এশিয়া

পশ্চিমাদের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই যে ঘোষণা দিল চীন

বেইজিং, ২৭ মে – দক্ষিণ চীন সাগরে শনিবার নৌ মহড়ার ঘোষণা দিয়েছে চীন। দেশটির সমুদ্রবিষয়ক কর্তৃপক্ষ এই খবর নিশ্চিত করেছে বলে বার্তা সংস্থা এএফপি শুক্রবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল জুড়ে সামরিক অবস্থানের জন্য পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগের এক সপ্তাহ পর এই ঘোষণা দিল চীন। প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জে দক্ষিণ চীন সাগর থেকে বিস্তৃত অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক ও অর্থনৈতিক উপস্থিতির বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

দক্ষিণ চীনের হাইনান প্রদেশের উপকূল থেকে ২৫ কিলোমিটারেরও (১৫.৫ মাইল) কম দূরে সাগরে এই মহড়া অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বলে এএফপি জানিয়েছে।

চীনের মেরিটাইম সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে প্রায় ১০০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় পাঁচ ঘণ্টার জন্য সামুদ্রিক যান চলাচল বন্ধ থাকবে বলে সতর্ক করে দিয়েছে।

চীন নিয়মিতভাবে দেশটির উপকূলের কাছাকাছি এ ধরনের সামরিক মহড়া পরিচালনা করে। তবে পশ্চিমাদের সতর্কতার মধ্যেই চীনের এই মহড়াকে ক্ষমতার আঞ্চলিক ভারসাম্য পরিবর্তন করার একটি বিস্তৃত প্রচেষ্টার জন্য অংশ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এদিকে, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বেইজিংয়ের ‘বদনাম’ করার অভিযোগ এনেছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিংপিং ও চীনের কড়া সমালোচনার করার পর এই যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আনল বেইজিং।

এর আগে বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বক্তব্যে ব্লিঙ্কেন বলেছিলেন, যখন রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল, প্রেসিডেন্ট শি জিংপিং এবং প্রেসিডেন্ট পুতিন ঘোষণা দেন যে তাদের দুই দেশের বন্ধুত্ব ‘সীমাহীন’।

তিন অবশ্য জোর দিয়ে জানিয়েছিলেন, চীনের বিরুদ্ধে নতুন কোনো স্নায়ু যুদ্ধে জড়াতে চায় না যুক্তরাষ্ট্র এবং তাইওয়ানের স্বাধীনতাকেও সমর্থন করে না।

তবে তিনি বলেছিলেন, ইউক্রেনের সার্বভৌমতা মুছে ফেলতে এবং ইউরোপে আধিপত্য বিস্তার করতে বেইজিং (চীন) পুতিনের যুদ্ধকে যেভাবে সমর্থন করেছে তাতে ‘সতর্কতা সংকেত বাজানো’ উচিত, যারা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলকে নিজেদের ঠিকানা বলে।

তিনি আরও বলেন, এটি একটি অন্যরকম মূহুর্ত।

এদিকে, শুক্রবার বেইজিং ব্লিঙ্কেনের ওই বক্তব্যের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছে, ওই বক্তব্য ‘মিথ্যা তথ্য ছড়ায়, চীনের হুমকিকে অতিরঞ্জিত, চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ এবং চীনের অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি নীতিকে কলঙ্কিত করেছে’।

এ ব্যাপারে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়াং ওয়েনবিন সাংবাদিকদের বলেন, চীন ওই বক্তব্যের ‘দৃঢ়ভাবে বিরোধিতা’ করেছে এবং এই বক্তব্যে এটাই মনে হয় যে ওয়াশিংটন ‘চীনের উন্নয়নকে ধারণ ও দমন করতে এবং মার্কিন আধিপত্য ও ক্ষমতা বজায় রাখতে’ চায়।

সূত্র : যুগান্তর
এম এস, ২৭ মে

Back to top button