দক্ষিণ এশিয়া

কাবুলে শিখ মন্দিরে বিস্ফোরণ, বহু হতাহতের শঙ্কা

কাবুল, ১৬ জুন – আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের সর্বশেষ শিখ মন্দিরে বিস্ফোরণ ঘটেছে। সেই সঙ্গে গুরুদ্বারের ভেতর থেকে ভেসে এসেছে স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্রের গুলির আওয়াজ। এতে বহু মানুষ হতাহত হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রাথমিক ভাবে ঘটনাটিকে জঙ্গি হামলা বলে মনে করছে তালেবান সরকারের পুলিশ। ঘটনার কথা জানার পরেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত সরকার।

স্থানীয় সময় শনিবার সকালের ওই বিস্ফোরণে ঠিক কতজন হতাহত হয়েছে সে বিষয়টি এখনও নিশ্চিত নয়।

ঘটনাস্থল থেকে গোরনাম সিং নামের এক স্থানীয় কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, ওই মন্দিরে প্রার্থনা করছিলেন প্রায় ৩০ জন। সে সময়ই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

তিনি বলেন, ঠিক কতজন মারা গেছেন বা কতজন বেঁচে আছেন আমরা তা জানি না। তিনি আরও বলেন, তালেবানের সদস্যরা কাউকে ভেতরে ঢুকতে দিচ্ছে না। তাই আমরা জানি না যে, এখন আমরা কি করব।

গত বছর অগস্টে তালেবানের কাবুল দখলের পর সে শহরের বাসিন্দা শ দুয়েক শিখ ও হিন্দু ভারতে চলে এসেছিলেন। তার আগে তাদের সাময়িক আশ্রয়স্থল হয়েছিল কার্তে পারওয়ান এলাকার এই দশমেশ সাহিবজি গুরুদ্বার তথা শিখ মন্দিরটি।

স্থানীয় সূত্রের খবর, বর্তমানে ১৬ জন শিখ ওই গুরুদ্বারে থাকতেন। গত অক্টোবরে ওই গুরুদ্বারে গিয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল স্থানীয় এক তালেবান কমান্ডার ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে।

স্থানীয় গণমাধ্যম টোলো নিউজ বেশ কিছু ফুটেজ প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখা গেছে, ঘটনাস্থল থেকে চারদিকে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ছে।

কাবুলে অবস্থিত শেষ শিখ মন্দির এটি। এই সম্প্রদায়ের নেতারা জানিয়েছেন, দেশটিতে বর্তমানে শিখদের সংখ্যা মাত্র ১৪০। ১৯৭০ সালে এই সংখ্যা ছিল প্রায় লাখের কাছাকাছি।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই আফগানিস্তানের বিভিন্ন স্থানে হামলার ঘটনা ঘটছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। গত ডিসেম্বরে কাবুলের একটি সামরিক হাসপাতালে হামলার ঘটনায় ২০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং আরও ১৬ জন আহত হয়।

এর আগে গত এপ্রিলে একটি মসজিদে গ্রেনেড হামলায় ছয়জন আহত হয়। সে সময় ইসলামিক স্টেট অব খোরাসান প্রভিন্স (আইএস-কে) ওই হামলার দায় স্বীকার করে।

গুরুদ্বারে হামলার পিছনে পশ্চিম এশিয়ার জঙ্গি সংগঠন আইএস-এর আফগান শাখা ‘ইসলামিক স্টেট খোরাসান’ (আইএসকে) রয়েছে বলে তালেবান নিয়ন্ত্রিত কাবুল পুলিশের প্রাথমিক ধারণা। তবে তালেবানের একাংশও এর পেছনে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

কয়েক মাস আগে পূর্ব আফগানিস্তানের পাকতিয়া প্রদেশের চমকানির গুরুদ্বারে গিয়ে জোর করে ‘নিশান সাহিব’ নামিয়ে নিয়েছিল স্থানীয় কিছু তালেবান জঙ্গি। ভারতের প্রতিবাদের জেরে ফের তালেবান শীর্ষনেতৃত্বের হস্তক্ষেপে ‘নিশান সাহিব’ ফেরত পায় গুরু নানকের স্মৃতি বিজড়িত ওই গুরুদ্বার।

সূত্র : দেশ রুপান্তর
এম এস, ১৬ জুন

Back to top button