ক্রিকেট

দুর্দান্ত বোলিংয়ের পরেও পিচ্ছিল হাতে দিনটা উইন্ডিজের

অ্যান্টিগা, ১৭ জুন – অ্যান্টিগা টেস্টের প্রথম দিনটি বেশ ভূতুড়েভাবেই কাটলো বাংলাদেশের জন্য। টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে টাইগার ব্যাটসম্যানরা যেন শুধু ২২ গজে এলেন আর গেলেন। ৬ ব্যাটসম্যান ক্রিজ থেকে ফিরেছেন কোন রান না করেই। তবুও বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে যে ১০৩ রান সংগ্রহ করতে পেরেছে তা দুই সিনিয়রের কল্যাণে।

কাপ্তান সাকিবের ৫১ আর টেস্টে ৫ হাজার রানের মাইলফলক ছোঁয়ার দিন তামিম ইকবালের ২৯, সাথে দুই অংক ছোঁয়া আর মাত্র একজন লিটন দাসের ১২ রান। এই তিনজন বাদে রানের খাতা খুলেছেন আর মাত্র দুজন, মিরাজের ২ আর এবাদতের ৩ রানের সাথে অতিরিক্ত থেকে আসা ৬ রান মিলিয়ে কোনমতে তিন অংক ছাড়িয়েছে বাংলাদেশের রান।

ব্যাটসম্যানদের এমন ছন্নছাড়া পারফরম্যান্সের পর বোলারদের হাতে থাকার কথা না কিছুই। তবুও মুস্তাফিজ-এবাদতরা এদিন চেষ্টা করেছেন প্রাণপণে। উইন্ডিজ পেসাররা যেমন আগুন ঝরিয়েছেন পিচে, টাইগার পেসাররাও কম যাননি কোনোভাবে। তবে তাদের সেই চেস্টাও বৃথা ফিল্ডিংয়ে টাইগার ক্রিকেটারদের পিচ্ছিল হাতের ফাঁকতালে পড়ে।

টাইগার বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং কোনোভাবেই হাত খুলতে খেলতে দেয়নি পারেনি ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যানদের। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ১০৩ রানের জবাবে প্রথম দিন শেষে ৪৮ ওভারে ২ উইকেটে ৯৫ রান তুলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। উইন্ডিজরা পিছিয়ে এখনও ৮ রানে। ক্রেইগ ব্রেথওয়েট ১৪৯ বলে ৪২ আর এনক্রূমাহ বোনার ৪৩ বলে ১২ রান নিয়ে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেছেন।

ক্যারিবিয়ানদের হয়ে ইনিংস ওপেন করতে নেমে জন ক্যাম্পবেল আর ক্রেইগ ব্রেথওয়েট যেন পণ করে এসেছিলেন এক চুলও ঝুঁকি নেবেন না তারা। উইকেটে আকড়েই পড়ে ছিলেন স্বাগতিকদের দুই ওপেনার। ধৈর্য্যের পরীক্ষায় পাশ করে চা বিরতির আগে কোনো উইকেট হারাতেও দেয়নি দুই ওপেনার। কচ্ছপের গতিতে রান তুলে ততক্ষণে উইন্ডিজদের সংগ্রহ ১৫ ওভারে মাত্র ১৫ রান। মুস্তাফিজের নিজের প্রথম চার ওভারই নিয়েছেন মেইডেন। সাথে খালেদ আহমেদও নিয়েছেন দুই ওভার মেইডেন। প্রথম পাঁচ ওভারে কোন রানই আসেনি উইন্ডিজ ইনিংসে।

