ব্যবসা

সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশের নামে ৮২৭৫ কোটি টাকা

জাকির হোসেন

ঢাকা, ১৬ জুন – সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশি ব্যক্তি এবং ব্যাংকের নামে থাকা অর্থের পরিমাণ এক বছরে ৫৫ শতাংশ বেড়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশের নামে থাকা অর্থ বেড়েছে সবচেয়ে বেশি হারে।

বৃহস্পতিবার সেদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক (এসএনবি) বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে তাদের দায় ও সম্পদের পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। ‘ব্যাংকস ইন সুইজারল্যান্ড’ নামে এক প্রতিবেদনে ২০২১ সালের বার্ষিক ব্যাংকিং পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে সেদেশের ২৩৯টি ব্যাংক।

প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০২১ সাল শেষে বাংলাদেশের কাছে সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকের দায় রয়েছে ৮৭ কোটি ১১ লাখ সুইস ফ্রাঁ। বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি ফ্রাঁ ৯৫ টাকা ধরে) যার পরিমাণ দাঁড়ায় আট হাজার ২৭৫ কোটি টাকা। ২০২০ সালে যার পরিমাণ ছিল ৫৬ কোটি ২৯ লাখ সুইস ফ্রাঁ বা পাঁচ হাজার ৩৪৮ কোটি টাকা। ফলে আগের বছরের চেয়ে বাংলাদেশের নামে থাকা অর্থ অনেক বেড়েছে।

সুইস ব্যাংকে থাকা অর্থের একটি অংশ পাচার হয়ে থাকে বলে ধারণা করা হয়। তবে পাচার সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায় না। এমনকি গ্রাহক আমানত হিসাবে কার কত অর্থ আছে তাও জানা যায় না। সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক গোপনীয়তার স্বার্থে সব ডাটা সমন্বিতভাবে প্রকাশ করেছে। আলাদাভাবে কোনো গ্রাহক বা ব্যাংকের তথ্য নেই।

এসএনবির পরিসংখ্যান ঘেঁটে দেখা যায়, বাংলাদেশের নামে সে দেশের ব্যাংক ব্যবস্থায় মোট দায়ের মধ্যে ৮৪ কোটি ৪৫ লাখ ফ্রাঁ বা আট হাজার ২৩ কোটি টাকা এদেশের ব্যাংকগুলোর কাছে। অন্যদিকে গ্রাহক আমানত রয়েছে দুই কোটি ৬৩ লাখ ফ্রাঁ বা ২৫০ কোটি টাকা। এর বাইরে সম্পদ ব্যবস্থাপকের মাধ্যমে বিভিন্ন সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ রয়েছে সামান্য অর্থ।

প্রকাশিত পরিসংখ্যানে বাংলাদেশের কাছে সুইজারল্যান্ডের পাওনার তথ্যও রয়েছে, যা সেদেশের ব্যাংকগুলোর ‘সম্পদ’ হিসেবে দেখানো হয়েছে। বাংলাদেশের কাছে সুইজারল্যান্ডের পাওনা ৫৩ কোটি ৩২ লাখ ফ্রা বা পাঁচ হাজার ৬৫ কোটি টাকা।

বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর কাছে তাদের পাওনা ৪৯ কোটি ১০ লাখ ফ্রাঁ বা চার হাজার ৬৬৫ কোটি টাকা। অন্যদিকে বাংলাদেশি গ্রাহকদের সুইস ব্যাংকগুলো ঋণ দিয়েছে তিন কোটি ৯৪ লাখ ফ্রাঁ বা প্রায় ৩৭৫ কোটি টাকা।

এদিকে সুইস ব্যাংকে ভারত ও পাকিস্তানের অর্থও আগের বছরের চেয়ে ২০২১ সালে বেড়েছে। ভারতের নামে রয়েছে ৩৮৩ কোটি ফ্রাঁ, যা ২০২০ সালে ছিল ২৫৫ কোটি ফ্রাঁ। অন্যদিকে পাকিস্তানের কাছে দায় ৭১ কোটি ফ্রাঁ। আগের বছর যা ছিল ৬৪ কোটি ফ্রাঁ। তবে শ্রীলঙ্কা ও নেপালের নামে থাকা অর্থের পরিমাণ কমেছে।

সূত্র: সমকাল
এম ইউ/১৬ জুন ২০২২

Back to top button