ক্রিকেট

বিরতির পরেই ফিরলেন মিরাজ

অ্যান্টিগা, ১৬ জুন – মধ্যাহ্ন বিরতির আগে সাকিব আল হাসানকে দারুণ সঙ্গ দিয়েছিলেন মেহেদি হাসান মিরাজ। বিরতি থেকে ফিরেই সিলসের শিকার হয়ে ফেরেন সাজঘরে। লেগ সাইড দিয়ে বেরিয়ে যাওয়া বল অহেতুক ফ্লিক করতে গিয়ে ধরা পড়েন এই অলরাউন্ডার। ব্যাটে লেগে বল যায় উইকেটের পেছনে। ২২ বলে ২ রান করেন এই অলরাউন্ডার। ক্রিজে সাকিবের সঙ্গী মোস্তাফিজুর রহমান।

বাংলাদেশ: ৭৭/৭ (২৭ ওভার)

বিপর্যয়ের পর প্রথম সেশনে সাকিব-মিরাজের প্রতিরোধ

অ্যান্টিগা টেস্টের প্রথম সেশন ভুলে যেতে চাইবে বাংলাদেশ। ১৬ রানে তিন উইকেট হারানোর পর তামিম-লিটন প্রতিরোধ গড়েন। পানি পানের বিরতির পর আবার ৭ বলের ব্যবধানে ৩ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ১৫ ওভারে ৬ উইকেট হারায় মাত্র ৪৫ রানে। বাংলাদেশের চার ব্যাটসম্যান আউট হন শূন্য রানে। তামিম ২৯ ও লিটন করেন ১২ রান। এরপর জুটি গড়েন সাকিব আল হাসান ও মেহেদি হাসান মিরাজ। দুজনে ৬০ বলে ৩১ রান যোগ করেন। প্রথম সেশনে ২৫ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৭৬ রান। সাকিব ২৭ ও মিরাজ ২ রানে অপরাজিত আছেন। এই জুটিই এখন বাংলাদেশের ভরসা। রোচ-মায়ার্স নেন ২টি করে উইকেট। ১টি করে নেন সিলস-জোসেফ।

বাংলাদেশের ফিফটি, ভরসা এখন সাকিব-মিরাজ

১৭.১ ওভারে আলঝারি জোসেপকে মিড অনে চার মেরে দলীয় ফিফটি পূর্ণ করেন সাকিব। বাংলাদেশ অধিনায়ক মেরে খেলার চেষ্টা করছেন। পরের ওভারেই কাইল মায়ার্সকে লং অফে হাঁকান ৬। তার সঙ্গী মেহেদি হাসান মিরাজ। বাংলাদেশের ভরসা এখন এই দুই অলরাউন্ডারের ব্যাটে। দুজনের জুটি থেকে আসে ৪২ বলে ২৫ রান। ১৬ রানে তিন উইকেট হারানোর পর প্রতিরোধ গড়েছিলেন তামিম-লিটন। দুজনেই ফেরেন পরপর দুই ওভারে। এরপর ক্রিজে এসে দ্বিতীয় বলেই আউট হন সোহান। ৪৫ রানে ৬ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

৭ বলের ব্যবধানে ফিরলেন তামিম-লিটন-সোহান

সাত বলের ব্যবধানে বাংলাদেশ হারালো তামিম-লিটন-সোহানকে। ১৪তম ওভারের শেষ বল থেকে ১৫তম ওভারে এই তিন উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ১৪তম ওভারের শেষ বলে ফেরেন তামিম। আর লিটন-সোহান ফেরেন কাইল মায়ার্সের ১৫তম ওভারে। মুশফিকের পরিবর্তে সোহান জায়গা পেয়েছিলেন একাদশে, কিন্তু সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। মাঠে আসলে প্রথম বলেই সোহানের লেগ বাই থেকে চার আসে। তার পরেই মায়ার্সের ইনসুইংগারে বাঁধে বিপত্তি। তার আউট সাইড অফের পিচ করা বল ফ্রন্ট ফুটে খেলতে চেয়েছিলেন সোহান, বল লাগে পায়ে। আম্পায়ার সাড়া দেন। বাংলাদেশ রিভিউ নিয়েছিল কিন্তু লাভ হয়নি। ২ বলে শূন্য রানে ফিরলেন এই ডানহাতি উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। প্রথম ওভারেই মেইডেন দিয়ে ২ উইকেট নেন মায়ার্স।

