কুমিল্লা

কুসিক নির্বাচন: সব ছাড়িয়ে কথার লড়াই

কুমিল্লা, ০৩ জুন – জমে উঠেছে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। সময়ের সাথে সাথে বাড়ছে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগও। শুক্রবার প্রচারণার অষ্টম দিনে মেয়র প্রার্থী সাক্কু, রিফাত ও কায়সারের ত্রিমুখী কথার লড়াইয়ে উত্তপ্ত করেছে নগর রাজনীতিকে। দুই লাখ ত্রিশ হাজার ভোটারের মন জয় করতে ঘুম হারাম করে প্রচারণা চালাচ্ছেন মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা।

এদিকে নির্বাচনে পাঁচজন মেয়রপ্রার্থীর মধ্যে নগরজুড়ে আলোচনায় রয়েছেন তিনজন। নৌকার মাঝি মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরফানুল হক রিফাত, সাবেক বিএনপি সমর্থিত মেয়র (বর্তমান স্বতন্ত্র) ঘুড়ি প্রতীকের প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু ও আরেক বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী নিজাম উদ্দিন কায়সার। তারা একে অপরের দিকে ছুরছেন নানা অভিযোগের তীর।

আওয়ামী লীগের মনোনিত প্রার্থী শুক্রবার সকালে নগরীর জাঙ্গালিয়া এলাকায় প্রচারণা চালান। সেখানে তিনি সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে সাক্কুকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘আমি যদি তার দুর্নীতির প্রমাণ করতে না পারি, মেয়র প্রার্থীতা থেকে পদত্যাগ করবো। এর সাথে নির্বাচিত হতে পারলে সাক্কুর দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করবো।’

এছাড়া শুক্রবার নামাজের আগে ২০ নং ওয়ার্ডের দিশাবন্ধ এলাকায় প্রচারণা চালান সাবেক মেয়র ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু। নৌকার প্রার্থী রিফাতের অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি দীর্ঘ ৯ বছর ক্ষমতায় ছিলাম। তখন তিনি (নৌকার প্রার্থী) কেনো দুর্নীতির অভিযোগ তোলেননি। উনি মারামারির হুমকি দেন। উনি যদি এমন করতে চান তাহলে আসুক নির্দিষ্ট কোনো মাঠে। দেখা যাবে কার ক্ষমতা কতো।’

এদিকে আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী নিজাম উদ্দিন কায়সার আজ নির্বাচনী প্রচারণা চালান নগরীর ১৩ নং ওয়ার্ড থীরা পুকুরপাগ মসজিদ এলাকায়। তিনি বলেন, ‘প্রচার-প্রচারণাকালে আমার লোকদের হুমকি দিচ্ছে নৌকার কর্মীরা। আমি এই বিষয়টিসহ সাতটি অভিযোগ দিয়েছি নির্বাচন কমিশনে। তার একটিরও প্রতিফলন দেখছি না।’

অন্যদিকে, ১৫ জুন অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে কে হতে যাচ্ছেন নগরপিতা, এমন প্রশ্নে সাধারণ ভোটাররা বলছেন, আগামীর কুমিল্লার তিন প্রধান সমস্যা মাদক, জলাবদ্ধতা ও যানজট নিরসনে যারা কাজ করবেন, তাদেরই বেছে নেবে জনগণ।

উল্লেখ্য, কুলিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণার শেষ দিন ১৩ জুন। আগামী ১৫ জুন অনুষ্ঠিত হবে নির্বাচন। ২৭টি ওয়ার্ডের ১০৫টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে ভোট।

কুমিল্লা সিটিতে সর্বশেষ ভোট হয়েছিল ২০১৭ সালের ৩০ মার্চ। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি দায়িত্ব নেয়ার পর সে বছরের ১৭ মে প্রথম সভা হয়। তাদের পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে চলতি বছরের ১৬ মে।

দুটি পৌরসভা নিয়ে ২০১১ সালের জুলাই মাসে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন গঠিত হওয়ার পর এ পর্যন্ত দুটি নির্বাচন হয়েছে। ১০ বছর আগে প্রথম নির্বাচন নির্দলীয় প্রতীকে হলেও ২০১৭ সালে দলীয় প্রতীকে মেয়র নির্বাচন হয়। দুই নির্বাচনেই ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীকে পরাজিত করে জয়ী হয় বিএনপির প্রার্থী।

সূত্র : বাংলাদেশ জার্নাল
এম এস, ০৩ জুন

Back to top button