পশ্চিমবঙ্গ

মুখ্যমন্ত্রী মমতার ইচ্ছা বাস্তবায়ন করবেন শোভন চট্টোপাধ্যায়

কলকাতা, ২২ জুন – মমতা বন্দোপাধ্যায়ের ইচ্ছা বাস্তবায়ন করাই তার লক্ষ্য বলে জানালেন কলকাতার সাবেক মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গে নবান্নে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

ওই বৈঠকে শোভনের বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ও ছিলেন। তিনি বলেন, দিদির নির্দেশ মতোই কাজ করবে শোভন। এবং তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, উভয় তরফের মধ্যে ‘রাজনৈতিক’ আলোচনাই হয়েছে।

শোভন ও বৈশাখীর তৃণমূলে আনুষ্ঠানিকভাবে ফেরা সময়ের অপেক্ষা। অপেক্ষা, কারণ, বুধবার দুপুরে মমতার সঙ্গে বৈঠক সেরে বেরিয়ে শোভন-বৈশাখী তৃণমূলে ফেরার বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু জানাননি। তারা দিনক্ষণ সম্পর্কে জবাব এড়িয়ে গিয়েছেন। তবে তৃণমূলেরই একটা অংশ জানাচ্ছে, একুশে জুলাইয়ের মঞ্চে শোভন-বৈশাখীকে দেখতে পাওয়ার সম্ভাবনা ক্রমশই জোরাল হচ্ছে।

শেষ মুহূর্তে কোনো নাটকীয় পট পরিবর্তন না হলে শোভন এবং বৈশাখী যে তৃণমূলে ফিরতে চলেছেন, তা আগেই জানিয়েছিল আনন্দবাজার অনলাইন। তবে ঠোঁট এবং কাপের মধ্যে যে ফাঁকটুকু এখনও রয়ে গিয়েছে, তা বুধবারেই প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা না হওয়ার থেকে স্পষ্ট। সেই ফাঁক হতে পারে দলের শীর্ষনেতৃত্বের একটি অংশ। যাদের সঙ্গে শোভনের সম্পর্ক গত বেশ কয়েক বছর ধরেই ‘মধুর’। যেমন তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ (যিনি শোভনের নাম দিয়েছেন ‘গ্ল্যাক্সো বেবি’) বলেছেন, যারা তৃণমূলকে হারাতে বিজেপিতে গিয়েছিলেন, তাঁদের নিদারুণ স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে। তাঁদের মধ্যে অনেকেই ফিরে আসছেন। আরও আসবেন। কাদের নেয়া হবে সেই সিদ্ধান্ত নেবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

কুণালের কণ্ঠে খানিকটা শ্লেষের সুরই শুনেছেন দলীয় নেতৃত্বের একাংশ। যারা এই প্রণিধানযোগ্য তথ্যও মনে রেখেছেন যে, দলীয় রাজনীতির সমীকরণে কুণাল মমতার মতোই অভিষেকেরও ‘আস্থাভাজন’।

তবে একই সঙ্গে এও ঠিক যে, রাজনীতিতে সম্পর্কের সমীকরণ অনবরত পাল্টে যেতে থাকে। তৃণমূল তার ব্যতিক্রম নয়। বিশেষত, যদি তাতে হস্তক্ষেপ করেন স্বয়ং মমতা।

প্রসঙ্গত, শোভনের প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি মমতা নিজেই ঠিক করেছেন। তিনিই শোভনের সঙ্গে একাধিক বার কথা বলেছেন। শেষমেশ তিনিই শোভন-বৈশাখীকে নবান্নে এসে তার সঙ্গে দেখা করতে বলেছেন। সেই মতোই বুধবার তারা সেখানে যান।

বৈঠকের পর নবান্ন চত্বরে শোভন বলেছেন, মমতা’দির লক্ষ্য বাস্তবায়িত করাই আমার কাজ। পাশে দাঁড়ানো বৈশাখী ঠোঁটে মৃদু হাসি মিশিয়ে বলেছেন, দিদি-ভাইয়ের মধ্যে থাকা অভিমানের প্রাচীর ভেঙে গিয়েছে।

সূত্র : বাংলাদেশ জার্নাল
এম এস, ২২ জুন

Back to top button