ফুটবল

মার্কোস সেনেসি: যাকে চেয়েছিল আর্জেন্টিনা-ইতালি দুই দলই

আর্জেন্টিনা ও ইতালির ‘ফাইনালিসিমা’ সামনে রেখে এক অদ্ভুত অবস্থানে দাঁড়াতে হয়েছিল মার্কোস সেনেসিকে। লন্ডনের ওয়েম্বলিতে হতে যাওয়া ম্যাচে দুই দলই তাকে নিজেদের দলে খেলাতে চেয়েছিল!

আন্তর্জাতিক ফুটবলে এখনও খেলা হয়নি ২৫ বছর বয়সী সেন্টার ব্যাকের। দক্ষিণ আমেরিকান ও ইউরোপ চ্যাম্পিয়নের এই লড়াইয়ের আগে এই আনক্যাপড ফেনুর্ড ডিফেন্ডারকে শুধু লিওনেল স্কালোনিই দলে অন্তর্ভুক্ত করেননি।

ইতালির প্রধান কোচ রবার্তো মানচিনিও তাকে দেশের সবশেষ ‘ওরিউন্দি’ হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। মানে ইতালির বংশধর, কিন্তু জন্মসূত্রে অন্য দেশের খেলোয়াড়। ওমর সিভোরি, হাম্বার্তো মাসশিও ও সবশেষ ২০০৬ সালের বিশ্বকাপ জয়ী মাউরো কামোরানেসির মতো পথ অনুসরণ করে জন্মভূমি ছাপিয়ে সেনেসিও আজ্জুরিদের প্রতিনিধিত্ব করবেন এমন প্রত্যাশা ছিল মানচিনির।

কিন্তু আর্জেন্টিনা ফেলেছে স্বস্তির নিশ্বাস, সেনেসিকে পেয়েছে তারাই। সম্ভবত এই সিদ্ধান্ত নেওয়া তার জন্য সহজ করে দিয়েছে আলবিসেলেস্তেদের সাম্প্রতিক সময়ের দুর্দান্ত ফর্ম। ২০১৯ সালের জুলাই থেকে অপরাজেয় যাত্রায় আর্জেন্টিনা জিতেছে কোপা আমেরিকা এবং বিশ্বকাপও নিশ্চিত করে ফেলেছে। অন্যদিকে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি ইতালি।

পরিবার ইতালির হওয়ায় ইতালিয়ান পাসপোর্টও আছে সেনেসির কাছে। কিন্তু নিজ জন্মভূমির প্রতি আনুগত্য নিয়ে কোনোদিন সংশয়ে ছিলেন না। ওলে’কে তিনি ব্যাখ্যা দিলেন, ‘এটা সত্যিই দারুণ ব্যাপার যে দুটি জাতীয় দল আপনাকে চায়। আমি আনন্দিত কারণ এর মানে হলো আমি ভালো করছি।’

মানচিনির কাছ থেকে প্রস্তাব পাওয়ার কথা সত্যি বললেন সেনেসি, ‘ইতালির বিষয়টি ছিল সত্যি। মানচিনির সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছিল, তিনি আমাকে এই প্রজেক্টের কথা বলেছিলেন। কিন্তু আমি আর্জেন্টিনা কোচিং টিমের সঙ্গেও কথা বলেছি, ওই আলাপে আমি তাদের জানিয়েছিলাম আমার দেশের হয়ে খেলার কতটা তাড়না কাজ করছে। সিদ্ধান্ত একদম চূড়ান্ত। গত বছর আমার সুযোগ পাওয়ার কথা ভেবেই আমি ঘুমাতে যাচ্ছিলাম।’

এই তরুণ সেন্টার ব্যাককে নিয়ে মানচিনি ও স্কালোনির কেন এতটা আগ্রহ, তা বুঝতে কষ্ট হওয়ার কথা নয়।

সান লরেঞ্জোর অ্যাকাডেমি থেকে গ্র্যাজুয়েট সেনেসি, যেখানে ১২ বছর বয়সে যোগ দিয়েছিলেন। জন্মশহর কনকোর্ডিয়া থেকে চলে যান সেখানে। ২০১৬ সালে প্রথম দলে অভিষেক হয় এবং বুয়েন্স আয়ার্সের প্রথম একাদশে দ্রুত নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

তিন বছর পর ফেনুর্ড তাকে ৭০ লাখ ইউরোতে চুক্তি করে। সেনেসির অগ্রগতিতে বেশ উপকারী প্রমাণিত হয়েছে এরেডিভিসি ক্লাবটি। ঠিক যেমন আয়াক্সের দুই ডিফেন্ডার নিকোলাস তাগলিয়াফিকো ও লিসান্দ্রো মার্তিনেজ আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের নজরে এসেছেন।

ফেনুর্ডের ব্যাকলাইনে দারুণ প্রতিভা দেখান সেনেসি। তার ধারাবাহিক শক্তিশালী পারফরম্যান্সে লিগে তৃতীয় স্থানে শেষ করায় সামনের ইউরোপা লিগে জায়গা পেয়েছে দলটি। ক্লাবের ৩৪ লিগ ম্যাচ খেলেছেন সেনেসি। তার দল গোল খেয়েছে মাত্র ৩৪টি। লিগে আয়াক্সের পর ফেনুর্ডের ডিফেন্সই ছিল দ্বিতীয় সেরা।

নতুন উয়েফা কনফারেন্স লিগেও সেনেসির ফেনুর্ড উঠেছিল ফাইনালে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে রোমার কাছে ১-০ গোলে হেরে যায় দল।

এই আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডারকে নাকি আগের মৌসুমে নিতে চেয়েছিল রোমা। ইনজুরি আক্রান্ত ক্রিস স্মলিংয়ের জায়গায়। এত এত নজর যার দিকে, তিনি প্রথমবার জাতীয় দলের জার্সি পরলে নিশ্চিতভাবে নিজের সর্বোচ্চটুকু দিবেন। এখন দেখার অপেক্ষা জন্মভূমির হয়ে খেলার স্বপ্ন পূরণ হয় কি না।

সূত্র : রাইজিংবিডি
এম এস, ০১ জুন

Back to top button