শিক্ষা

ফের আলোচনার জন্ম দিয়েছে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি

সাব্বির নেওয়াজ

ঢাকা, ২৪ মে – ফের আলোচনার জন্ম দিয়েছে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি। দেশের বেসরকারি উচ্চ শিক্ষা খাতের পথিকৃৎ এবং মানসম্পন্ন পাঠদানের খ্যাতি থাকলেও নানা কারণে বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না এই শিক্ষালয়টির। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি কেনার প্রক্রিয়ায় ৩০৩ কোটি ৮২ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় ট্রাস্টি বোর্ডের চার সদস্যকে উচ্চ আদালত পুলিশে সোপর্দ এবং পরে কারাগারে পাঠানোয় নতুন করে মুখে মুখে ফিরছে শিক্ষাঙ্গনটির নাম।

সম্পূর্ণ অলাভজনক প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে গিয়ে খোদ ট্রাস্টি বোর্ড সদস্যদের শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ প্রক্রিয়ায় জড়িত হওয়ার ঘটনায় শিক্ষাসংশ্নিষ্ট মহল হতবাক। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় দেখভালের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সংশ্নিষ্টরা বলছেন, এ ঘটনা অন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্যও দৃষ্টান্ত হতে পারে। আইনের বাইরে গেলে কেউই রেহাই পাবেন না।

এর আগে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির কয়েকজন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ততার ঘটনা বেরিয়ে এলে বিশ্ববিদ্যালয়টি পড়েছিল ইমেজ সংকটে। ২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিসান বেকারি ও পরে ওই বছরের কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ঈদ জামাতে বোমা হামলায় অংশ নেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নিবরাস ইসলাম ও আবির রহমান। বিশ্ববিদ্যালয়টির ওই সময়ের শিক্ষক হাসনাত করিমের জঙ্গি-সংশ্নিষ্টতাও জোরালো আলোচনায় আসে।

আর সাম্প্রতিক সময়ে শুধু জমি কেনা নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকায় ট্রাস্টি বোর্ড সদস্যদের জন্য বিলাসবহুল গাড়ি কেনা, সিটিং অ্যালাউন্সের নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল থেকে তাঁদের কোটি টাকার সম্মানী নেওয়া নিয়েও বিশ্ববিদ্যালয়টি বিতর্কে জড়িয়েছে। এর আগে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বিদেশে বেড়াতে গিয়ে ট্রাস্টি বোর্ড সভা করা, কয়েকজন শিক্ষকের পিএইচডি গবেষণা নিয়ে বিতর্ক ও জঙ্গিবাদে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একাংশের সম্পৃক্ততা নিয়েও বিশ্ববিদ্যালয়টি বারবার গণমাধ্যমে নেতিবাচক খবরের শিরোনাম হয়েছে।

চার ট্রাস্টি কারাগারে :জমি কেনায় টাকা আত্মসাতের মামলায় ট্রাস্টি বোর্ডের চার সদস্যকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

তাঁদের সাত দিনের মধ্যে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদেরও অনুমতি দেওয়া হয়েছে। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ বিচারক কে এম ইমরুল কায়েশ গতকাল সোমবার এ আদেশ দেন।

এদিন দুপুরে শাহবাগ থানা পুলিশ চার আসামিকে আদালতে হাজির করেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলার চার আসামি হলেন এম এ কাশেম, বেনজীর আহমেদ, রেহানা রহমান ও মোহাম্মদ শাহজাহান।
গত রোববার আগাম জামিন চেয়ে তাঁরা হাইকোর্টে আবেদন করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আবেদন সরাসরি খারিজ করে তাঁদের পুলিশে সোপর্দ করেন আদালত। একই সঙ্গে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁদের বিচারিক (নিম্ন) আদালতে হাজির করতে শাহবাগ থানার ওসিকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। সে অনুযায়ী রাতে তাঁদের শাহবাগ থানায় রাখা হয়। দুপুরে আদালতে হাজির করে পুলিশ।

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসের জমি কেনা বাবদ অতিরিক্ত ৩০৩ কোটি ৮২ লাখ টাকা খরচ দেখিয়ে তা আত্মসাতের অভিযোগে গত ১২ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ ছয়জনের নামে মামলা করেন দুদকের উপপরিচালক ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী।

অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, ‘একজন ট্রাস্টি হিসেবে যদি তাঁরা ট্রাস্টটা নষ্ট করেন, এটা খুব দুর্ভাগ্যজনক। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, টাকা সঠিকভাবে ব্যবহার করেননি, নিজের স্বার্থে ব্যবহার করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি কিনতে বেশি দর দেখিয়েছেন। আবার সেই টাকা তাঁদের কাছে ফেরত এসেছে।’

