সংগীত

কেকে’র মৃত্যুতে তোপের মুখে রূপঙ্কর

মুম্বাই, ০১ জুন – বলিউডের তারকা গায়ক কেকে’র মৃত্যুর পর কলকাতার শিল্পী রূপঙ্কর বাগচির শেয়ার করা ভিডিও এখন ভাইরাল। যেখানে রূপঙ্কর ‘কেকে কে’ এ প্রশ্ন তুলেছিলেন। সঙ্গে নিজেকে প্রয়াতের চেয়ে ভালো গায়ক হিসেবেও দাবি করেছিলেন।

রূপঙ্করের এ ভিডিও নিয়ে আগে থেকেই আপত্তি ছিল। কিন্তু মঙ্গলবার রাতে কেকে’র প্রয়াণে তা বড় আকার ধারণ করেছে। কেউ কেউ তো রূপঙ্করের বিচার-বুদ্ধিকেই প্রশ্নের মুখে ফেলেছেন। কারো দাবি, ‘অভিশাপ দিয়েছিল রূপঙ্কর’।

সেলিব্রিটিদের অনেকেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। যেমন; অভিনেতা ভাস্বর চট্টোপাধ্যায় এ গায়ককে বিতর্কিত রাজনীতিবিদ বিজেপির দিলীপ ঘোষের সঙ্গে তুলনা করলেন। ফেসবুক পোস্টে লিখলেন, ‘আজ থেকে রূপঙ্কর বাবুর নাম দিলীপ ঘোষ হোক। কারণ উনিও আলটপকা কথা বলে লাইমলাইটে থাকতে চান। কী অসহ্য সময়, নিজেকেই বলছেন কেকে’র থেকে ভালো গায়ক। সে তো মানুষ বলবে… আপনি লাফাচ্ছেন কেন? রাঘবদা বা কাউকে তো এসব বলতে শুনি না।’

ভাস্বরের এই বক্তব্যকে সমর্থন করে অভিনেত্রী রিমঝিম গুপ্ত লিখেছেন, ‘এই লোকটা কারো মৃত্যুকেও একটা পাবলিসিটি স্টান্ট করতে পারে… জাস্ট ভাবে না। ছি!! আমরা কোন সমাজে, কোন যুগে বসবাস করছি।’

বুধবার সকালে রূপঙ্কর সংবাদমাধ্যমকে জানান, “দু:খ লাগছে, কষ্ট হচ্ছে। কেকে অত্যন্ত বড় মাপের শিল্পী ছিলেন। এটা ওর মৃত্যুর বয়স নয়। অতীতে অনেক মিউজিশিয়ান ছেড়ে চলে গিয়েছেন। ওর সেই বয়স নয়। তার পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা রইল। আমি কেকে’র বিরুদ্ধে কিছু বলতে চাইনি। মানুষ বুঝতে না পারলে সত্যি খারাপ লাগবে। বাংলা গান, বাংলা সাহিত্য নিয়ে বলতে চেয়েছিলাম আমি। চিনিই না মানুষটাকে। ওর উপর কেন রাগ থাকবে। আমি ওর ভক্ত। আমার বক্তব্য নিয়ে কেউ অন্য কিছু ভেবে থাকলে সেটা তাদের ভুল।”

এ দিকে রূপঙ্করের পাশে দাঁড়িয়েছেন শিল্পী সিধু। তিনি রূপঙ্করের ভিডিও পোস্টে মন্তব্য করেন, “রূপঙ্করের প্রকাশটা দেখলেন, শুনলেন, অভিমানটা বুঝলেন না? প্রত্যেক মুহূর্তে আমাদের বলিউড কালচারের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়… কলকাতায়/ বাংলায়… বাংলা গানকে লড়তে হয় বলিউডের বিরুদ্ধে… গান তো গান, বলিউডের কোয়ালিটিও দারুণ!! কিন্তু বাংলা গানকে ব্রাত্য করতে প্রস্তুত? দক্ষিণ ভারত কিন্তু নিজস্ব ইচ্ছায়, নিজস্ব সংস্কৃতি ধরে রেখেছে!! ‘কেকে কে?’ আমি এই জিনিসটা সমর্থন করতে পারছি না। কিন্তু পয়েন্টটা বুঝতে পারছি।”

৫৪ বছর বয়সী কৃষ্ণকুমার কুনাথ ওরফে কেকে মঙ্গলবার কলকাতার নজরুল মঞ্চে গানের অনুষ্ঠান করতে এসেছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে হোটেলে ফিরতেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাতেই গায়ককে নিয়ে যাওয়া হয় একবালপুরের কাছে একটি বেসরকারি হাসপাতালে। সেখানে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

এম এস, ০১ জুন

Back to top button