জাতীয়

বাংলাদেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ বাজেট আজ

ঢাকা, ০৯ জুন – আজ জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট। দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ এই বাজেটে রাষ্ট্র পরিচালনা ও উন্নয়নে ব্যয় বাড়ছে চলতি অর্থবছরের বাজেটের চেয়ে ৭৫ হাজার কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরের এই বাজেটের আকার ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকা।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ বাজেট ঘোষণা হতে যাচ্ছে। বাজেটে ব্যয় বাড়লেও তেমন বাড়েনি আয়। বাজেটে তাই ঘাটতিও বেড়েছে বড় আকারেই। এদিকে, ব্যয়ের হিসাবে বাজেট বাড়লেও জিডিপির বিবেচনায় বাজেটের আকার এবার কমছে ২ শতাংশ। জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হচ্ছে সাড়ে ৭ শতাংশ আর মূল্যস্ফীতি বেঁধে রাখা হবে সাড়ে সাড়ে ৫ শতাংশে।

আগামী বাজেটে মোট আয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪ লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকা।জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক আয়ের পরিমাণ হতে হবে ৩ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা। এনবিআর-বহির্ভূত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৮ হাজার কোটি টাকা। কর-বহির্ভূত রাজস্ব থেকে আসবে অবশিষ্ট আয়।

আগামী জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটের মোট আকার ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকা। যা মোট জিডিপির ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ। চলতি অর্থবছর বাজেটের আকার ধরা হয় ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা।

আগামী বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ থাকছে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৬৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে সর্বোচ্চ বরাদ্দ প্রাপ্ত খাত হতে চলেছে পরিবহন ও যোগাযোগ। অন্যদিকে বাজেটে অনুন্নয়ন খাতে ব্যয় ধরা হচ্ছে চার লাখ ৩২ হাজার কোটি টাকা । যা মোট বাজেট বরাদ্দের প্রায় ৬৪ শতাংশ।

অন্যদিকে করোনার প্রভাব কিছুটা কাটিয়ে ওঠা গেলেও তার পাশাপাশি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে অসস্থিতীশীল আন্তর্জাতিক বাজার এবং সর্বশেষ ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাওয়ায় দেশে ভোগ্যপণ্যের দাম আরো বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সার্বিক দিক বিবেচনা করে ভর্তুকি বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করার উদ্দেশ্যে বাজেটে প্রণোদনা ও ভর্তুকিতে বরাদ্দ থাকছে ৮৩ হাজার কোটি টাকা, যার যাবে কৃষি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে।

দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ এই বাজেটে ঘাটতিও হবে সর্বোচ্চই। ঘাটতির পরিমাণ ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬৪ কোটি টাকা, যা দেশের জিডিপির ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। এতো বিশাল অংকের ঘাটতি পূরনে বৈদেশিক ঋণ ও সহায়তা পাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯৫ হাজার ৪৫৮ কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ ব্যাংক খাত ঋণে পরিমাণ হবে ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা,অবশিষ্ট আসবে সঞ্চয়পত্রের ঋণ থেকে।

দেশের ইতিহাসের ৫১তম আর আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে ২৩তম এই জাতীয় বাজেট বর্তমান সরকারের মেয়াদকালে পূর্ণাঙ্গ শেষ বাজেট। বর্তমান সরকারের শেষ এই বাজেটে কর্মসংস্থান তৈরিসহ মানুষের আয় ও জীবনমান উন্নয়নকেই সবার উপরে স্থান দিতে চায় সরকার।

সূত্র : বাংলাদেশ জার্নাল
এম এস, ০৯ জুন

Back to top button