কারাগারে যাওয়া ও জমি কেনার টাকা লোপাটের অভিযোগ যাঁদের কাঁধে এসেছে, দেখা গেছে তাঁরা কেউই আর্থিকভাবে অসচ্ছল নন; তাঁরা সবাই সমাজের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। চারজনই কোনো না কোনো সময়ে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। বেনজীর আহমেদ বিশ্ববিদ্যালয়টির ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাকালীন ও আজীবন সদস্য এবং তিনি রেমন্ড গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ঢাকা চেম্বার অব কমার্সের (ডিসিসিআই) সাবেক সভাপতি। তিনি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতিরও চেয়ারম্যান। রেহানা রহমানও ট্রাস্টের আরেকজন প্রতিষ্ঠাকালীন ও আজীবন সদস্য। তিনি বেঙ্গল ট্রেডওয়েজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা ও আজীবন সদস্য হিসেবে রয়েছেন শাহ ফতেহউল্লাহ টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড ও জালাল আহমেদ স্পিনিং মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান।

ইউজিসির সাবেক এক চেয়ারম্যান নাম প্রকাশ না করার শর্তে গতকাল বলেন, ‘মজার বিষয় হলো- জমি কেনায় টাকা চুরির এ বিষয়টি প্রথম ধরেছে এই ট্রাস্টিরই নিয়োগ করা অডিট প্রতিষ্ঠান ইউনুস হাওলাদার অ্যান্ড কোম্পানি। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুসারে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিবন্ধিত তিনটি অডিট ফার্মের নাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষই পাঠিয়ে থাকে। তা থেকে সাধারণত প্রথম নামটি মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত করে থাকে। জমি কেনায় টাকা আত্মসাৎ উদ্ঘাটন করে এই অডিট ফার্মটি নর্থ সাউথের সাময়িক সনদ বাতিলের সুপারিশ করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে এই ট্রাস্টিরা ওই ফার্মের নাম বাদ দিয়ে তাঁদের মামলা করার হুমকিও দিয়েছিল।’

এই সাবেক চেয়ারম্যান বলেন, ‘ভর্তিতে ট্রাস্টি বোর্ড কোটা বিশ্বের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই, যা নর্থ সাউথে আছে। এখানে ট্রাস্টি বোর্ড সদস্যরা নিয়মিত অফিস করেন। এটা কি হতে পারে? একজন সাবেক চেয়ারম্যান দেশের সাবেক এক প্রধান বিচারপতির মেয়েকে বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানি করল। ইউজিসি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিলেও তার আর বিচার হলো না।’

নিজেদের ব্যবহারের জন্য কেনেন ২৬ কোটি টাকার গাড়ি :আইন অনুসারে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হলেও ২৬ কোটি টাকা খরচ করে ১২টি বিলাসবহুল গাড়ি নিজেদের ব্যবহারের জন্য কিনেছিলেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের (বিওজি) সদস্যরা। সেগুলো ব্যবহারও শুরু করেন তারা। এ নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে তদন্ত শুরু করে ইউজিসি। তদন্ত পর্যায়ে বাধ্য হয়ে গাড়িগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেরত পাঠিয়ে দেন তাঁরা। সেগুলো এখন ক্যাম্পাসেই পড়ে আছে। দুদকও বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছে। এ পরিস্থিতিতে গত মঙ্গলবার ১২টি গাড়ির মধ্যে সর্বোচ্চ দামি ১০টি গাড়ি খোলা দরপত্রের মাধ্যমে বিক্রি করে সেই টাকা নর্থ সাউথের তহবিলে জমা দিয়ে বিষয়টি জানাতে উপাচার্যকে নির্দেশ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা-১ উপসচিব মো. ফরহাদ হোসেনের সই করা ওই আদেশে বলা হয়, ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ১২টি বিলাসবহুল গাড়ি কিনেছে; এর মধ্যে ১০টি গাড়ি শিক্ষা ও গবেষণা উন্নয়নের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। এসব গাড়ি খোলা দরপত্রের মাধ্যমে বিক্রি করে ওই টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা খাতে খরচ করতে হবে। অন্য কোনো খাতে এই টাকা ব্যবহার করা যাবে না। পুরো বিষয়টি নজরদারি করতে ইউজিসিকে অনুরোধ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

আদেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১০ এর ৪৪(১) ধারা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলা হয়, প্রতিটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি সাধারণ তহবিল থাকবে এবং আইনের ৪৪(৭) ধারা অনুযায়ী সাধারণ তহবিলের টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় খরচ ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে খরচ করা যাবে না।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ল্যান্ড রোভারের রেঞ্জ রোভার ২০১৯ মডেলের একেকটি গাড়ি কিনতে খরচ হয়েছে প্রায় ৩ কোটি টাকা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আদেশেও গাড়িগুলোর দর তুলে ধরা হয়েছে।
ইউজিসির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কর্মকর্তারা বলছেন, কোনোভাবেই বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকায় কেনা গাড়ি ট্রাস্টি বোর্ড সদস্যরা ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করতে পারেন না। তাঁরা জানান, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় যে ট্রাস্টের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত, তার চুক্তিপত্রে বলা হয়েছে, এ ট্রাস্ট মানবহিতৈষী, দানশীল, জনহিতকর, অরাজনৈতিক, অলাভজনক ও অবাণিজ্যিকভাবে পরিচালিত হবে।

