জাতীয়

সরকার বন্যার্তদের না দেখে পদ্মা সেতু উদ্বোধনে ব্যস্ত : মির্জা ফখরুল

ঢাকা, ১৮ জুন – বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্তব্য করেছেন, বন্যাদুর্গতদের দিকে না তাকিয়ে সরকার পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী উৎসব নিয়ে ব্যস্ত। তারা পদ্মা সেতুর উদ্বোধন নিয়ে এত ব্যস্ত যে, মানুষের কষ্টের দিকে তাকানোর কোনো সময় তাদের নেই।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর ভাটারায় ঢাকা উত্তরের কয়েকটি ওয়ার্ডের সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। ভাটারা বাজারে কাছে এ সম্মেলন হয়। এর মধ্য দিয়ে উত্তর মহানগর বিএনপির ১৭, ৩৯ ও ৪০ নম্বর ওয়ার্ডে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা দাবি করছি, বন্যাকবলিত অঞ্চলগুলোকে দুর্যোগপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা হোক। সরকারকে আহ্বান জানাই, বন্যাকবলিত অঞ্চলে যেন দুর্গতদের জন্য ত্রাণের ব্যবস্থা করা হয়।

তিনি বলেন, বন্যার ধারালো ছোবল সারাদেশে। সিলেট, সুনামগঞ্জ থেকে শুরু করে উত্তরে লালমনিরহাট, কুড়িগ্রামসহ অনেক অঞ্চল বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। গতকালের যে নিউজ, তা হলো ফারাক্কা বাঁধ খুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে পদ্মা-মেঘনা-যমুনাসহ সব নদীর পানি এখন বাড়তে থাকবে, দেশের মানুষকে ভাসিয়ে দেবে, তাদের কষ্টের ফসল নষ্ট করবে, বাড়ি-ঘর নষ্ট করবে, তাদের গবাদি পশুসহ সব সম্পদ ভাসিয়ে নিয়ে চলে যাবে।

ফখরুল বলেন, কেন এ বন্যা? ক্লাইমেট চেঞ্জ হচ্ছে, সেজন্য বন্যা আসতে পারে। কিন্তু বন্যা মোকাবিলার জন্য বা সেই বন্যায় যাতে কম ক্ষতি হয়, তা দেখার দায়িত্ব সরকারের। গত এক যুগেও সরকার ভারতের সঙ্গে যেসব অভিন্ন নদী রয়েছে, সেগুলোর পানি বণ্টনের যে চুক্তি, সেই চুক্তি করতে সক্ষম হয়নি।

তিনি আরও বলেন, আমাদের বহুদিন ধরে তিস্তা নদীর পানি চুক্তির মুলা দেখানো হচ্ছে। কিন্তু তা আজ পর্যন্ত করা হয়নি। ফারাক্কার পানি হঠাৎ করেই যে তারা (ভারত) গেট খুলে দেয়, তখন যে পানির ঢল আসে সেই ঢল সামলানো সম্ভব হয় না। আজ সিলেট-সুনামগঞ্জ অঞ্চলে একই ঘটনাগুলো ঘটছে। আজ এটার জন্য সম্পূর্ণভাবে এ সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতি এবং তার জনগণের প্রতি যে অবহেলা সেটাই প্রমাণ।

পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, এখন তারা (সরকার) নতুন একটি গান শুরু করেছে। সেই গানটা কী? যে বাংলাদেশে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন হবে, সেখানে নাকি একটা বড় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। জাতির সামনে বলুন সে দুর্ঘটনা কারা ঘটাচ্ছে, পরিষ্কার করে বলুন। আমরা দেখছি যে, বরাবরই আপনারা এ সমস্ত কথা বলেন। নিজেরা দুর্ঘটনা ঘটান তারপরে এটা বিএনপির ওপরে চাপিয়ে দেন। এটা হচ্ছে আপনাদের চরিত্র, এটা আপনাদের নীতি।