বিরতি থেকে ফিরে রান তোলার গতি কিছুটা বাড়ায় স্বাগতিকরা। তবে সেটিও খুব বেশি হাত খুলে নয়। আরও ১০ ওভার বাংলাদেশি বোলারদের ধৈর্য্যের পরীক্ষা নিয়ে শেষমেশ ২৬ তম ওভারে এসে ৪ ৪ রানের মাথায় বাংলাদেশকে প্রথম উইকেট উপহার দেন ক্যাম্পবেল। মুস্তাফিজের যে বলে বোল্ড হয়েছেন, সেটিও ডিফেন্ড করতে গিয়েই ইনসাইড এজ হয়েই বেল পড়েছে এই উইন্ডিজ ওপেনারের। আউট হওয়ার আগে ৭২ বলে করেচন ২৪ রান।

মুস্তাফিজের পরের ওভারেই অবশ্য বাংলাদেশকে উইকেট তুলে নেয়ার সুযোগ দিয়েছিলো রেইমন রেইফার আর ব্রেথওয়েট। তবে স্লিপে ডাইভ দিয়েও ক্যাচ নিতে পারেননি লিটন দাস। এই দুটিই নয় শুধু, উইন্ডিজ ইনিংসের তৃতীয় ওভারে মুস্তাফিজের বলেও ব্র্যাথওয়েটের ক্যাচ ছেড়েছেন নিজের ব্যটিং নিয়ে ব্যর্থ তায় ভুগতে থাকা মুমিনুল হক। মুমিনুলের হাতজোড়া পিচ্ছিল না হলে শূণ্য রানেই ফিরতে পারতেন উইন্ডিজ অধিনায়ক।

মোস্তাফিজের পর বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় উইকেটটি নিয়েছেন এবাদত। মাত্র ১১ রনেই রেইফারকে ফিরিয়েছেন উইকেটের পেছনে সোহানের হাতে ক্যাচ বানিয়ে।

টাইগার পেসারদের আগুনে বোলিংয়ের সামনে নিজেদের খোলসে ঢুকিয়ে রেখেছিলেন ক্যারিবীয়রা। স্বাগতিকদের প্রথম রান আসে ইনিংসের ৩২তম বলে। মোস্তাফিজ আর খালেদ মিলে প্রথম পাঁচ ওভার মেইডেন নেয়ার পর ১০ ওভারে উইন্ডিজ তোলে মাত্র ৮ রান। ১৩ ওভারে তাদের সংগ্রহ ১০ রান। অবশেষে স্পিনার মিরাজকে পেয়ে রানের গটি কিছুটা বারায় উইন্ডিজরা।

ক্যারিবিয়ানদের ধৈর্য্যের সামনে দিনশেষে ম্লান হয়েই মাঠ ছাড়তে হয় টাইগারদের। মাত্র দুই উইকেট হারিয়ে ৯৫ রান নিয়ে দিন শেষ করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথম ইনিংসে পিছিয়ে মাত্র ৮ রানে, হাতেও আছে ৮টি উইকেট। অধিনায়ক ব্র‍্যাথওয়েট ১৪৯ বলে ৪২ আর বোনার ৪৩ বলে ১২ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করবেন স্বাগতিকদের হয়ে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর (প্রথম দিন শেষে):

বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ৩২.৫ ওভারে ১০৩ (তামিম ২৯, জয় ০, শান্ত ০, মুমিনুল ০, লিটন ১২, সাকিব ৫১, সোহান ০, মিরাজ ২, মুস্তাফিজ ০, ইবাদত ৩*, খালেদ ০; রোচ ৮-২-২১-২, সিলস ১০-২-৩৩-৩, জোসেফ ৮.৫-২-৩৩-৩, মেয়ার্স ৫-২-১০-২, মোটি ১-০-১-০)।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ (১ম ইনিংস): ৪৮ ওভারে ৯৫/২ (ব্র‍্যাথওয়েট ৪২*, ক‍্যাম্ববেল ২৪, রেইফার ১১, বোনার ১২*; মুস্তাফিজ ১২-৬-১০-১, খালেদ ৯-৪-১৫-০, এবাদত ১২-৪-১৮-১, সাকিব ৮-২-২০-০, মিরাজ ৭-১-২৮-০)

সূত্র : বাংলাদেশ জার্নাল
এম এস, ১৭ জুন

Back to top button