প্রতিরোধের আভাস দিয়ে আউট তামিম-লিটন

দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে ৫ হাজার রানের মাইলফলক অর্জনের পর সাজঘরে ফিরলেন তামিম ইকবাল। পানি পানের বিরতির পর ফিরেই আলঝারি জোসেফের শিকার হন তামিম। ১৪তম ওভারের শেষ বলে ব্যাট ছুঁয়ে যায় উইকেটের পেছনে। ৪৩ বলে ৪ চারে ২৯ রান করেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। পরের ওভারে কাইল মায়ার্সের শিকার হন লিটন দাস। তিনিও ক্যাচ দেন উইকেটের পেছনে। ৩৩ বলে ১২ রান করেন। ১৬ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর তামিম-লিটন জুটি বেঁধে প্রতিরোধ গড়েছিলেন।

৫ হাজারি ক্লাবে তামিম

৫ হাজার থেকে ১৯ রান দূরে থেকে অ্যান্টিগা টেস্টে নামেন তামিম ইকবাল। অন্যপ্রান্তে ব্যাটসম্যানরা যখন হাবুডুবু খাচ্ছিলেন তখন তিনি ছিলেন অবিচল। উলটো বাউন্ডারি মেরে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। সপ্তম ওভারের দ্বিতীয় বলে রোচকে ফ্লিক করে তিন রান নেন বাঁহাতি এই ওপেনার। তাতে ৫ হাজার টেস্ট রানের মাইলফলক অর্জন করেন তামিম। মুশফিকুর রহিমের পর দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে তামিম এই অর্জনে নাম লেখান। ৬৮ টেস্টে তামিম এই রান করেন। গড় ৩৭.৯৩। সেঞ্চুরি ৯টি হাঁফ সেঞ্চুরি ২৫টি।

শূন্যতে শেষ জয়-শান্ত-মুমিনুল

কেমার রোচের করা ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই আউট মাহমুদুল হাসান জয়। এক ওভার পর রোচের শিকার নাজমুল হোসেন শান্ত। তিনিও ফিরলেন শূন্য রানে। শান্তর পর ক্রিজে আসেন মুমিনুল হক। তিনি হাল ধরতে পারেননি। পঞ্চম ওভারে সিলসের শিকার হয়ে ফিরলেন শূন্য রানে। ১৬ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে বাংলাদেশ। তিন ব্যাটসম্যানই ফিরলেন শূন্য রানে। ক্রিজে তামিমের সঙ্গী লিটন দাস।

ব্যর্থতার বৃত্তে মুমিনুল

রান পাওয়ার জন্য নেতৃত্ব ছেড়েছিলেন মুমিনুল হক। প্রথম টেস্টেই ব্যর্থ। দল যখন দ্রুত ২ উইকেট হারিয়ে বিপদে তখন ফিরলেন শূন্য রানে। সিলসের আউটসাইড অফের বল মুমিনুলের ব্যাট ছুঁয়ে যায় স্লিপে। বল তালুবন্দি করতে ভুল করেননি ব্ল্যাকউড। ৬ বল খেলে রানের খাতা খুলতে পারেননি মুমিনুল। সবশেষ ৬ টেস্টে মুমিনুল ৪ বার আউট হয়েছেন শূন্য রানে। একবার মাত্র ২ অঙ্কের ঘর পার হয়েছেন।

শান্তও পারলেন না হাল ধরতে

তৃতীয় ওভারেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। রোচের বলে এগিয়ে এসে ডিফেন্স করতে চেয়েছিলেন শান্ত, কিন্তু বল মুভ করে ব্যাট-প্যাডের ফাঁক গলে ভেঙে দেয় স্ট্যাম্প। শান্ত সব শেষ শ্রীলঙ্কা সিরিজে ১১ রান করেছিলেন। এবার ওয়েস্ট ইন্ডিজে ফিরলেন শূন্য রানে। ৫ বল খেলে ফেরেন খালি হাতেই। বিপদ বাড়ে দলের।

শূন্যতে শেষ জয়

কেমার রোচের প্রথম বলে সিঙ্গেল নিয়ে জয়কে স্ট্রাইক দেন তামিম ইকবাল। আউট সাইড অফের এক্সট্রা বাউন্স করা লেন্থ বলে খোঁচা দিয়ে বসেন তরুণ এই ওপেনার। ধরা পড়েন স্লিপে দাঁড়ানো বোনারের হাতে। সবশেষ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঢাকা টেস্টেও শূন্য রানে আউট হয়েছিলেন। তার ৭ টেস্টের ক্যারিয়ারে শূন্য আছে ৫টি!

