জানা-অজানা

বিশ্বে করোনায় কমেছে মৃত্যু ও সংক্রমণ

ঢাকা, ০৩ জুন – গত একদিনে সারা বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১ হাজার ৩৩২ জন। নতুন মৃত্যু নিয়ে বিশ্বজুড়ে মোট মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে ৬৩ লাখ ১৭ হাজার ২৫৫ জনে।

একই সময়ের মধ্যে ভাইরাসটিতে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৫ লাখ ৩৬ হাজার ৫৭১ জন। এতে মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত ভাইরাসে আক্রান্ত মোট রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৩ কোটি ৩৯ লাখ ৮৩ হাজার ৪৫১ জনে।

অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে ৪ জন এবং অর্থাৎ নতুন শনাক্ত রোগীর সংখ্যা কমেছে প্রায় ১৮ হাজার।

শুক্রবার (৩ জুন) সকালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত, মৃত্যু ও সুস্থতার হিসাব রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারস থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

এদিকে গত একদিনে বিশ্বে করোনায় সবচেয়ে বেশি সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে উত্তর কোরিয়ায়। এই সময়ের মধ্যে দেশটিতে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৯৬ হাজার ৬১০ জন। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে পূর্ব এশিয়ার এই দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৩৮ লাখ ৩৫ হাজার ৪২০ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং ৭০ জন মারা গেছেন।

অন্যদিকে দৈনিক প্রাণহানির তালিকায় শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত একদিনে এই দেশটিতে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৮২ হাজার ৮৬৯ জন এবং মারা গেছেন ২১৬ জন। করোনাভাইরাসে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এই দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৮ কোটি ৬২ লাখ ৭১ হাজার ২৫৬ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং ১০ লাখ ৩২ হাজার ৮৬২ জন মারা গেছেন।

জার্মানিতে গত একদিনে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৭ হাজার ৩৯৬ জন এবং মারা গেছেন ১২৬ জন। করোনা মহামারির শুরু থেকে ইউরোপের এই দেশটিতে এখন পর্যন্ত ২ কোটি ৬৪ লাখ ৬৯ হাজার ৫৩১ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬১৬ জন মারা গেছেন।

রাশিয়ায় গত একদিনে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৮৫ জন এবং নতুন করে ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন ৪ হাজার ২৬২ জন। এছাড়া মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১ কোটি ৮৩ লাখ ৩৯ হাজার ৭৭৬ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৩ লাখ ৭৯ হাজার ২৮৫ জনের।

ফ্রান্সে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ২৫ হাজার ৩৬৫ জন এবং মারা গেছেন ৪১ জন। করোনা মহামারির শুরু থেকে দেশটিতে এখন পর্যন্ত ২ কোটি ৯৫ লাখ ৭০ হাজার ৭৬২ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং ১ লাখ ৪৮ হাজার ৪২৬ জন মারা গেছেন। একইসময়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৯৭০ জন এবং মারা গেছেন ৩১ জন।

গত একদিনে দক্ষিণ কোরিয়ায় নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৯ হাজার ৮৯৮ জন এবং মারা গেছেন ১৫ জন। করোনা মহামারির শুরু থেকে পূর্ব এশিয়ার এই দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৮১ লাখ ২৯ হাজার ৩১৩ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং ২৪ হাজার ২১২ জন মারা গেছেন। একইসময়ে থাইল্যান্ডে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৫৬০ জন এবং মারা গেছেন ৩৪ জন।

ইতালিতে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১৭ হাজার ১৯৩ জন এবং মারা গেছেন ৭৯ জন। করোনা মহামারির শুরু থেকে ইউরোপের এই দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৭৪ লাখ ৫৭ হাজার ৯৫০ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং ১ লাখ ৬৬ হাজার ৮৩৫ জন মারা গেছেন। একইসময়ে জাপানে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ২২ হাজার ৬৫৫ জন এবং মারা গেছেন ৩৫ জন।

লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিল করোনায় আক্রান্তের দিক থেকে তৃতীয় ও মৃত্যুর সংখ্যায় তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১৩০ জন এবং নতুন করে সংক্রমিত হয়েছেন ৪১ হাজার ২৭৩ জন। অপরদিকে মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৩ কোটি ১১ লাখ ১ হাজার ২৯০ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৬ লাখ ৬৬ হাজার ৯৭৮ জনের।

করোনায় আক্রান্তের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে প্রতিবেশী দেশ ভারত। তবে ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যার তালিকায় দেশটির অবস্থান তৃতীয়। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে নতুন করে করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন ৩ হাজার ৮৬১ জন। মহামারির শুরু থেকে দেশটিতে এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৪ কোটি ৩১ লাখ ৬৯ হাজার ৫৯৯ জন এবং মারা গেছেন ৫ লাখ ২৪ হাজার ৬৪১ জন।

তাইওয়ানে গত একদিনে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১৪৪ জন এবং নতুন করে ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন ৭৬ হাজার ৯৮৬ জন। এছাড়া ফিনল্যান্ডে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ১৩ হাজার ১৮ জন এবং মারা গেছেন ১০৫ জন।

এছাড়া গত একদিনে অস্ট্রেলিয়ায় নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৪ হাজার ৯৮৫ জন এবং মারা গেছেন ৫৬ জন। একই সময়ে নিউজিল্যান্ডে নতুন করে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ৮ হাজার ১ জন এবং মারা গেছেন ১১ জন। কানাডায় নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৫ হাজার ৫০১ জন এবং মারা গেছেন ১২২ জন।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এরপর ২০২০ সালের ১১ মার্চ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) করোনাকে ‘বৈশ্বিক মহামারি’ হিসেবে ঘোষণা করে। এর আগে একই বছরের ২০ জানুয়ারি বিশ্বজুড়ে জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করে সংস্থাটি।

এম এস, ০৩ জুন

Back to top button