ইউরোপ

পুতিনকে নিয়ে জেলেনস্কির নতুন হুঁশিয়ারি

কিয়েভ, ৩০ জুন – ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বুধবার পশ্চিমাদের সামরিক জোটের নেতাদের হুঁশিয়ারি জানিয়ে বলেছেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এক বছরের মধ্যে একটি ন্যাটোর মিত্র দেশে আক্রমণ করতে পারেন। মাদ্রিদে ন্যাটো সম্মেলনে ভিডিও লিঙ্কে দেওয়া ভাষণে এই মন্তব্য করেন তিনি। মার্কিন সাময়িকী নিউজউইক এখবর জানিয়েছে।

মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া ন্যাটো সম্মেলনে এবার রাশিয়াকে নিয়ে আলোচনা হচ্ছে বেশি। সম্মেলনের ঘোষণায় ৩০ সদস্যের ন্যাটো জোট রাশিয়াকে সদস্য দেশগুলোর নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রত্যক্ষ হুমকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। জোটের মহাসচিব জেন্স স্টোলটেনবার্গ ইউক্রেনে পুতিনের আক্রমণকে ইউরোপে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা সংকট হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

সম্মেলনে ন্যাটো মিত্রদের জেলেনস্কি বলেছেন, যদি রাশিয়ার বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া না হয় তাহলে পুতিন ন্যাটোভুক্ত অন্য দেশে আক্রমণ চালাতে পারেন।

ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট বলেন, আগামী বছর পরিস্থিতি হয়ত আরও খারাপ হবে। শুধু যে ইউক্রেনের জন্য তা নয়, বেশ কয়েকটি দেশের জন্য খারাপ হতে পারে। সম্ভবত ন্যাটো সদস্যদের জন্য, তারা হয়ত রাশিয়ার আক্রমণের শিকার হবে। তখন এটি হবে আমাদের সবার ব্যর্থতা– ইউক্রেন ও ন্যাটো উভয়ের ব্যর্থতা।

ভাষণে জেলেনস্কি আরও বলেছেন, রাশিয়ার কৌশল খুব সরল। তারা সবকিছু ধ্বংস করছে। বাড়ি-ঘর, শপিং মল, স্কুল ও হাসপাতাল। ২৪ ফেব্রুয়ারির পর থেকে ২ হাজার ৮০০-এর বেশি ক্ষেপণাস্ত্র বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুকে নিশানা করে ছোড়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ইউক্রেনের ডনবাস অঞ্চল দখলে সফল হলেও রাশিয়া হয়ত থামবে না। তারা আমাদের শহরের পর শহর দখল করতে চায়। আমাদের পুরোপুরি দখল করতে চায়। এরপর পুরো ইউরোপ। ইউরোপকে রাশিয়ার নেতা নিজেদের সম্পদ হিসেবে মনে করেন, স্বাধীন রাষ্ট্র নয়। এটিই রাশিয়ার প্রকৃত লক্ষ্য।

জেলেনস্কি ন্যাটো নেতাদের কাছে প্রশ্ন রাখেন, এরপর পুতিনের টার্গেট কোন দেশ হতে পারে। বলেন, মলদোভা? নাকি বাল্টিক কোন দেশ? অথবা পোল্যান্ড? উত্তর হলো- সব দেশ।

জেলেনস্কি আরও বলেন, রাশিয়ার এই যুদ্ধ শুধু ইউক্রেনের বিরুদ্ধে নয়, এটি পুরো ইউরোপের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। ভবিষ্যতে বিশ্ব শৃঙ্খলা কেমন হবে সেজন্য এই যুদ্ধ।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন
এম ইউ/৩০ জুন ২০২২

Back to top button