সংগীত

শেষ পোস্টে বলেছিলেন জীবনের স্পন্দনের কথা, তার পরেই থেমে গেল কেকে-র হৃদস্পন্দন

মুম্বাই, ০১ জুন – ভারতের বিখ্যাত সংগীতশিল্পী কৃষ্ণকুমার কুন্নাথ। সবাই তাকে কেকে নামেই বেশি চেনেন ও জানেন। একটি কনসার্টে গান গাইতে গাইতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে গতকাল মৃত্যুবরণ করেছেন তিনি। তার মৃত্যুতে যেন আকাশ ভেঙে পড়ল ভারতের সংগীত ও চলচ্চিত্রজগতে।

খবরটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। তাতে বলিউডপ্রেমীরা বিষাদে ডুবেছেন। অনেক তারকা কেকের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন সামাজিক মাধ্যমগুলোতে।

এদিকে কেকের ভেরিফায়েড ফেসবুকেও ঢুঁ মারছেন অনেকে। পেজটা ঘুরে ঘুরে যেন শিল্পীকেই হৃদয় দিয়ে স্পর্শ করতে চাইছেন তার ভক্ত অনুরাগীরা। গায়কের নানা পোস্টে গিয়ে লিখছেন নানা রকম মন্তব্য। যার পরতে পরতে মিশে আছে আবেগ ও ভালোবাসা। আছে অকালেই প্রিয় তারকাকে হারিয়ে ফেলার আক্ষেপ, বিষাদ।

তার ফেসবুক পেজে দেখা গেল কলকাতায় গাইতে আসবেন তিনি এ নিয়ে তার উৎসাহের শেষ ছিল না। দিল্লিতে বড় হয়ে ইংরেজি ও হিন্দি ভাষার গানে মনযোগী হন, পরবর্তীতে হিন্দি গানের জনপ্রিয় তারকা হয়ে উঠেন কেকে। তবে বাংলাতেও বেশ কিছু গান গেয়ে হিট হয়েছিলেন তিনি। জনপ্রিয়তা পেয়েছেন কলকাতার শ্রোতাদের কাছেও। সেই শ্রোতাদের সামনে গান করার সুযোগ পেয়ে ছুটে আসেন তিনি।

ভক্তরাও তাকে হতাশ করেনি। কলকাতার কনসার্টগুলোতে উপচে পড়া ভিড় ছিল। প্রিয় শিল্পীর গান শুনতে ও তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা দিতে ঝাঁকে ঝাঁকে শ্রোতারা এসেছিলেন। কলকাতার নজরুল মঞ্চে অনুষ্ঠিত সেইসব কনসার্টের ছবি পোস্ট করেছিলেন কেকে। সেগুলোই ছিল তার জীবনের শেষ স্মৃতি। ছবিগুলোর ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, ‘নজরুল মঞ্চে আজ রাতে স্পন্দিত হলো। বিবেকন্দা কলেজ। সবাইকে ভালোবাসা।’

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার, ৩১ মে কলকাতায় গুরুদাস কলেজের এক অনুষ্ঠানে পারফর্ম করেন কেকে। সেখানে গান গাওয়ার সময় অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি হোটেলে চলে যান। পরে সেখান থেকে কলকাতা সিএমআরআই হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকদের ধারণা, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই এ শিল্পীর মৃত্যু হয়েছে।

কেকের মৃত্যুতে শোকের ছাড়া নেমে এসেছে ভারতের সংগীত ও চলচ্চিত্র জগতে। গত তিন দশকে ভারতীয় সংগীত প্রেমীদের বহু হিট গান উপহার দিয়েছেন কেকে। তার ছেলেবেলা কাটে নয়াদিল্লিতে। তিনি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাস করে। পরে তিনি পা রাখেন বলিউডের গ্ল্যামার দুনিয়ায়।

এম ইউ/০১ জুন ২০২২

Back to top button