জাতীয়

বাঙালি জাতির আরেকটি বিজয় উৎসব হবে ২৫ জুন: আমু

ঢাকা, ১৯ জুন – কোনো বিদেশি শক্তির বল আওয়ামী লীগের শক্তি নয়। বাংলার মানুষের ভিত্তিই হচ্ছে আওয়ামী লীগের শক্তির ভিত্তি বলে মন্তব্য করেছেন কেন্দ্রীয় ১৪ দলের নেতারা। নেতারা বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ওই সাম্রাজ্যবাদের প্রতিভূ অর্থনৈতিক শক্তি বিশ্বব্যাংককে তোয়াক্কা না করে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা ব্রিজ করার মধ্য দিয়ে প্রমাণ করেছে বাঙালি জাতি যা দীক্ষা করে, তা করে।

শনিবার (১৮ জুন) বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে কেন্দ্রীয় ১৪ দল আয়োজিত সমাবেশে নেতারা এ সব কথা বলেন।

সমসাময়িক ইস্যুতে ক্ষমতাসীন কেন্দ্রীয় ১৪ দলের পক্ষ থেকে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র ও সমন্বয়ক আমির হোসেন আমু। সমাবেশ শেষে আগামী ২৫ জুন পদ্মা সেতুর উদ্বোধনকে স্বাগত জানিয়ে আনন্দ মিছিল বের করেন নেতারা। মিছিলটি বঙ্গবন্ধু এভিনিউ থেকে শুরু হয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে আগামী ২৫ তারিখ বাঙালি আরেকটি জাতীয় উৎসব উদযাপন করতে যাচ্ছে বলে মনে করেন আমির হোসেন আমু।

তিনি বলেন, ‘বাঙালি জাতির স্বাধীনতার স্থপতি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যার নেতৃত্বে আরেকটি বিজয় আমরা অর্জন করেছি। সেটি উদযাপিত হবে আগামী ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে। আমরা অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকি, আমাদের দেশের কিছু নেতৃবৃন্দ বলেন, দাবি করেন তারা যখন সমালোচনা করেন, তাদের দৃষ্টি আমি নিয়ে যেতে চাই ভারতের বুকে।’

এ বিষয়ে আমু আরও বলেন, ‘আজকে ভারতবর্ষে যে তাজমহল নিয়ে গৌরব করে সেই তাজমহল ভারতবর্ষের সৃষ্টি নয়। আজকে পশ্চিমবঙ্গ বেড়াতে গেলে যে হাওড়া ব্রীজ দেখাতে নিয়ে যায়, সেই হাওড়া ব্রীজ পশ্চিমবঙ্গের সৃষ্টি নয়। কিন্তু তারপরও তারা গর্বের সঙ্গে এই জিনিসগুলি ধারণ করছে।’

‘অথচ আমাদের এই পদ্মা ব্রিজ, আমাদের দেশের নেত্রী আামদের দেশের প্রধানমন্ত্রী সারাবিশ্বকে তাক লাগিয়ে যে বিশ্বব্যাংকের দিয়ে তাকিয়ে থাকে উন্নয়নশীল দেশগুলো তাকিয়ে থাকে সাহায্যের জন্য, সেই ওয়ার্ল্ড ব্যাংকে ফিরিয়ে দিয়ে তিনি নিজস্ব অর্থায়নে এই পদ্মা ব্রিজ করবার ঘোষণা দিয়ে তা বাস্তবায়িত করার মধ্য দিয়ে প্রমাণ করেছেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি জাতি যেমনিভাবে পৃথিবীর অন্যতম সেনাবাহিনী পাকিস্তানিকে পরাজিত করেছিল, পাকিস্তানের পেছনে সাম্রাজ্যবাদ শক্তিতে পরাজিত করতে সক্ষম হয়েছিল, সেই বাঙালি জাতির নেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা’ ও সাম্রাজ্যবাদের প্রতিভূ অর্থনৈতিক শক্তি বিশ্বব্যাংককে তোয়াক্কা না করে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা ব্রিজ করার মধ্য দিয়ে প্রমাণ করেছে বাঙালি জাতি যা দীক্ষা করে, তা করে।’

বাঙালি জাতি চিরদিন বিজয়ী জাতি হিসাবে পৃথিবীর বুকে মাথা তুলে দাঁড়াবে জানিয়ে আমির হোসেন আমু কারো নাম উল্লেখ না করে বিএনপি’র উদ্দেশে বলেন, ‘একটি পরিবারে যখন পাঁচটি সন্তান থাকে সেই সন্তানদের মধ্যে যদি কেউ বিপদগামী হয় তাহলে বলে কি কুলাঙ্গার? আর একটি জাতি হিসাবে যদি কেউ কুলাঙ্গারের ভূমিকায় অভিনয় করে সেই কুলাঙ্গারদের তাহলে কি বলা হবে, জাতীয় কুলাঙ্গার।’