মির্জা ফখরুল বলেন, পত্রিকায় এসেছে, সুইস ব্যাংকের বাংলাদেশিদের টাকার পরিমাণ গত এক বছরে তিন গুন বেড়েছে। অর্থাৎ যারা চুরি করছে, যারা লুট করছে, তারা পাচার করে সুইস ব্যাংকে টাকা পাঠিয়ে দিচ্ছে। এভাবে তারা কানাডাতে বেগমপাড়া তৈরি করেছে, মালয়েশিয়াতে সেকেন্ড হাউজ তৈরি করেছে এবং এই দেশে তারা কোনো বাধা-বিপত্তি ছাড়াই, কোনো জবাবদিহিতা ছাড়াই চরমভাবে প্রতিটি খাতে দুর্নীতি করছে। একটি সংসদ আছে। এ সংসদ নির্বাচিত সংসদ নয়। সে কারণে সেখানে সরকারের সমালোচনা হয় না এবং সেখানে যেহেতু বিরোধীদল বলতে কিছুই নেই, সেজন্য এ জবাবদিহিতার কাজটা তারা করতে পারে না।

বিএনপি বর্তমান নির্বাচন কমিশন মানে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা এই নির্বাচন কমিশনকে মানি না। খুব পরিষ্কার করে বলেছি, আমরা কোনো নির্বাচনে যাবো না, যদি সেটা নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন না হয়। আপনাদের ক্ষমতায় থাকার আর কোনো অধিকার নেই। অবিলম্বে পদত্যাগ করুন এবং একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন। সংসদ বাতিল করে দিন। এরপর নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করে সেই কমিশনের অধীনে একটি জবাবদিহিমূলক নির্বাচন হবে, সেই নির্বাচনে নতুন পার্লামেন্ট গঠন হবে, নতুন সরকার হবে।

তিনি আরও বলেন, সবাইকে শক্তিশালী হয়ে, প্রতিবাদী হয়ে ঘুরে দাঁড়াতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের যে সংগঠন তৈরি হচ্ছে, তার মধ্য দিয়ে আমাদের আন্দোলন আরও শক্তিশালী হবে। সব রাজনৈতিক দলকে নিয়ে বৃহত্তর গণ ঐক্য তৈরি করে এ সরকারের পতন ঘটাতে সক্ষম হব।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট অধিবেশনের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটে কিছু প্রস্তাব করা হয়েছে। তা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ। আমি বিস্মিত হয়ে গেছি যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটা প্রতিষ্ঠান, শতবর্ষ ধরে যে বিশ্ববিদ্যালয় এই দেশে সবচাইতে মেধাবীদের শিক্ষা দিয়ে সমাজে পাঠিয়েছে, বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে, সাহিত্যের ক্ষেত্রে, সমাজের বিভিন্ন জায়গায় নেতৃত্বের ক্ষেত্রে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ প্রস্তাব করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০ হাজার শিক্ষার্থী আছে- এর মধ্যে যারা ধনী তাদের জন্য বিশেষ ফি অর্থাৎ বেশি টিউশন ফি দিতে হবে। কারণ তারা ধনীর সন্তান।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইজ অ্যা সেন্টার অব এক্সিলেন্স, দেশের সবচেয়ে ভালো ছাত্ররা এখানে ভর্তি হয়। এখানে ভর্তি হয়ে তারা তাদের শিক্ষা শেষ করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় নেতৃত্ব দেয়। এই বিশ্ববিদ্যালয় তাহলে তো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হতে পারত। আমাদের জনগণের ট্যাক্সের টাকা পাবলিক ইউনিভার্সিটিগুলোতে দেওয়া হয়, সেগুলো পরিচালনার জন্য। কিন্তু দুর্ভাগ্য সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে কোষাধ্যক্ষ আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করবার একটা হীন চক্রান্ত করছেন। আমরা এ প্রস্তাবের তীব্র সমালোচনা করছি, তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

৩৯ নম্বর ওয়ার্ড আহ্বায়ক এসএম কামরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এ সম্মেলনে মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান ও সদস্য সচিব আমিনুল হক বক্তব্য রাখেন।

সূত্র : বাংলাদেশ জার্নাল
এম এস, ১৮ জুন

Back to top button