উত্তর আমেরিকা

টেক্সাসের স্কুলে হামলাকারী কে এই সালভাদর রামোস?

অস্টিন, ২৫ মে – যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের উভালদে রব এলিমেন্টারি স্কুলে ঢুকে মঙ্গলবার রাইফেল দিয়ে গুলি করে ১৯ শিশু শিক্ষার্থী ও ২ শিক্ষককে হত্যা করেন ১৮ বছর বয়সী সালভাদর রামোস। যিনি ছিলেন ওই স্কুলেরই সাবেক শিক্ষার্থী।

স্কুলে যাওয়ার হামলা করতে যাওয়ার আগে রামোস তার নিজের দাদিকেও গুলি করেছিলেন। হামলার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে রামোস নিহত হন।

কে এই সালভাদোর রামোস?

টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটের বরাত দিয়ে সিএনএন জানায়, রামোস সর্বশেষ ফাস্টফুড কোম্পানি ওয়েন্ডিসের একটি স্থানীয় আউটলেটে কাজ করতেন। এর আগে তিনি উভালদে হাইস্কুলের শিক্ষার্থী ছিলেন।

তার জন্ম নর্থ ডাকোটাতে বলে দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম জানায়, মঙ্গলবারের ঘটনার মাত্র ৩ দিন আগে একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে দুটি এআর-১৫ রাইফেলের ছবি পোস্ট করা হয়েছিল। অ্যাকাউন্টটি রামোসের ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার একাধিক সহপাঠী নিশ্চিত করেছেন যে অ্যাকাউন্টটি সালভাদর রামোসের।

তার টিকটক অ্যাকাউন্টে একটি মাত্র পোস্ট দেখা গেছে, সেটিও একটি মোবাইল গেমের। তবে অ্যাকাউন্টে প্রোফাইল ছবির নিচে বায়োতে বলা হয়, ‘বাচ্চারা জীবনের বাস্তবতাকে ভয় পাও।’

রামোসের একজন সাবেক সহপাঠী জানান, হামলার কয়েক দিন আগে রামোস তাকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং গুলিভর্তি একটি ব্যাগের ছবি পাঠিয়েছিলেন।

ওই বন্ধু জানান, রামোসের সঙ্গে তিনি কিছুটা ‘ঘনিষ্ঠ’ ছিলেন এবং মাঝে মাঝে তাকে একসঙ্গে এক্সবক্স খেলার আমন্ত্রণ জানাতেন রামোস।

‘সে আমাকে বিভিন্নভাবে মেসেজ পাঠাতো। ৪ দিন আগে সে আমাকে ওই রাইফেলের ছবি পাঠিয়েছিল, যেটি দিয়ে সে গতকালের হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করে।

ছবিতে ফাইভ পয়েন্ট ফাইভ সিক্স গুলি ভরা একটি ব্যাকপ্যাকও ছিল, সম্ভবত ৭ ম্যাগাজিন গুলি হবে,’ সিএনএনের প্রতিবেদনে ওই বন্ধুর বক্তব্য।

তিনি বলেন, ‘আমি বললাম, তোমার কাছে এগুলো কেন? সে বলছিল, ‘আরে এটা নিয়ে চিন্তা কোরো না।’

‘পরের টেক্সটে সে বলল “আমি এখন অন্যরকম হয়ে গেছি। আমাকে চিনতে পারবে না”,’ যোগ করেন তিনি।

বন্ধুটি জানান, তার নিজের পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর তিনি রামোসের সঙ্গে যোগাযোগ কমিয়ে দিয়েছিলেন।

কিন্তু রামোস তাকে ২-১ মাসে অন্তত একটি টেক্সট পাঠাতেন বা এক্সবক্স খেলতে আমন্ত্রণ জানাতেন।

এদিকে ওয়েন্ডি ফাস্টফুড আউটলেটে যেখানে রামোস কাজ করতেন সেখানকার সান্ধ্যকালীন ব্যবস্থাপক অ্যাড্রিয়ান মেন্ডেস দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে জানান, রামোস সেখানে এক বছর কাজ করেছিলেন এবং মাসখানেক আগে তিনি ওই কাজ ছেড়ে দেন।

মেন্ডেস বলেন, ‘রামোস অধিকাংশ সময় নিজের মতো থাকতেন।’

মেন্ডেস সিএনএনকে বলেন, ‘খুব বেশি কথা বলত না রামোস। অন্যান্য কর্মীদের সঙ্গেও তেমন মিশতেন না।’

‘তিনি শুধু কাজ করতেন, বেতন পেতেন, বেতনের চেক নিতেন,’ যোগ করেন তিনি।

মঙ্গলবার সকাল ৯টা ১৬ মিনিটে এক পরিচিতকে তার শেষ বার্তা ছিল, ‘আমি বের হচ্ছি।’

সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ওই স্কুলে হামলা শুরু করেন রামোস।

টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের সিনেটর রোল্যান্ড গুতেরেজ জানান, রামোস তার জন্মদিনে ২টি মিলিটারি রাইফেল কিনেছিলেন।

‘জন্মদিনে ওই কাজটিই তিনি প্রথমে করেছিলেন,’ বলেন তিনি।

সূত্র : দ্য ডেইলি স্টার
এম এস, ২৫ মে

Back to top button