মধ্যপ্রাচ্য

আরব আমিরাতের সঙ্গে ইসরায়েলের মুক্তবাণিজ্য চুক্তি সই

আবুধাবি, ৩১ মে – সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি সই করেছে ইসরায়েল। চুক্তিটিকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বাড়ানোর বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মঙ্গলবার (৩১ মে) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

খবরে বলা হয়, কোনো আরব রাষ্ট্রের সঙ্গে এবারই প্রথম কোনো বড় চুক্তি সই করলো ইহুদি রাষ্ট্রটি। কয়েকমাস আলোচনার পর দুবাইয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থনীতি বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল্লাহ বিন তৌক আল-মারি ও ইসরায়েলের অর্থ ও শিল্প মন্ত্রী ওর্না বারবিভাই মঙ্গলবার এ চুক্তি সই করেন।

চুক্তি স্বাক্ষরের পর সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত আমির হায়েক এক টুইট পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি লেখেন- ‘হয়ে গেছে। ’ এর আগে অপর এক টুইটে ইউএই-ইসরায়েল এফটিএ স্বাক্ষরের বিষয়টি তিনি জানান।

আরব আমিরাত ও ইসরায়েল বিজনেস কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোরিয়ান বারাক বলেছেন, এ বাণিজ্য চুক্তিতে করের হার, আমদানির মতো বিষয়গুলো রয়েছে। এর মাধ্যমে আরব আমিরাতকে আরও বেশি ইসরায়েলি কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত করবে। বিশেষ করে দুবাইয়ে অফিস স্থাপনে উৎসাহিত করবে।

কাউন্সিল ভবিষ্যদ্বাণী করেছে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রায় ১ হাজার ইসরায়েলি কোম্পানি সংযুক্ত আরব আমিরাত বা দেশটির মাধ্যমে কাজ করবে। দক্ষিণ এশিয়া, দূর প্রাচ্য ও মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গেও ব্যবসা পরিচালনা করবে তারা।

বারাক বলেন, অভ্যন্তরীণ বাজার সুযোগের সম্পূর্ণ প্রতিনিধিত্ব করে না। বৃহত্তর বাণিজ্য অঞ্চল লক্ষ্য করে অনেক কোম্পানিই এখন দুবাইয়ে ব্যবসা করার সুযোগ পাবে। চুক্তি স্বাক্ষরের আগে এর আওতায় খাদ্য, কৃষি, প্রসাধনী, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধসহ ৯৬ শতাংশ পণ্যের উপর শুল্ক প্রত্যাহার করবে বলে জানায় ইসরায়েলের অর্থ মন্ত্রণালয়।

সংযুক্ত আরব আমিরাত ভবিষ্যদ্বাণী করেছে, সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দ্বিপাক্ষিয় বাণিজ্য ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি হবে।

ইউএই’র বাণিজ্যমন্ত্রী থানি আল-জাইউদি টুইটারে বলেছেন, আমাদের চুক্তি প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং সমগ্র অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির একটি নতুন যুগে নিয়ে যাবে।

সোমবার চুক্তির বিষয়ে ইসরায়েলের অর্থ ও শিল্প মন্ত্রী ওর্না বারবিভাই বলেছিলেন, আমরা একসঙ্গে আসন্ন বাধাগুলো দূর করব। নিজেদের মধ্যে ব্যাপক বাণিজ্য ও নতুন প্রযুক্তি বিনিময় করবো। এর মাধ্যমে আমাদের মধ্যে একটি দৃঢ় ভিত্তি সৃষ্টি হবে। এ চুক্তি দুই দেশের নাগরিকদের কল্যাণে অবদান রাখবে বলেও তিনি জানান।

অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেম ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে বাড়েতে থাকা সহিংসতার মধ্যে ইহুদি রাষ্ট্রটির সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করলো কোনো মুসলিম রাষ্ট্র।

সূত্র : বাংলানিউজ
এম এস, ৩১ মে

Back to top button