সিলেট

সিলেটে যে কারণে ধীরগতিতে কমছে বন্যার পানি

সিলেট, ০২ জুলাই – দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বন্যায় ভাসছে সিলেট ও সুনামগঞ্জ। সুরমা, ধলাই, পিয়াইন, গোয়াইন, সারি ও লোভা নদী তীরবর্তী উপজেলাগুলো থেকে বন্যার পানি অনেকাংশে নেমে গেলেও এখনো ভাসছে কুশিয়ারা তীরবর্তী উপজেলাগুলো। বন্যা দীর্ঘস্থায়ী রূপ নেওয়ায় ভাবিয়ে তুলছে সংশ্লিষ্টদের। ধীরগতিতে পানি নামার কারণ হিসেবে গবেষকরা যেসব বিষয় চিহ্নিত করেছেন তার মধ্যে রয়েছে- নদীর নাব্য সংকট, হাওরে অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ ও হাওর ভরাট হয়ে যাওয়া।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, সিলেটে ১৫ জুন বন্যার আঘাত শুরু হয়। এরপর দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও জেলা-উপজেলার অনেক জায়গা এখনো নিমজ্জিত হয়ে আছে। বন্যার পানি এত ধীরগতিতে নামার বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে সংশ্লিষ্টদের।

বন্যার পানি নামতে ধীরগতির কারণ প্রসঙ্গে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুর ও পরিবেশ কৌশল বিভাগের অধ্যাপক মুশতাক আহমদ গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘সাধারণত সিলেটের পানি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার কালনী নদী দিয়ে ভৈরব হয়ে মেঘনায় গিয়ে মেশে। গত কয়েক দশকে কালনী ভরাট হয়ে পানিপ্রবাহের পথ অনেকটা রুদ্ধ হয়েছে। ভরাট হয়েছে হাওরও। তাই এখন বৃষ্টিপাত কমে এলেও বন্যার পানি সহজে নামছে না। কালনীর উজানে পানি ফুলে ফেঁপে বন্যার স্থায়িত্ব বাড়ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী আসিফ আহমেদের ভাষ্যমতে, আগে হাওরে যেভাবে পানি নামত, এখন সেভাবে নামছে না। সুনামগঞ্জের হাওরগুলোর যদি পানিধারণের ক্ষমতা আগের মতো থাকত, তবে সিলেটে পানি জমে থাকার সুযোগ পেত না। এ ছাড়া অনেক হাওর ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণ করায় পানি নামার সুযোগ না পেয়ে বন্যা দীর্ঘ হচ্ছে। ভবিষ্যতে বন্যার এ ভয়াবহতা এড়াতে সিলেটে নদী খনন করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

তবে নদী খনন যাতে কার্যকর হয় এবং নদী খনন করে মাটি যাতে আবার নদীর তীরেই ফেলে রাখা না হয় সেদিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলছেন হাওর ও পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজা। তিনি বলেন, ‘নদীর মাটি নদীতে ফেলে খনন নয়। কার্যকর নদী খননের উদ্যোগ নিতে হবে। এবার বন্যার ভয়াবহতা দেখে আমরা বুঝেছি, এমন বিপদ সামনে আরও আছে।’

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন
এন এ/ ০২ জুলাই

Back to top button