কুমিল্লা

কুসিক নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন তিন মেয়রপ্রার্থী

কুমিল্লা, ১৫ জুন – কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) নির্বাচনে সকালেই ভোট দিয়েছেন নির্বাচনি মাঠে মূল প্রতিদ্বন্দ্বীতায় থাকা হেভিওয়েট তিন মেয়রপ্রার্থী। বুধবার সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত।

সকাল ৯ টার দিকে নগরীর ভিক্টোরিয়া কলেজ ভোটকেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী আরফানুল হক রিফাত এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী নিজাম উদ্দিন কায়সার।

ভোট প্রদান শেষে আরফানুল হক রিফাত সাংবাদিকদের ‘ভি’ চিহ্ন দেখান। এবং তিনি বলেন, আমি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। সকাল থেকেই কেন্দ্রে চমৎকার পরিবেশ দেখছি।

স্বতন্ত্র মেয়র পদপ্রার্থী নিজাম উদ্দিন কায়সার ইভিএমে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে বলেন, “সবেমাত্র একটি কেন্দ্রে গিয়েছি। তবে বয়ষ্কদের তো ইভিএম নিয়ে সমস্যা হয় আর ভোটগ্রহণ শ্লো হয়, দেখা যাক…।”

নগরীর হোচ্চামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে একই সময় ভোট দেন স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং সদ্য সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু।

ভোট প্রদান শেষে মনিরুল হক সাক্কু বলেন, ‘ভোটের পরিবেশ মোটামুটি সুষ্ঠুই দেখছি। তবে মেশিনগুলো ডিস্টার্ব করছে। মেশিনে টিপ দিলে (প্রতীকের) ছবি উঠছে না। প্রিসাইডিং অফিসারকে বিষয়টি জানিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘বৃষ্টি হচ্ছে; আবহাওয়া অনুকূল না থাকায় মানুষ কেন্দ্রে আসতে পারছে না। তবে ভোট সুষ্ঠুভাবে হলে জয়ী হব; জনগণের রায় যা হবে মেনে নেব।’

ইসি কর্মকর্তারা জানান, এদিন সকাল ৮টায় নির্ধারিত সময়েই এ নগরীর ১০৫টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে, যা একটানা বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলবে।

এদিকে নগরজুড়ে বাড়তি পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। ভোটকেন্দ্রের আশপাশের এলাকায় বাড়তি সতর্কতা রয়েছে।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ২৭টি ওয়ার্ডে ১ লাখ ১৭ হাজার ৯২ নারীসহ মোট ভোটার ২ লাখ ২৯ হাজার ৯২০ জন। এবার এ নির্বাচনে ৫ মেয়র প্রার্থী, ৯টি সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৩৬ নারী কাউন্সিলর প্রার্থী এবং ২৫টি ওয়ার্ডে ১০৮ কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সিটি করপোরেশনের ২৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২টি ওয়ার্ড ৫ ও ১০নং ওয়ার্ডে একক প্রার্থী থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দুজন কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন।

সিটি করপোরেশনের নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে জেলায় ১ হাজার ২৬০ আনসারসহ ৩ হাজার ৬০৮ জন পুলিশ সদস্য নিয়োগ করা হয়েছে।

জেলা পুলিশ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ৭৫টি চেক পোস্ট, স্ট্রাইকিং ফোর্স, ৫০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ৯ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, ১৫ প্লাটুন বিজিবি এবং র‌্যাব নিয়োগ করা হয়েছে।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার পর দুটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০১৭ সালের নির্বাচনে মোট ভোটার ছিল ২ লাখ ৭ হাজার ৫৬৬ জন। ভোট পড়েছিল ১ লাখ ৩২ হাজার ৬৯০। এর মধ্যে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপি প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু পেয়েছিলেন ৬৮ হাজার ৯৪৮ ভোট, আর আওয়ামী লীগের প্রার্থী আনজুম সুলতানার নৌকা পেয়েছিল ৫৭ হাজার ৮৬৩ ভোট।

এর আগে সিটি করপোরেশন গঠন হওয়ার পর ২০১২ সালের প্রথম নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছিলেন প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা অধ্যক্ষ আফজল খান। সেই নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে বিজয়ী হয়েছিলেন মনিরুল হক সাক্কু।

সূত্র : বাংলাদেশ জার্নাল
এম এস, ১৫ জুন

Back to top button