জাতীয়

পদ্মা সেতু প্রকল্পে ঢাকাবাসী পাচ্ছে বাড়তি বিদ্যুৎ

মারুফ রেজা

ঢাকা, ১৬ জুন – দেশের দক্ষিণাঞ্চলকে ৪০০ কেভি ট্রান্সমিশন বা সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করতে পদ্মা নদীর বুকে নির্মাণ করা হচ্ছে সাতটি টাওয়ার। পদ্মা সেতু প্রকল্পের আওতায় নির্মিত এসব টাওয়ারের কাজ শেষে হবে জুনের মধ্যেই। আর জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের পূর্ণ কাজ শেষ হবে নভেম্বরের মধ্যে। আর এর মাধ্যমে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের পুরো মাত্রায় বিদ্যুৎ নিয়ে আসা সম্ভব হবে রাজধানী ঢাকায়।

প্রমত্তা পদ্মার বুকে সারিবদ্ধ দাঁড়িয়ে বিদ্যুৎ টাওয়ার। নদীর বুকে বিদ্যুৎ টাওয়ার নির্মাণ নতুন কোনো খবর না হলেও খরস্রোতা পদ্মার বুকে বিদ্যুৎ টাওয়ার বসানো ছিল সেতুর মতোই চ্যালেঞ্জের।

এতদিন পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সুবিধা নেওয়ার বিষয়ে যে সংশয় ছিল সরকারের, তারও সাহস জুগিয়েছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু। কারণ, সেতু প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ হয়েছে টাওয়ারগুলো, যা পুরোপুরি শেষ হবে চলতি মাসের মধ্যেই।

পদ্মা বহুমুখী সেতুর প্রকল্প পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, এটা একটা জটিল কাজ। ১৯৭৮ সালের দিকে আরিচায় কোরিয়ানরা এ ধরনের একটা বড় প্রজেক্ট করেছে। এখানে আরও বড় কাজ, কারণ ৪০০ কেভি লাইন যাবে। এই নদীতে যেহেতু ৭-৮টা পিলার লাগবে, এর জন্য বড় ঠিকাধার পাওয়া যাবে না। পরে এটি আমরাই করে দেই।

পদ্মা সেতুর দুই কিলোমিটার ভাটিতে নির্মাণ করা সাতটির মধ্যে ইতোমধ্যে ৬টি প্ল্যাটফের্ম বুঝে নিয়েছে পদ্মা সেতু প্রকল্প কর্তৃপক্ষ, অন্যটির নির্মাণ কাজও প্রায় শেষের পথে।

শফিকুল ইসলাম বলেন, লোহার ব্রিজ দিয়ে নিয়ে যাওয়া গেলেও স্টিলের ব্রিজ দিয়ে এত হাই ভোল্টেজ নেওয়া যায় না। আমাদের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।

পদ্মা সেতু চালু হলে যে অর্থনৈতিক পরিবর্তনের কথা বলছেন বিশ্লেষকেরা, তাতে শতভাগ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সরকার; সফলতা আসবে সে প্রতিশ্রুতিতেও।

পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পদ্মা সেতুর পাশ দিয়ে তৈরি হচ্ছে বিদ্যুতের নতুন সঞ্চালন লাইন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলতি বছরের নভেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন হবে কাজ। এর সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট বাড়তি বিদ্যুতের সুবিধা পাবেন রাজধানীবাসী।

সূত্র : আরটিভি
এম এস, ১৬ জুন

Back to top button