টলিউড

কাস্টিং কাউচের তিক্ত অভিজ্ঞতা জানালেন ইন্দ্রাণী হালদার

কলকাতা, ০৪ জুন – শোবিজ অঙ্গনের ঝলমলে জগতের আড়ালে থাকে অনেক অজানা অধ্যায়। সিনেমা জগতে এসে অভিনয়শিল্পীদের নানারকম হেনস্তার শিকার হতে হয়। ২০১৮ সালে শুরু হওয়া ‘মিটু’ আন্দোলনের পর থেকে হলিউড, বলিউডের অনেকেই এ নিয়ে কথা বলছেন।

টলিউডের প্রখ্যাত অভিনেত্রী ইন্দ্রাণী হালদার। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য সিনেমা ও ধারাবাহিকে কাজ করেছেন। শুধু বাংলাতেই নয়, হিন্দি টেলিভিশনেও সফল ইন্দ্রাণী হালদার। বেশ কিছু হিন্দি সিনেমাতেও কাজ করেছেন তিনি।

ভারতের জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত এই অভিনেত্রী এবার কাস্টিং কাউচ নিয়ে তার তিক্ত অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন। শুক্রবার (৩ জুন) কলকাতায় ‘উন্মেষ’ নামক একটি আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তা হিসেবে ছিলেন ইন্দ্রাণী হালদার। এই অনুষ্ঠানেই নিজের জীবনের এই বীভৎস অভিজ্ঞতার কথা জানান তিনি।

অভিনেত্রী বলেন, ‘তখন আমার ২০ বছর বয়স বম্বে গিয়েছিলাম একটা সিনেমা করতে, একদম জীবনের প্রথমদিকের সিনেমা। সেই সময় আমি এক সাংঘাতিক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হই। সেই সিনেমার প্রযোজক হোটেলে আমার রুমে এসে খারাপ প্রস্তাব দেন। রীতিমত শারীরিকভাবে ঘনিষ্ঠ হওয়ার কুপ্রস্তাব দেন। আমি বারবার করে বলেছিলাম, এটা করবেন না প্লিজ। আমি এভাবে কখনও কাজ পাইনি, পেতে চাইও না।’

এ কথা শুনে ওই প্রযোজক ইন্দ্রাণীকে বলেছিলেন, ‘তুম বাঙালি লাড়কিয়ো কা কুছ নাহি হোগা’ (তোমাদের বাঙালি মেয়েদের এইজন্য কিছু হয় না)।

সেই প্রযোজক ইন্দ্রাণীকে ওইদিন বলেন, বড় বড় হিরোইন তার পায়ের তলায়। জবাবে ইন্দ্রাণী সেদিন দৃপ্ত কণ্ঠে বলেন, ‘হতে পারে বড় বড় হিরোইন আপনার পায়ের তলায়। কিন্তু আমি এভাবে কাজ করিনি, আমাকে কলকাতা থেকে ডেকে এনে কাজ দিয়েছেন, কোনো সমঝোতা বা কম্প্রোমাইজ আমি করবো না।’

অনুষ্ঠানে ইন্দ্রাণী জানান, ‘ওই প্রযোজক আমাকে রীতিমত সেদিন জোর করতে থাকেন। তবে সেদিন আমায় বাঁচিয়েছেন ঈশ্বর। প্রযোজক তখন নিজের জামাকাপড় খুলতে শুরু করেছেন, সেই মুহূর্তে তার স্ত্রীর ফোন চলে আসে, আমি দৌড়ে দরজা খুলে ফেলি। জোরে জোরে কাশতে থাকি যাতে আমার গলাটা ফোনের ওপারে থাকা প্রযোজকের বউ শুনতে পান।এরপর হোটেল রুম থেকে চলে যান নামকরা ওই প্রযোজক। তিনি কিছু করতে পারেননি আমার। আমি আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছি। আসলে ২০ বছর বয়সে সেদিনের সেই ঘটনা পরবর্তীকালে আমাকের দহনের ঝিনুক হতে সাহায্য করেছিল। ওই প্রযোজকের নামটা নিলাম না কারণ উনি আর বেঁচে নেই। তবে পরবর্তীকালে যখনই ওনার মুখোমুখি হয়েছি উনি কোনোদিন চোখ তুলে আমার দিকে তাকাতে পারেননি।’

সিনেমা বা প্রযোজকের নাম না নিলেও ইন্দ্রাণী জানান, ওই সিনেমায় তার নায়ক ছিলেন বাঙালি।

এম এস, ০৪ জুন

Back to top button