একাদশে মোস্তাফিজ-সোহান, ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অ্যান্টিগার স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস বাংলাদেশ সময় আজ বৃহস্পতিবার (১৬) রাত ৮টায় মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এই ম্যাচে টস জিতে ফিল্ডিং নিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ব্যাটিং করছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ একাদশ সাজিয়েছে তিন পেসার ও দুই স্পিনার নিয়ে। একাদশে এসেছে মোস্তাফিজুর রহমান। তার সঙ্গী খালেদ আহমেদ ও ইবাদত হোসেন। স্পিনে সাকিব আল হাসানের সঙ্গী মেহেদি হাসান মিরাজ। মুশফিকুর রহিমের পরিবর্তে দলে জায়গা পেয়েছেন নুরুল হাসান সোহান। সবশেষ খেলা টেস্ট একাদশ থেকে বাদ পড়েছেন মুশফিকুর রহিম ও তাইজুল ইসলাম।

বাংলাদেশ একাদশ:

তামিম ইকবাল, মাহমুদুল হাসান জয়, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুমিনুল হক, লিটন দাস, সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), নুরুল হাসান সোহান (উইকেটকিপার), মেহেদি হাসান মিরাজ, খালেদ আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান ও ইবাদত হোসেন।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ একাদশ

ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট, জার্মেইন ব্ল্যাকউড, এনক্রুমা বোনার, জন ক্যাম্পবেল, জশুয়া ডা সিলভা, আলজারি জোসেফ, কাইল মায়ার্স, গুডাকেশ মোটি, রেমন রেইফার, জেইডেন সিলস, কেমার রোচ।

খেলা দেখা যাবে ২ ডলারে

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ শুরুর আগ মুহূর্তেও সম্প্রচার নিয়ে জটিলতা কাটেনি। কোনো চ্যানেলে খেলা দেখানো হচ্ছে না। তবে বিকল্প উপায়ও আছে খেলা দেখার। এ জন্য খরচ করতে হবে গাঁটের পয়সা।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের খেলা দেখায় আইসিসির ডিজিটাল মিডিয়া তথা আইসিসি টিভি। ওয়েস্ট ইন্ডিজে বাংলাদেশের খেলাও এর বাইরে নয়। পুরো সফরের দুটি টেস্ট ও তিনটি করে ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি দেখা যাবে মাত্র ২ ডলারে।

২০০৯ এর স্মৃতি বাইশে ফেরাতে পারবেন সাকিব?

ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে বাংলাদেশের রেকর্ড ভালো নয়। ১৮ ম্যাচে জয় মাত্র ৪টিতে। আর তাদের মাটিতে ৭টি খেলে জয় ২টিতে। সেই জয় এসেছে ২০০৯ সালে। সবশেষ তিনটি সিরিজের বাংলাদেশ জিতেছে একটি সিরিজ, তাও দেশের মাটিতে। আর সবশেষ সফরে দুই টেস্টেই হার, একটিতে ইনিংসসহ। প্রথম টেস্টের ভেন্যু অ্যান্টিগায় আছে সর্বনিম্ন ৪৩ রানে অলআউট হওয়ার বাজে রেকর্ডও।

অধিনায়ক সাকিবের তৃতীয় যাত্রা

বছরের শুরুতে নিউ জিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট জিতে ভালো কিছুর আভাস দিয়েছিলেন অধিনায়ক মুমিনুল হক। কিন্তু সময়ের সঙ্গে মুমিনুল যেন মাঝসমুদ্রের দিশেহারা নাবিক। তার পারফরম্যান্সের সঙ্গে দলের অবস্থাও নামতে থাকে তলানিতে। রানে ফিরতে নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ান মুমিনুল। নেতৃত্বের ভার কাঁধে নেন দেশের ক্রিকেটের পোস্টারবয় সাকিব আল হাসান। ক্যাপ্টেন হিসেবে সাকিবের তৃতীয় যাত্রা শুরু হতে যাচ্চে আজ থেকে। শুধু তাই নয় অধিনায়ক হিসেবে সাকিবের প্রথম এবং দ্বিতীয় যাত্রাও এই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। প্রথম যাত্রায় তাদের মাটিতে সিরিজ জিতে শুভ সূচনা করেছিলেন সাকিব। ২০০৯ সালে জেতা সেই সিরিজই একমাত্র জয় তাদের মাটিতে। দ্বিতীয় যাত্রার শুরুটা হয়তো ভুলে যেতে চাইবেন আর আর তৃতীয় ও সম্ভবত শেষবারের মতো নেতৃত্বটা রাঙাতে চাইবেন নিশ্চই।

সূত্র : রাইজিংবিডি
এম এস, ১৬ জুন

Back to top button