ক্রিকেট

আইপিএলের ফাইনালে গুজরাট টাইটান্স

মুম্বাই, ২৫ মে – জয়ের জন্য শেষ ওভারে দরকার ১৬ রান। সহজ নয় মোটেও। ডেভিড মিলার তা মনে করলে তো! প্রথম তিন বলে তিন ছক্কা হাঁকিয়ে দলকে উচ্ছ্বাসে ভাসালেন তিনি। রাজস্থান রয়্যালসকে হারিয়ে আইপিএলের ফাইনালে উঠল গুজরাট টাইটান্স।

প্রথম কোয়ালিফায়ারে মঙ্গলবার হার্দিক পান্ডিয়ার দলের জয় ৭ উইকেটে। কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে ১৮৯ রানের লক্ষ্য তারা পেরিয়ে যায় ৩ বল বাকি থাকতে।

জয়ের নায়ক মিলার ৩৮ বলে ৫ ছক্কা ও ৩ চারে খেলেন অপরাজিত ৬৮ রানের ইনিংস। দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটসম্যান চতুর্থ উইকেটে পান্ডিয়ার সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন ১০৬ রানের জুটি গড়েন স্রেফ ৬১ বলে। ২৭ বলে ৫ চারে ৪০ রান করেন পান্ডিয়া।

প্রথমবার আইপিএলে অংশ নিয়েই প্রথম দল হিসেবে ফাইনালে পা রাখল গুজরাট টাইটান্স।

এখানে হারলেও ফাইনালে যাওয়ার আরেকটি সুযোগ অবশ্য পাচ্ছে রাজস্থান রয়্যালস। এলিমিনেটরে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালোর ও লক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টসের মধ্যে জয়ী দলের বিপক্ষে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে খেলবে তারা।

মিলারের আলোয় ম্লান হয়ে গেল জস বাটলারের ইনিংস। ইংলিশ ব্যাটসম্যানের ৫৬ বলে ৮৯ রানের সুবাদেই বড় পুঁজি পেয়েছিল রাজস্থান।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই রাজস্থান হারায় যাশাসবি জয়সওয়ালকে। তিনে নেমে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে দলকে এগিয়ে নেন অধিনায়ক সাঞ্জু স্যামসন। বাটলারকে এক পাশে দর্শক বানিয়ে রেখে তিনি খেলেন দারুণ সব শট।

অল্পের জন্য ফিফটি পাননি স্যামসন। ২৬ বলে ৫ চার ও ৩ ছক্কায় তার ৪৭ রানের ইনিংস থামে বাউন্ডারিতে ক্যাচ দিয়ে। ২টি করে চার-ছক্কায় ২০ বলে ২৮ রান করে পান্ডিয়ার বলে বোল্ড হয়ে যান দেবদূত পাডিক্কাল।

বাটলার প্রথম ৮ বলে করেছিলেন ১৪ রান। এরপর অনেকটাই খোলসে বন্দি হয়ে যান তিনি। একটা পর্যায়ে তার রান ছিল ৩১ বলে ৩০, ৩৯ বলে ৪৩। তবে পরের ১৭ বলে করেন ৪৬ রান। ইনিংসের শেষ ডেলিভারিতে ‘নো’ বলে রান আউট হন তিনি।

শেষ পাঁচ ওভারে রাজস্থান তোলে ৬৪ রান।

রান তাড়ায় গুজরাটের শুরুটা হয় বাজে। ট্রেন্ট বোল্টের করা ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই বিদায় নেন ঋদ্ধিমান সাহা।

সেখান থেকে ৪৩ বলে ৭১ রানের জুটিতে দলকে পথ দেখান শুবমান গিল ও ম্যাথু ওয়েড। দুজনের ভুল বোঝাবুঝিতে শুবমান রান আউটে বিদায় নেন ২১ বলে ৩৫ রান করে। একটু পর ওয়েড ক্যাচ তুলে দেন ৩০ বলে ৩৫ রান করে। এরপরই মিলার ও পান্ডিয়ার ওই জুটি।

শেষ পাঁচ ওভারে দরকার ছিল ৫০ রান। এরপর ১৪ বলে দরকার যখন ৩০, যুজবেন্দ্র চেহেলকে বিশাল ছক্কা হাঁকিয়ে ব্যবধান কমান মিলার।

শেষ ওভারে ১৬ রানের প্রয়োজনে পেসার প্রসিধ কৃষ্ণার প্রথম বল মিলার লং অনের ওপর দিয়ে গ্যালারিতে আছড়ে ফেলেন। পরের বলে ছক্কা ডিপ স্কয়ার লেগের ওপর দিয়ে। তৃতীয় বল ডিপ মিডউইকেটের ওপর দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে উল্লাসে ফেটে পড়েন তিনি।

শুরুতে অবশ্য কিছুটা সময় নেন মিলার। প্রথম ১৪ বলে তার রান ছিল ১০। পরের ২৪ বলে করেন ৫৮! ম্যাচ সেরার পুরস্কার ওঠে তার হাতেই।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

রাজস্থান রয়্যালস: ২০ ওভারে ১৮৮/৬ (জয়সওয়াল ৩, বাটলার ৮৯, স্যামসন ৪৭, পাডিক্কাল ২৮, হেটমায়ার ৪, পরাগ ৪, অশ্বিন ২*, বোল্ট ০*; শামি ৪-০-৪৩-১, দয়াল ৪-০-৪৬-১, জোসেফ ২-০-২৭-০, রশিদ ৪-০-১৫-০, সাই কিশোর ৪-০-৪৩-১, পান্ডিয়া ২-০-১৪-১)

গুজরাট টাইটান্স: ১৯.৩ ওভারে ১৯১/৩ (ঋদ্ধিমান ০, শুবমান ৩৫, ওয়েড ৩৫, পান্ডিয়া ৪০*, মিলার ৬৮*; বোল্ট ৪-০-৩৮-১, প্রসিধ ৩.৩-০-৪০-০, অশ্বিন ৪-০-৪০-০, চেহেল ৪-০-৩২-০, ম্যাককয় ৪-০-৪০-১)

ফল: গুজরাট টাইটান্স ৭ উইকেটে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: ডেভিড মিলার

সূত্র : বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর
এম এস, ২৫ মে

 

Back to top button