কুড়িগ্রাম

ভূরুঙ্গামারীতে ১০ লাখের স্কুল ভবন ২০ হাজারে নিলাম

কুড়িগ্রাম, ৩১ মে – কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সরকারি বিদ্যালয় ভবন উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মাত্র ২০ হাজার টাকায় নিলামে বিক্রি করেছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে। তবে নিলামের বিষয়টি জানেন না নিলাম কমিটির সদস্য ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। প্রচার প্রচারণা চালিয়ে নিলাম করার কথা থাকলেও সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ও এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী গোপনে ভবনটি ২০ হাজার টাকায় নিলাম দিয়েছেন।

বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা জানান, ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সদর ইউনিয়নের কামাত আঙ্গারীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনটি এক যুগ আগে প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়। এর মধ্যে ওই পুরাতন ভবনটির স্থলে পিডিপি-৪ এর আওতায় নতুন ভবন নির্মাণের বরাদ্দ আসলে দরপত্র আহ্বান করে উপজেলা এলজিইডি।

একই স্থানে নতুন ভবন নির্মাণ হবে তাই পুরাতন ভবনটি নিলামে বিক্রির সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সোমবার (৩০ মে) সকাল ১১টায় ভূরুঙ্গামারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিলাম অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রকাশ্যে নিলাম কার্য সম্পন্ন না করে কর্মকর্তার গোপন কক্ষে নিলাম দেখিয়ে মাত্র ২০ হাজার টাকায় সবুজ হাসান নামের একজনের কাছে ভবনটি বিক্রি করা হয়।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, নিলাম সম্পন্নের আগে মাইকিং বা অন্য উপায়ে প্রচার হয়নি। অনেকে নগদ দুই-তিন লাখ টাকায় নিলামে নিতে প্রস্তুত ছিল। কিন্তু কাউকে না জানিয়ে নিলাম করা হয়েছে। মূলত নিলামকারীরা সিন্ডিকেট করে আর্থিক সুবিধা নিয়ে ভবনটি নিলাম দেখিয়েছে। এতে সরকারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মোছা. উম্মেহানী নিলাম কমিটির সদস্য। কিন্তু তিনি নিলামের বিষয়ে জানেন না। তিনি জানান, কত টাকায় নিলাম দেওয়া হয়েছে তিনি জানেন না। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা জাকির হোসেন জানান, নিয়ম অনুযায়ী সরকারি মূল্যের চেয়ে বেশি মূল্যে বিক্রি করেছি।

উপজেলা প্রকৌশলী এন্তাজুর রহমান জানান, প্রাক্কলন তৈরির সময় প্রাপ্ত মালামালের মূল্য ধরা হয়েছে ৯৫ হাজার ২১ টাকা। মালামাল অপসারণ খরচ ধরা হয়েছে ৭৯ হাজার ৫ টাকা। সে মোতাবেক নিলাম বিক্রির সরকারি মূল্য ধরা ছিল ১৬ হাজার ১৬ টাকা। প্রাক্কলন অনুযায়ী যা হয় তাই বিক্রি করা হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ সঠিক নয়।

সূত্র : সমকাল
এম এস, ৩১ মে

Back to top button