তারা শুধু পদ্মা ব্রিজের বিরোধিতা করাই নয়, পঁচাত্তরের হাতিয়ারের কথা বলে আবার প্রমাণ করল পঁচাত্তরের সেই নৃশংস হত্যাকারীদের সঙ্গে জিয়াউর রহমান যে জড়িত ছিল তা তারা তাদের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে প্রমাণ করেছে বলেও মনে করেন আমির হোসেন আমু।

সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, শেখ হাসিনা মৃত্যুকে আলিঙ্গণ করেই এই ৪০ বছর এগিয়ে গিয়েছেন। আজকে বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলায় পরিণত করার অঙ্গীকার নিয়ে তিনি এই দেশে এসে যে প্রতীজ্ঞা করেছিলেন। কিন্তু তাকে কোনো মৃত্যু ভয়, ভীত করতে পারেনি। তোমাদের শত অপচেষ্টা; তাকে লক্ষ করে ২০০৪ সালে যে নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছিল তারপরও কিন্তু তার পথচলাকে তোমরা থামিয়ে দিত পারো নাই। পারো নাই বলেই আজকে তার নেতৃত্বে এই পদ্মা সেতু করার সম্ভব হয়েছে।’

করোনা মহামারিসহ দেশের সার্বিক উন্নয়নে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ শেখ হাসিনার প্রশংসা জানিয়ে আমির হোসেন আমু বলেন, ‘আজকে শেখ হাসিনার নেতৃত্ব বাংলাদেশের মধ্যে শুধু নয়, তোমরা কে কী বললে? তোমরা কী বললে আর তাতেই তার ক্ষমতাচ্যুত হয়ে গেল এটি ভাববার কোনো কারণ নাই। আমরা অনেকে দেখেছি অনেক শুনেছি। কংগ্রেস চলে গেল মোদী আসল তোমরা লাফাইলে এবার বুঝি আওয়ামী লীগ থাকবে না। কিন্তু বিদেশি শক্তির বলে আওয়ামী লীগের শক্তি নয় আওয়ামী লীগের শক্তি বাংলার মানুষের ভিত্তিই হচ্ছে আওয়ামী লীগের শক্তির ভিত্তি।’

‘আজকে তাই যাই মনে করো না কেন? যতকিছুই চিন্তা করো না কেন? স্বপ্ন দেখে কোনো লাভ নাই, ইনশাআল্লাহ ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে নির্বাচন হবে এবং সেই নিরাবাচনের মধ্য দিয়ে বাঙালি তার অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার স্বার্থে শেখ হাসিনাকে পুনর্বার নির্বাচিত করবে।’

পদ্মা সেতু নিয়ে বিএনপি নেতাদের ভিত্তিহীন বক্তব্যের সমালোচনা করে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘যখন পদ্মা সেতু উদ্বোধন হতে যাচ্ছে তখন বহু দাবিদার এর দাবি নিয়ে আসছেন। একজন বলছেন ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন, একই দলের আরেকজন বলছেন ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু আমরা ইচ্ছাও প্রকাশ করিনি, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন শেখ হাসিনাই। আজকে বাংলাদেশের মানুষের সামনে পদ্মা সেতু বাস্তব আর দক্ষিণবঙ্গের মানুষের জন্য সবচেয়ে বেশি আনন্দের সবচেয়ে বেশি উৎসবের, সবচেয়ে বেশি উদযাপনের।’

শেখ হাসিনার সাহসী নেতৃত্বে পদ্মা সেতুর স্বপ্নপূরণ সম্ভব হয়েছে জানিয়ে রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘বাংলাদেশ এমনিভাবেই এগিয়ে যাবে। কেউ থামিয়ে রোখতে পারবে না। বাংলাদেশের মানুষকে কেউ রুখে রাখতে পারে নাই, আজও পারবে না, আগামীতেও পারবে না, পরশুও পারবে না। বাংলার মানুষ এই পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকবে। পদ্মা সেতু পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথিবীর মানুষের কাছে বাঙালি জাতিকে নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকবেন।’

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রমের পরিচালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কামরুল ইসলাম, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সভাপতি শিরীন আকতার, জাতীয় পার্টি (জেপি)’র সাধারণ সম্পাদক শেখ শহিদুল ইসলামসহ অনেকে।

সূত্র : সারাবাংলা
এম এস, ১৯ জুন

Back to top button