মধ্যপ্রাচ্য

গণকবরের দেশ ইরাক

বাগদাদ, ১৪ জুন – মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক উত্থান-পতন, রক্ত-সহিংসতা, বিদেশি আধিপত্য ও সন্ত্রাসবাদের কালো থাবার সবচেয়ে বড় সাক্ষী ইরাক। গত চার দশকের বেশি সময় ধরে দেশটি রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। পেট্রোডলারকে চ্যালেঞ্জ করায় ইরাকের সাবেক শাসক সাদ্দাম হোসেনকে উৎখাতে যুক্তরাষ্ট্র যে অভিযান শুরু করেছিল, তখন থেকে আজ অবধি রক্ষপাত চলছেই। মাঝখানে উত্থান ঘটে ইসলামিক স্টেটের মতো নৃশংস সন্ত্রাসী সংগঠনের। ইরাকে এসব রক্তপাতের অন্যতম ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ। দেশটির এমন কোনো অঞ্চল পাওয়া যাবে না, যেখানে মাটি খুঁড়ে মানুষের হাড়গোড় পাওয়া যাবে না। একের পর এক গণকবর পাওয়ার পরেও শেষ হচ্ছে না।

এখনো নিখোঁজ হওয়া মানুষদের গণকবর পাওয়া যাচ্ছে ইরাকের এখানে-সেখানে। এসব গণকবর খোঁড়ার প্রক্রিয়ায় ধীরগতি, নিখোঁজ মানুষের স্বজনদের ভোগান্তি, অসহায়ত্ব নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে এএফপি। প্রতিবেদনের শুরুতে নাজাফ শহরের কাছের একটি এলাকায় নতুন একটি গণকবর খোঁড়ার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, কাদার স্তর থেকে বের করে আনা হচ্ছে মানুষের মাথার খুলি, পায়ের হাড়। এভাবে গণকবর থেকে উদ্ধার হওয়া একের পর এক দেহাবশেষ জড়ো করা হচ্ছে। এগুলোর পরবর্তী গন্তব্য পরীক্ষাগার। সেখানে নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনদের কাছ থেকে সংগৃহীত ডিএনএ নমুনার সঙ্গে মেলানো হবে এগুলোকে। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা দেহাবশেষগুলোর পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া নিয়ে ব্যস্ত।

সাদ্দাম হোসেন ক্ষমতায় থাকাকালে ১৯৮০ সাল থেকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ায় ইরাক। ১৯৯১ সালে উপসাগরীয় যুদ্ধে জড়ায় ইরাক। এরপর ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন মিত্র জোটের অভিযান শুরু হয় ইরাকে। সবশেষ ২০১৭ সাল পর্যন্ত সন্ত্রাসীগোষ্ঠী আইএসের ত্রাস চলেছে। ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব দ্য রেডক্রস বলেছে, বছরের পর বছর ধরে চলা সহিংসতা ইরাককে আজ সর্বোচ্চসংখ্যক নিখোঁজ মানুষের দেশে পরিণত করেছে। নাজাফে গত মে মাসে ১ হাজার ৫০০ বর্গমিটারের একটি গণকবর খননের কাজ শুরু হয়। ওই গণকবরে প্রায় ১০০ মানুষের দেহাবশেষ আছে। তারা সবাই ১৯৯১ সালে সাদ্দামের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান করতে গিয়ে নিহত হয়েছিলেন। একটি নির্মাণকাজের প্রস্তুতি চলার সময় হঠাৎই গণকবরটি আবিষ্কার করে প্রোপার্টি ডেভেলপাররা। গণকবরের সন্ধান পাওয়ার পর নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনরা ডিএনএ নমুনা দিচ্ছেন প্রিয় মানুষটির দেহাবশেষ ফিরে পাওয়ার আশায়।

সূত্র: দেশ রূপান্তর
এম ইউ/১৪ জুন ২০২২

Back to top button