দক্ষিণ এশিয়া

হিমশিম খাচ্ছে আফগান হাসপাতালগুলো

কাবুল, ২৫ জুন – হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকা আট বছর বয়সী শাকরিনার মুখ যন্ত্রণায় বেঁকে যাচ্ছে। পাশ ফিরে শোওয়ার চেষ্টা করতেই ব্যথা পেয়ে কাঁদছে সে। শাকরিনার শরীরে একাধিক হাড় ভেঙেছে। তার বাঁ পায়ে হাঁটু থেকে ব্যান্ডেজ করা হয়েছে।

পাশের বিছানা থেকে শাকরিনার মা মীরা হাত বাড়িয়ে দিয়ে তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

মীরার ডান চোখে প্রচণ্ড আঘাত লেগেছে। তার শরীরে আরো কয়েকটি আঘাত রয়েছে। আফগানিস্তানের পাকতিকা প্রদেশের গায়ান জেলার বাসিন্দা মীরা ও তার মেয়ে। তাদেরকে বাড়ির ধ্বংসাবশেষ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। ঘর ভূমিকম্পে ধ্বংস হওয়ার ছয় ঘন্টা পরে তাদের বের করা হয়।

‘আমি আমার অন্য মেয়েকে কোথাও দেখতে পাচ্ছিলাম না। তাই উদ্ধারকারীদের জিজ্ঞাসা করলাম সে কোথায়। তখনই তারা আমাকে বলে ও মারা গেছে। মাথার ওড়না দিয়ে চোখের পানি মুছতে মুছতে বললেন মীরা।

উদ্ধারকারীদের বিছিয়ে রাখা মৃতদেহগুলোর মধ্যে কিশোরী মেয়ে গুলনুরার লাশ খুঁজে পান মিরা। সাংবাদিকদের মিরা বলেন, ‘সাধারণত আমরা আমাদের ঘরের বাইরে ঘুমাতাম। কিন্তু সেই রাতে বৃষ্টি এবং বজ্রপাত ছিল বলে ভেতরে শুয়েছিলাম’, তিনি বলেছিলেন।

এখন পাকতিকার প্রধান প্রাদেশিক হাসপাতালে সুস্থ হয়ে উঠছেন মিরা। তার ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন প্রায় প্রত্যেকের ঘটনাই কমবেশি এক।

বিবি হাওয়া তার ১১ মাস বয়সী মেয়ে সাফিয়াকে নিয়ে এই হাসপাতালে রয়েছেন। উভয়ের শরীরের একাধিক হাড় ভেঙেছে। মঙ্গলবার গভীর রাতের ভূমিকম্পে তারা তাদের পরিবারের ১৮ জন সদস্যকে হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বিবি হাওয়ার তিন ছেলে ফারুক, হামজা ও মাকসাদুল্লাহ ছিল।

৬.১ মাত্রার এ ভূমিকম্পে এক হাজারের বেশি লোক প্রাণ হারিয়েছে। আরেক হিসাবে বলা হয়েছে ওই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫.৯।

হাওয়া বিবি বলেন, ‘আমার হৃদয় মুচড়ে উঠছে। যখন বাড়িতে যাবো তখন সেখানে কেউ থাকবে না’, বলেন তিনি।

ভূমিকম্পের পরের দিন হাওয়া বিবিসহ ৭৫ জন আহতকে পাকতিকা প্রদেশের রাজধানী শারানার এই প্রাদেশিক হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালটিতে ৭২টি শয্যা রয়েছে। সেখানে আগে থেকেই অন্যান্য রোগী ছিল।

শারানার হাসপাতালটি মেরুদণ্ডে আঘাত পাওয়া বা নিউরোসার্জারি প্রয়োজন এমন রোগীদের চিকিৎসার জন্য সজ্জিত নয়। তাই আরো গুরুতর রোগীদের অন্যান্য হাসপাতালে পাঠাতে হয়েছিল।

যেসব রোগী ইতিমধ্যেই প্রত্যন্ত এলাকা থেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পাড়ি দিয়ে এ হাসপাতালে এসেছিল তাদের চিকিৎসার জন্য এবড়োখেবড়ো, কাচা সড়ক দিয়ে আবার দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়েছে।

সূত্র: কালের কণ্ঠ
এম ইউ/২৫ জুন ২০২২

Back to top button