জানা যায়, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্টি বোর্ড সদস্যদের ব্যবহারের জন্য প্রথম বিলাসবহুল সাতটি গাড়ি কেনে ২০১৯ সালের জুনে। পরে আরও পাঁচটি গাড়ি কেনা হয়। কেনা সব গাড়িই ল্যান্ড রোভারের রেঞ্জ রোভার ২০১৯ মডেলের। বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকায় কেনা বিলাসবহুল এ গাড়িগুলো ব্যবহার করতেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টির চেয়ারম্যান আজিম উদ্দিন আহমেদ, সদস্য বেনজীর আহমেদ, এমএ কাশেম, রেহানা রহমান, মোহাম্মদ শাহজাহান, ফৌজিয়া নাজ, ইয়াসমীন কামাল ও তানভীর হারুন। বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকায় কেনা দামি ও বিলাসবহুল এ গাড়ি বোর্ডগুলোর বিওজি সদস্যরা ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করতেন। যদিও পরে বিতর্ক ওঠার পর সমালোচনার মুখে এসব গাড়ি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ফেরত দিয়ে দেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ ৯ সদস্য।

প্রয়াত প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এম এ হাসেম একটি গাড়ি ব্যবহার করলেও তার মৃত্যুর পর গাড়িটি বিশ্ববিদ্যালয়কে ফেরত দেওয়া হয়। এম এ হাসেমের মৃত্যুর পর তার ছেলে আজিজ আল কায়সার (টিটু) সদস্য হিসেবে যুক্ত হলেও তিনি কোনো গাড়ির সুবিধা নেননি। সমালোচনার মুখে সে গাড়িগুলো ফেরত পাওয়ার পর বর্তমানে এনএসইউ ক্যাম্পাসের পার্কিংয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকায় গাড়ি কেনা প্রসঙ্গে মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমগীর বলেছিলেন, ‘এটা একটা আর্থিক স্বেচ্ছাচারিতা। বিশ্ববিদ্যালয় যত আয় করবে, তা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের খরচ চালিয়ে যা অতিরিক্ত থাকবে, সেটা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য উন্নয়ন কাজ করা হবে। ট্রাস্টিদের জন্য গাড়ি কেনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থের সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত না।’

ট্রাস্টিদের সম্মানী পিলে চমকানো :ইউজিসির এক তথ্যে দেখা গেছে, শুধু এক (২০১৯-২০) অর্থবছরেই শিক্ষার্থীদের দেওয়া টিউশন ফির টাকা থেকে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের বিওটি সদস্যরা ভাতা বাবদ ৪ কোটি টাকা পকেটে পুরেছেন।
বিওটির প্রতিটি সভায় সিটিং অ্যালাউন্স বাবদ একেকজন সদস্য নিয়েছেন ১ লাখ টাকা করে। অন্য সব কমিটির সভায় নিয়েছেন ৫০ হাজার টাকার ভাতা। গাড়িচালক ও জ্বালানি বাবদ প্রতি মাসে ভাতা নেন প্রায় ৫০ হাজার টাকা করে। অলাভজনক হওয়ার পরও বিশ্ববিদ্যালয় তহবিল থেকে ভাতার নামে এমন নানা আর্থিক সুবিধা নিচ্ছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিওটি সদস্যরা।

উপাচার্যসহ নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ট্রাস্টি সদস্য রয়েছেন ১৬ জন। এর মধ্যে ছয়-সাতজন বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমে নিয়মিত অংশ নেন। এর বাইরে কয়েকজন সদস্য মাঝেমধ্যে বিভিন্ন সভা ও অনুষ্ঠানে অংশ নিলেও বাকিরা একেবারেই অনুপস্থিত থাকেন। অভিযোগ রয়েছে, হুমকি-ধমকি দিয়ে ও নানা কৌশলে বাকিদের বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ট্রাস্টি বোর্ড সদস্যদের এভাবে সম্মানী, গাড়ি, ভ্রমণ ভাতাসহ নানা আর্থিক সুবিধা নেওয়া প্রসঙ্গে ইউজিসির সদস্য (বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়) অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ চন্দ বলেন, ট্রাস্টিরা হবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থের জোগানদাতা। তারা যদি কোনো আর্থিক সুবিধা নেন সেটি অনৈতিক ও অবৈধ। আর্থিক সুবিধা নিলে তো ট্রাস্টের ডিড ভঙ্গ হয়ে যায়।

ইউজিসির সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়টি পাঠদানে শ্রেষ্ঠত্ব এখনও বজায় রাখতে পারলেও ট্রাস্টি বোর্ডের কতিপয় ব্যক্তির কারণে প্রতিষ্ঠানটি বার বার হোঁচট খাচ্ছে। জমি কেনা নিয়ে তাদের অপকর্মের কারণে বেসরকারি খাতে বড় ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার জায়গাটি ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলো।’

এসব বিষয়ে বক্তব্য জানতে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আতিকুল ইসলামকে গতকাল রাতে কয়েকবার ফোন দেওয়া হলেও তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগের প্রধান জামিল আহমেদও ফোনে সংযুক্ত হননি। তার মোবাইল ফোনে খুদেবার্তা দিয়েও উত্তর মেলেনি।

সূত্র : সমকাল
এম এস, ২৪ মে

Back to top button