পশ্চিমবঙ্গ

পশ্চিমবঙ্গের সব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য পদে মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে বসানোর উদ্যোগ

কলকাতা, ২৭ মে – পশ্চিমবঙ্গের সব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজ্যপালের পরিবর্তে এখন আচার্য হবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গতকাল বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পশ্চিমবঙ্গে মোট সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ৩৩টি। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তালিকায় রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।

গতকাল রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেন, রাজ্যের সব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য পদে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়োগ করা হবে। রাজ্য চালানোর স্বার্থে রাজ্য সরকার রাজ্যপালকে সরিয়ে ওই পদে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু আরও বলেছেন, ‘প্রয়োজনে আমরা এই বিল অধ্যাদেশ হিসেবে এনে পরে বিধানসভায় পাস করে নেব।’

রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের সঙ্গে রাজ্য সরকার ও মুখ্যমন্ত্রী মমতার সম্পর্ক মোটেও ভালো নয়। তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটল মুখ্যমন্ত্রীকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আচার্য পদে বসানোর সিদ্ধান্তের মাধ্যমে।

তবে এ সিদ্ধান্তের পর রাজ্য রাজনীতি উত্তাল হয়ে উঠেছে। অনেক ছাত্র সংগঠন ও শিক্ষক আচার্য পদ থেকে রাজ্যপালকে সরিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে বসানোর ঘটনা ভালো চোখে নেননি। বিরোধী রাজৈনতিক দলগুলো সরব হয়েছে এ নিয়ে।

রাজ্যের সাবেক বিজেপি সভাপতি ও সাবেক রাজ্যপাল তথাগত রায় বলেছেন, আচার্য পদে থাকতে হলে রাজ্যপালের সম্মতির প্রয়োজন হবে। এত সহজভাবে মমতা আচার্য পদে অধিষ্ঠিত হতে পারবেন না।

রাজ্যের বিরোধীদলীয় নেতা ও বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, ‘আমরা সর্বশক্তি দিয়ে এ সিদ্ধান্ত রুখব।’

তবে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস বলেছে, রাজ্য বিধানসভায় এ–সংক্রান্ত আইন পাস হলে রাজ্যপাল ওই বিলে সই করতে বাধ্য হবেন। আবার এই বিল পাস হলে রাজ্যপালকে তার অপসারণের বিলও অনুমোদন করতে হবে এবং ওই বিলেও সই করতে হবে।

এ সিদ্ধান্তের পর বিজেপির প্রধান মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন, শিক্ষাক্ষেত্রে নৈরাজ্য, একাধিক নিয়োগ কেলেঙ্কারি থেকে মানুষের নজর ঘোরাতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্য সরকার তো এখন নিজেদের একটি স্বাধীন অঙ্গরাজ্য হিসেবে ভাবতে শুরু করেছে।

আর সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেছেন, ‘এপাং ওপাং ঝপাং, নবান্ন থেকে উপাচার্যদের মাথায় ড্যাং ড্যাং। এ সিদ্ধান্ত দুর্ভাগ্যজনক ও হাস্যকর। বর্তমান রাজ্যপালকে নিয়ে সমস্যা থাকলে সেখানে আচার্য পদে কোনো শিক্ষাবিদকে দেওয়া যেতে পারে।’

সুজন চক্রবর্তী আরও বলেন, যাঁর জাল ডক্টরেট ডিগ্রি নিয়ে এত বিতর্ক ছিল, তাঁর হাত থেকেই এখন পড়ুয়াদের ডিগ্রির সনদ নিতে হবে!

কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুভাষ সরকার বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গের মতো মুখ্যমন্ত্রীকে আচার্য করার চেষ্টা দেশে আর কোথাও হয়নি।

আর তৃণমূল কংগ্রেসের জাতীয় মুখপাত্র সংসদ সদস্য সুখেন্দু শেখর রায় বলেছেন, শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতি, দলীয় রাজনীতির প্রভাব নিয়ে বাম ও বিজেপির কোনো কথা বলার অধিকার নেই। বাম জমানায় দলীয় ক্যাডার নিয়োগ হতো, তা সর্বজনবিদিত। সেই সঙ্গে গোটা দেশের শিক্ষায় গৈরীকরণ তো এখন সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে।

সূত্র : প্রথম আলো
এম এস, ২৭ মে

Back to top button