। কিন্তু এই রসিকতাই যে কাল হয়ে দাঁড়াবে ভাবতে পারেননি তানভীর মাহতাব।

পরীক্ষার উত্তরপত্রে ‘স্যার, আজকে আমার মন ভালো নেই’ লিখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের এই শিক্ষার্থী।

এরপর জল গড়িয়েছে বহুদূর। শাস্তির মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন তানভীর মাহতাব। নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার হাজিপুরে জন্ম ও বেড়ে ওঠা তানভীরের। বাবা মাহফুজুল হক কৃষক এবং মা শাহানারা আক্তার গৃহিণী। ছয় ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তানভীর বাবা-মায়ের ৬ষ্ঠ সন্তান। বাবা কৃষক হলেও সব সন্তানদের তিনি শিক্ষিত করে গড়ে তুলেছেন। তানভীরের বড় ভাই ওমর ফারুক ব্যাংক কর্মকর্তা, মেজ ভাই নাজিম উদ্দিন প্রবাসী, বড় বোন হাসিনা বেগম সরকারি প্রাইমারি স্কুল শিক্ষক, সেজ ভাই রাসেল আহমেদ পড়াশোনা করছেন চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে, আরেক ভাই পড়ছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে। তানভীর এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই ২০১০-২০২১ শিক্ষাবর্ষের ইংরেজি সাহিত্যের শিক্ষার্থী।

ছোটবেলা থেকেই তানভীর পড়াশোনায় মেধাবী। বিশ্ববিদ্যালয়ের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগে ১৮তম স্থান লাভ করেন তিনি। হতে চান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক।

ঘটনার আদ্যোপান্ত সম্পর্কে তানভীর রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘ফেইসবুকে ‘আজকে আমার মন ভালো নেই’ ভিডিওটা ভাইরাল হলে আমার মাথায় কি যে হলো, আমি পরীক্ষার খাতায়ও ‘স্যার, আজকে আমার মন ভালো নেই’ লিখে ফেইসবুকে পোস্ট দেই। পরে বুঝতে পারি কাজটি আমার ঠিক হয়নি। এরপর পোস্ট ডিলিট করে দিলেও সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।’

‘এরপর অনেকে কটূক্তি করেছে এবং হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে এ ঘটনায়। বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও আমাকে ডেকেছে এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে। কিন্ত আমি সত্যি বুঝতে পারিনি বিষয়টি এত দূর গড়াবে। আমার জীবনের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াবে।’ বলেন তানভীর মাহতাব।

তানভীর মিডটার্ম পরীক্ষা শেষে পাওয়া অতিরিক্ত উত্তরপত্র বিভাগে জমা না-দিয়ে বাসায় নিয়ে আসেন। সেই উত্তরপত্রে কথাটি লিখে নিজেই স্বাক্ষর দেন। ‘আমাদের মিডটার্ম পরীক্ষা চলাকালে (১২ থেকে ১৫ মে) পরীক্ষা শেষে পরীক্ষার হলে একটি অতিরিক্ত উত্তরপত্র পড়ে থাকতে দেখি এবং আমি সেটি সঙ্গে করে নিয়ে আসি। বিশেষ কোনো উদ্দেশ্যে আমি নিয়ে আসিনি। আমি এখন বুঝতে পারছি অতিরিক্ত উত্তরপত্র বিভাগে জমা না-দিয়ে বাসায় নিয়ে আসা আমার উচিত হয়নি। এবং মজার ছলে উত্তরপত্রটিতে স্বাক্ষর করে পোস্ট দেওয়া উচিত হয়নি।’ বলেন অনুতপ্ত এই শিক্ষার্থী।

এ ঘটনায় তানভীর এখন লজ্জিত ও অনুতপ্ত বলে জানান। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন সম্পর্কে ধারণা ছিল না উল্লেখ করে ভাইরাল হওয়া এই শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমাকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ক্ষমা করে আমার স্বপ্নপূরণের সুযোগ করে দিন।’

এ দিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোস্তফা কামাল বলেন, ‘তানভীরের ব্যাপারে তদন্ত চলছে। ফলে তার শাস্তির ব্যাপারে এখনই কিছু বলা যাবে না। আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

সূত্র : রাইজিংবিডি
এম এস, ০২ জুলাই

Back to top button