জাতীয়

পদ্মা সেতুর কারণে বিদেশি বিনিয়োগে আস্থা বাড়বে: জাপান রাষ্ট্রদূত

ঢাকা, ০৭ জুন – পদ্মা সেতুর কারণে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগে আরও আস্থা বাড়বে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি।

মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘ডিকাব টক’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এ মন্তব্য করেন রাষ্ট্রদূত।

রাষ্ট্রদূত বলেন, পদ্মা সেতুর মতো বড় অবকাঠামো নির্মাণে সাহস দেখিয়েছে বাংলাদেশ। পদ্মা সেতুর মতো বড় অবকাঠামোর কারণে জাপানের বিনিয়োগকারীদের ৬০ শতাংশ এ দেশে বিনিয়োগ করতে চায়। এ সেতুর ফলে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আরও আস্থার পরিবেশ তৈরি হবে।

ইতো নাওকি বলেন, জাপানি কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে আগের চেয়ে বেশি আগ্রহী। কারণ এখানকার সরকারের আরও সুসংগত নীতি রয়েছে যা বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করে এবং এর অর্থনীতি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বাংলাদেশে ব্যবসা করা জাপানের প্রায় ৭০ শতাংশ কোম্পানি আগামী দুই বছরের মধ্যে তাদের ব্যবসা কার্যক্রম বাড়াবে বলে আশা প্রকাশ করেন ইতো নাওকি।

টোকিওর সঙ্গে ঢাকার চাওয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দুই দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ফিজিবিলিটি সমীক্ষা করার জন্য অনুরোধ করেছে। বিষয়টি জাপানের বিবেচনাধীন আছে। আশা করি এ বছরের মধ্যে আমরা এ বিষয়ে আলোচনা শুরু করতে পারব।

রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে জাপান। এর মধ্যে মেট্রোরেল একটি। ডিসেম্বরে এর প্রথম ফেস চালু হবে। মেট্রোরেল চালু হলে এ শহরের মানুষ স্বস্তিতে চলাচল করতে পারবে।

বাংলাদেশে রাডারসহ প্রতিরক্ষাসামগ্রী বিক্রিতে জাপানের মিতসুবিশি ইলেকট্রিক কোম্পানি আগ্রহী বলে জানান রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাপান বাংলাদেশের কাছে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিক্রি করতে আগ্রহী। বিমান বাহিনীর জন্য প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, বিশেষ করে রাডার কেনার আগ্রহের মাত্রা বুঝতে জাপানের একটি বেসরকারি কোম্পানি মিতসুবিশি ইলেকট্রিকস বাংলাদেশ সফর করেছে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ তার প্রতিরক্ষা ক্রয়ে বৈচিত্র্য আনছে। অন্যদিকে জাপানও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিক্রির ক্ষেত্রে তার বিধি-বিধান শিথিল করেছে। জাপান ইতিমধ্যে ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন এবং আসিয়ান দেশগুলোতে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানি করছে।

সংখ্যায় কম হলেও বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরু করাটা জরুরি বলে মনে করছেন জাপানের রাষ্ট্রদূত। রাষ্ট্রদূত বলেন, জাপান রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান চায়। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরু করাটা জরুরি।

ইতো নাওকি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের কারণে এ অঞ্চলের জন্য অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে পারে। তাই এ সংকট সমাধানে আমাদের আরও সমন্বিত পদ্ধতির প্রয়োজন। মিয়ানমারে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, আটক নেতাদের মুক্তি এবং রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতির উন্নতিতে জোর দেওয়া উচিত, যাতে রোহিঙ্গারা ফিরে যেতে পারে।

ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ডিকাব) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে ডিকাব সভাপতি রেজাউল করিম লোটাস ও সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মঈনউদ্দীন বক্তব্য রাখেন।

সূত্র : বাংলাদেশ জার্নাল
এম এস, ০৭ জুন

Back to top button