ক্রিকেট

ওয়ানডেতে ৪৯৮ রান তুলে ইংল্যান্ডের নতুন বিশ্বরেকর্ড

অ্যামস্টেলভিন, ১৭ জুন – ৪ উইকেটে ৪৯৮ রান! দেখে কি ভাবছেন? নিশ্চয় কোনো টেস্ট ম্যাচের এক ইনিংসে কোন দলের সংগ্রহ! ভুল ভাবছেন, এটা ওয়ানডে ক্রিকেটের এক ইনিংসের দলীয় সংগ্রহ। ভাবতে পারেন রূপকথার গল্প, তাহলে ইংল্যান্ড সেই রূপকথার গল্পই যেন লিখলো নেদারল্যান্ডের বিপক্ষে।

ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসের এক ইনিংসে সর্বোচ্চ দলীয় রানের ইতিহাস নতুন করেই লিখলো থ্রি লায়ন্সরা। নিজেদের আগের দুই রেকর্ড ভেঙেই নতুন করে ইতিহাস লিখলো ইয়ন মরগানের দল। ২০১৬ সালের আগস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে নটিংহ্যামে ৩ উইকেটে ৪৪৪ এবং ২০১৮ সালের জুনে নটিংহ্যামে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৬ উইকেটে ৪৮১ রানের রেকর্ড গড়েছিল তারা। আরও একবার নিজেদের রেকর্ড নিজেরাই গুঁড়িয়ে দিল ইংল্যান্ড।

নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে অ্যামস্টেলভিনে আজ ইংল্যান্ড তুলেছে ৪ উইকেটে ৪৯৮। এটিই এখন ওয়ানডে ক্রিকেট ইতিহাসের নতুন বিশ্বরেকর্ড।

মাত্র ১ রানেই প্রথম উইকেট হারানোর পর এই রেকর্ড গড়েছে ইংল্যান্ড। শুধু এই রেকর্ডেই না, এই এক ম্যাচেই রেকর্ড বইয়ের পাতা ওলোট পালোট করে দিয়েছে ইংলিশরা। ইতিহাসে এই প্রথম ওয়ানডে ম্যাচের এক ইনিংসে তিন সেঞ্চুরি দেখলো ক্রিকেট বিশ্ব। ফিল সল্ট, ডেভিড মালান আর জস বাটলারের অতিমানবীয় ব্যাটিংয়েই রেকর্ড বুক তছনছ করে ছেড়েছে ইংলিশরা।

টস জিতে ইংলিশদের ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েই যেন কূল হারানোর অবস্থা নেদারল্যান্ডের। শুরুতে ১ রানেই ইংল্যান্ডের প্রথম উইকেট তুলে নিয়ে অবশ্য হাসির মুখ দেখেছিলো নেদারল্যান্ড। তারপরেই শুরু তাদের দুর্দশার। ডাচ বোলারদের রীতিমত কচুকাটা করে ছেড়েছে সল্ট-বাটলাররা মিলে।

১ রানেই জেসন রয়ের উইকেট হারানোর পর দ্বিতীয় উইকেটে ডেভিড মালান আর ফিল সল্ট মিলে গড়েন ১৭৮ বলে ২২২ রানের বিশাল জুটি। দুই ব্যাটারই পেয়েছেন ওয়ানডেতে নিজেদের প্রথম সেঞ্চুরি। ৯৩ বলে ১৪ চার আর ৩ ছক্কায় ১২২ রানের ইনিংস খেলে আউট হন সল্ট আর ১০৯ বলে ৯ চার আর ৩ ছক্কায় মালানের সংগ্রহ ১২৫।

এই দুজনের ঝড় সামলাতেই হিমশিম খাওয়া ডাচ বোলারদের উপর দিয়ে আরও বড় টর্নেডো যে অপেক্ষা করছে সেটা হয়তো তখনও টের পায়নি কেউ। এই দুজনের বিদায়ের পর তাদেরকে ছাড়িয়ে গেছেন জস বাটলার। ডাচ বোলারদের ওপর রীতিমত তান্ডবলীলা চালিয়ে মাত্র ৪৭ বলে সেঞ্চুরি তুলে নেন বাটলার। আরেকটু হলে এবি ডি ভিলিয়ার্সের ৬৪ বলে ১৫০ রানের রেকর্ডই ভেঙে দিতে পারতেন তিনি। তবে বাটলার ১৫০ রান তুলেছেন ৬৫ বলে। হার না মানা ইনিংসে শেষ পর্যন্ত ৭ চার আর তার চেয়ে দ্বিগুণ পরিমাণ ছক্কায় ৭০ বলে ১৬২ রানের মারকাটারি এক ইনিংস খেলেই মাঠ ছেড়েছেন বাটলার।

ডাচ বোলারদের দুর্দশা অবশ্য শেষ হয়নি এখানেই। লিয়াম লিভিংস্টোন যেন উপরের তিনজনের চেয়েও এককাঠি বেশি সরেস। মাত্র ১৭ বলে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে ওয়ানডে ইতিহাসের সবচেয়ে কম বলে হাফ সেঞ্চুরি করার রেকর্ডে সনাৎ জয়াসুরিয়া, কুশল পেরেরা আর মার্টিন গাপটিলদের সাথে যৌথভাবে বসেছেন দ্বিতীয় স্থানে। শেষমেষে লিভিংস্টোন অপরাজিত থেকে গেছেন ২২ বলে ৬৬ রান করেই।

ডাচ বোলারদের কপালে প্রশান্তি জুটেছে নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষ হয়ে যাওয়ায়। নাইলে হয়তো বাটলার-লিভিংস্টোন মিলে আরও বড় সুনামিই বইয়ে দিতো তাদের ওপর দিয়ে। এই চার ইংলিশ ব্যাটারের মারকাটারি ব্যাটিংয়ে নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে ইংল্যান্ডের সংগ্রহ ৪ উইকেটে বিশ্বরেকর্ড করা ৪৯৮ রান।

সূত্র : বাংলাদেশ জার্নাল
এম এস, ১৭ জুন

Back to top button