ইউরোপ

রাশিয়ার অর্থদাতা কারা

মস্কো, ০২ জুন – যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্ররা গত মার্চে রাশিয়ার ওপর হাজার খানেক নিষেধাজ্ঞা জারি করে। হোয়াইট হাউজে দাঁড়িয়ে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন জানান, তার প্রশাসন পুতিনের যুদ্ধের চালিকাশক্তিকে বড় ধাক্কা দিতে চায়। কিন্তু সত্যিই কি বাইডেন তার কথামতো রাশিয়াকে বড় ধাক্কা দিতে পেরেছেন, এমন প্রশ্ন ঘুরে ফিরছে বিশ্লেষকদের মধ্যে। ইউক্রেনে রাশিয়ার বিশেষ অভিযানের ১০০তম দিনে এসে দেখা যাচ্ছে, রাশিয়া এখন আগের চেয়ে আরও বেশি আগ্রাসী ইউক্রেনে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, চলতি বছর তেল ও গ্যাস বিক্রি করে দিনে গড়ে ৮০০ মিলিয়ন ডলার উপার্জন করেছে রাশিয়া। আর এই বিপুল পরিমাণ অর্থের একটা বড় অংশই ব্যয় হচ্ছে ইউক্রেন যুদ্ধে। বছরের পর বছর ধরে নীরবে রাশিয়া বিশ্বের অনেক দেশের বিবিধ পণ্যের চাহিদা মিটিয়ে আসছে। এই চাহিদার মধ্যে শুধু জ্বালানি নয়; গম, নিকেল, অ্যালুমিনিয়াম, প্যাল্লাডিয়াম ছাড়াও আরও অনেক কিছু রয়েছে। ইউক্রেনে রুশ বিশেষ অভিযানের কারণে এসব পণ্য রপ্তানিতে অসুবিধার মুখে পড়েছে মস্কো। অবশ্য রপ্তানি করতে না পেরে যতটা সংকটে পড়েছে মস্কো, তার চেয়েও বেশি সংকটে রয়েছে আমদানিকারক দেশগুলো। ইতিমধ্যে অধিকাংশ দেশেই খাবারের দাম বাড়তে শুরু করেছে। গাড়িসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক পণ্যের দাম প্রতিদিন বাড়ছে। সর্বশেষ খবর অনুসারে, পাকিস্তানে এক লিটার ভোজ্যতেলের দাম ঠেকেছে ৬০৫ রুপিতে।

প্রকৃতপক্ষে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা রাশিয়াকে খুব একটা কাবু করতে পারেনি। কারণ দীর্ঘদিন ধরেই রাশিয়া আমদানি ও রপ্তানির সামঞ্জস্যের মাধ্যমে নিজেদের অর্থনীতির বিকাশকে নিয়ন্ত্রিত করে রেখেছে। পশ্চিমা অবরোধের কারণে বহু বিদেশি কোম্পানি রাশিয়ার মাটিতে তাদের বিলিয়ন ডলারের সম্পদ রেখে বা বিক্রি করে চলে গেছে। শুরুতে মনে করা হয়েছিল, এই ধাক্কা সামলে উঠতে পারবে না রাশিয়া। কিন্তু তেল-গ্যাসে আংশিক নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার কারণে ডলারের বিপরীতে রুবলের দর বেড়ে যায়। আর এতে আগের তুলনায় রাশিয়ার আয় বেড়ে গেছে কয়েকগুণ।

রাশিয়া বছরে তেল-গ্যাস বিক্রি করে কমপক্ষে ২৮৫ বিলিয়ন ডলার আয় করে। ২০২১ সালে এই আয় এক-তৃতীয়াংশ বেড়ে গিয়েছিল। বিদেশি ব্যাংকে রাখা ৩০০ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ জব্দ করার পরেও তাই রাশিয়ার তেমন ক্ষতি হয়নি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা জানেন যে, তাদের উচিত রুশ তেল-গ্যাস কেনা বন্ধ করে দেওয়া। কিন্তু তারা কিছু ক্ষেত্রে অসহায়। বিশ্লেষকরা বলছেন, সমুদ্রপথে তেল-গ্যাস কেনার ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়ন যে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, তাতে ক্ষতির সম্মুখীন হতে যাচ্ছে খোদ ইউরোপই। ইউরোপের দুয়ারে ভয়ানক পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে বলে অর্থনীতিবিদরা মনে করেন। অর্থনৈতিক চাপে আছে যুক্তরাষ্ট্রও। দেশটিতে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় মুদ্রাস্ফীতি চলছে। রুশ তেল কেনা বন্ধ করে দেওয়ায় ইতিমধ্যেই দেশটিতে তেলের দাম বেড়ে গেছে। জনগণের করের টাকায় ভর্তুকি দিতে হচ্ছে বাইডেন প্রশাসনকে। বাজার স্থিতিশীল রাখতে নিজেদের তেলের রিজার্ভেও হাত দিতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ইউরোপ যদি সত্যিই পুরোপুরি রুশ তেল-গ্যাস কেনা বন্ধ করে দেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কি সেই ঘাটতি পূরণ করতে পারবে কিনা, এমন সংশয় রয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতাদের মধ্যেই। হাঙ্গেরির নেতা ভিক্টর অরবান তাই রুশ তেলে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার বিপরীতে অবস্থান নিয়েছেন।

সূত্র: দেশ রূপান্তর
এম ইউ/০২ জুন ২০২২

Back to top button