জাতীয়

পদ্মা সেতু উদ্বোধন: সুন্দরবন ও মোংলার চাহিদা বাড়বে

নূর ইসলাম রকি

খুলনা, ১৪ জুন – দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর নতুন দ্বার খুলবে খুলনাঞ্চলে। বিশ্বখ্যাত ম্যানগ্রোভ সুন্দরবনকে ঘিরে বাড়বে দেশি-বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা। সময় বাঁচাতে রাজধানীসহ খুলনাঞ্চলের ব্যবসায়ীরা ব্যবহার করবেন মোংলা বন্দর। ফলে উন্মোচন হবে আমদানি ও রপ্তানিতে নতুন মাইলফলক। পাশাপাশি স্বল্প খরচে দক্ষ শ্রমিক পাওয়ায় পোশাকশিল্প ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য এখন খুলনাঞ্চল।

একাধিক ব্যবসায়ীর সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, পদ্মা সেতু চালুর ফলে এ অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা অনেক সুবিধা পাবেন। এ অঞ্চলে তৈরি পণ্য অল্প সময়ে ও কম খরচে ঢাকার মার্কেটে পাঠানো সম্ভব হবে। বিশেষ করে বেনাপোল ও ভোমরা বন্দর থেকে খুলনাঞ্চলের ব্যবসায়ীদের আমদানি পণ্য সহজেই বিক্রি করা সম্ভব হবে।

খুলনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি কাজী আমিনুল হক =বলেন, এ অঞ্চলের বিভিন্ন ধরনের মাছ ও শাকসবজি রাজধানীসহ বিভিন্ন জায়গায় যায়। ফেরি পারাপারের কারণে এসব পণ্য এখন গন্তব্যে পৌঁছাতে বেশ সময় লাগে। পরিবহণ ব্যয়ও অনেক। পদ্মা সেতুর ফলে ব্যবসায়ীরা খুবই কম সময়ে এবং স্বল্প খরচে এসব শাকসবজি ও মাছ পাঠাতে পারবেন। এছাড়া বেনাপোল ও ভোমরা বন্দর দিয়ে পেঁয়াজসহ বিভিন্ন ফলমূল আমদানি করেন খুলনাঞ্চলের ব্যবসায়ীরা। এগুলো পচনশীল বলে অনেক ঝুঁকি থাকে। পদ্মা সেতু হওয়ায় ব্যবসায়ীদের সেই ঝুঁকি কমে গেল।

তিনি আরও বলেন, পদ্মা সেতুর ফলে রাজধানী থেকে মোংলা পোর্টের দূরত্ব কমবে। এ বন্দর ব্যবহারে আগ্রহী হবেন ব্যবসায়ীরা। বাড়বে মোংলা বন্দরের গতি। বিশেষ করে গাড়ির ব্যবসায়ীরা মাল খালাস করে খুবই কম সময়ে রাজধানীতে নিয়ে যেতে পারবেন। এছাড়া সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে খুলনাঞ্চলে পর্যটন শিল্পে ব্যাপক উন্নয়ন হবে। গতি আসবে হোটেল ও মোটেল ব্যবসায়।

এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইএবি) সভাপতি ও বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মুর্শেদী জানান, বাগেরহাটে নির্মাণাধীন খানজাহান আলী বিমানবন্দরের কাজ দ্রুত শেষ করার দাবি আমাদের। এক্ষেত্রে দেশের বিশিষ্ট ব্যবসায়ীরা মোংলাবন্দর ও বিমানবন্দরের সুবিধার কথা চিন্তা করে খুলনামুখী হবেন। এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে। এছাড়া শরীয়তপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, বাগেরহাটে পোশাকশিল্প স্থাপনে ব্যবসায়ীরা আগ্রহী হবেন। এ অঞ্চলে কম খরচে শ্রমিক সুবিধা পাওয়া যাবে। পাশাপাশি ব্যবসায়ীরা খুবই কম সময়েই রপ্তানি করতে পারবেন। দ্রুত খুলনাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানানো হবে। খুলনায় গ্যাস সরবরাহ হলে পোশাক খাতের ব্যবসায়ীদের আগ্রহ আরও বাড়বে।

তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে মোংলা বন্দরে ব্যস্ততা বেড়েছে। পদ্মা সেতু উদ্বোধন হওয়ার পর এ বন্দরকে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ বেছে নেবে। খুলনাকে আবার আগের শিল্পনগরী গড়ে তোলার জন্য আমরা সব চেষ্টা করব। চিংড়ি রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য কাজ করা হবে। নতুন উদ্যোক্তাদের আরও বেশি উৎসাহ দেওয়া হবে।

সূত্র : যুগান্তর
এম এস, ১৪ জুন

Back to top button