জাতীয়

আওয়ামী লীগ সরকার এরশাদ-আইয়ুবের থেকেও বড় স্বৈরাচারী

ঢাকা, ২৯ মে – বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, এরশাদ ও আইয়ুব খানের স্বৈরাচারী শাসন আমলেও সভা-সমাবেশ হয়েছিলো। বর্তমান সরকারের মতো এরকম স্বৈরাচার তখন হয় নাই। আওয়ামী লীগ সরকার এরশাদ-আইয়ুবের থেকেও বড় স্বৈরাচারী।

আজ রবিবার (২৯ মে) নয়াপল্টনে বিএনপি’র পার্টি অফিসে আরাফাত রহমান কোকো ক্রীড়া সংসদের উদ্যোগে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪১তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, বিরোধীদল কথা বললেই থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে। এ কারণে ছাত্রলীগের ছাত্রত্ব ধ্বংস করে ওদের বানিয়েছে সন্ত্রাসী। ফ্যাসিবাদী এই আওয়ামী সরকার থাকলে সেখানে অন্য কোন দল বা মত কথা বলতে পারেনা। তারা মানুষের স্বাধীনভাবে কথা বলার অধিকার কেড়ে নিয়েছে।

তিনি ব‌লেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হক হানিফ এরা অকপটে মিথ্যা কথা বলেন। হানিফ বলেছে- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যে আক্রমণ হচ্ছে তার প্রতিহত করছে ছাত্রলীগ। এর কারণ হচ্ছে বিরোধীদলের ছাত্রদল প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কটুক্তি করেছে।

ওবায়দুল কাদের ও হানিফ সাহেব আপনারা কোন পরিভাষার রাজনীতি করেন, এমন প্রশ্ন রেখে তিনি আরও বলেন, এখন অবৈধ প্রধানমন্ত্রী দেশের তিন বারের নির্বাচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে টুস করে পদ্মা নদীতে ফেলে দিতে চাইবে। হত্যার হুমকি দেবে আর এর প্রতিবাদ করা যাবে না। উনি (প্রধানমন্ত্রী) কি মহামানবী? সে তো মানুষ, জোর করে প্রধানমন্ত্রী হয়েছে আছেন।

রিজভী বলেন, দেশের যে জায়গায়ই যান না কেন, বাস-ট্রেন-লঞ্চ যেখানেই কিছু মানুষের সমাহার আছে সেখানেই এই প্রধানমন্ত্রী ও তার সরকারের সমালোচনা আছে। কিন্তু বিএনপির নেতাকর্মী বা যারা বিএনপি’র আদর্শে বিশ্বাসী তারা প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সমালোচনা করতে পারবে না। তারা (আওয়ামী লীগ) মনে করে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কথা বলা গুনাহের কাজ। মাহবুবুল হক হানিফের কথা থেকে এটাই বোঝা যায়।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, এরা (আওয়ামী লীগ) ইতরের কোন পর্যায়ে চলে গেছে আমি বলতে চাই না। তারা যে ভাষা ব্যবহার করে বলতে বাধ্য হলাম। আপনারা মনে করেছেন সব পার পেয়ে গেছেন? আপনারা ভেবেছেন ঝড় হচ্ছে আর উটপাখির মত বালির মধ্যে মাথা দিয়ে রেখেছে বাংলাদেশের জনগণ। এটা আপনারা ভুল ভাবছেন হানিফ সাহেব। আপনারা কেন কথা বলতে দিতে চান না, কেন পুলিশ ও ছাত্রলীগ-যুবলীগ দিয়ে ছাত্রদলকে প্রতিহত করছেন, আঘাত করছেন কারণ হচ্ছে ওই যে চুরি করছেন উন্নয়নের নামে, মেট্রোরেল ফ্লাইওভার নামে। গত ১৪ বছরে কত দুর্নীতি করেছেন, কত টাকা বিদেশে পাচার করেছেন সে তথ্যগুলো ফাঁস যাতে না হয় তাই হামলা করেছেন। আর হানিফ বলছেন- প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কটূক্তির কারণে আমরা প্রতিহত করছি।

তিনি আরও বলেন, এরা (আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা) ফ্যাসিবাদের পূজারী, লুটেরাদের উপাসক, তাই ছাত্রদল প্রতিবাদ করতে গেলে ওদের কাপুরুষতাভাবে হামলা করে।

সংগঠনের সভাপতি নাজিম উদ্দিন আলমের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন─ বিএন‌পির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ন মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপুসহ অনেকে।

সূত্র: দেশ রূপান্তর
এম ইউ/২৯ মে ২০২২

Back to top button