জাতীয়

যে মামলার কারণে আত্মসমর্পণ করতে হচ্ছে হাজি সেলিমকে

ঢাকা, ২২ মে – ১০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সংসদ সদস্য হাজী সেলিমে আজ রবিবার আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন বলে জানা গেছে।

হাজী সেলিমের আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা এ তথ্য জানিয়েছেন। সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে জরুরি অবস্থার মধ্যে ২০০৭ সালের ২৪ অক্টোবর হাজি সেলিমের বিরুদ্ধে লালবাগ থানায় অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করে দুদক। ২০০৮ সালের ২৭ এপ্রিল বিশেষ আদালতের রায়ে তাকে মোট ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আর জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনে ‘সহযোগিতার’ দায়ে হাজি সেলিমের স্ত্রী গুলশান আরা বেগমকে দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সাজার রায়ের বিরুদ্ধে হাজি সেলিম হাইকোর্টে আপিল করেন।

এবছরের ১০ ফেব্রুয়ারি ‘অবৈধ সম্পদ’ অর্জনের অভিযোগে দেড় যুগ আগের মামলায় আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হাজি সেলিমের ১০ বছরের কারাদণ্ড বহাল রেখে গত বছর দেওয়া রায়টি প্রকাশ করা হয়। ৬৬ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়টি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। যেখানে তাকে এক মাসের মধ্যে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়। কিন্তু হঠাৎই চিকিৎসার কথা বলে তিনি দেশত্যাগ করেন। পরে অবশ্য দেশে ফিরেও আসেন।

যে কারণে মামলা
আওয়ামী লীগের টিকেট নিয়ে সংসদ সদস্য হওয়া হাজী সেলিমের বিরুদ্ধে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে ২০০৭ সালে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন এবং ৫৯ কোটি ৩৭ লাখ ২৬ হাজার ১৩২ টাকার তথ্য গোপনের অভিযোগে রাজধানীর লালবাগ থানায় মামলা করে দুদক। ওই মামলায় ২০০৮ সালে হাজী সেলিমকে দুদক আইনের দুটি ধারায় মোট ১৩ বছর কারাদণ্ড দেন বিশেষ জজ আদালত।

কিন্তু ২০০৯ সালে হাজী সেলিম বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে ২০১১ সালে ওই সাজা বাতিল করে রায় দেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করে দুদক। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালে হাইকোর্টের রায় বাতিল করে পুনরায় শুনানি করতে নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ। নির্দেশ অনুযায়ী ২০২০ সালের মামলাটি শুনানির জন্য উদ্যোগ নেয় দুদক।

ফের শুনানি শেষে গত বছরের ৯ মার্চ রায় ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। রায়ে আংশিক আপিল মঞ্জুর করে ১০ বছর কারাদণ্ড বহাল রাখেন আদালত। আর তিন বছরের দণ্ড থেকে তাকে খালাস দেওয়া হয়। চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে।

এদিকে প্রশ্ন ওঠে ১০ বছর সাজা হওয়া সেলিমের সংসদ সদস্য পদ নিয়ে। সংবিধান অনুযায়ী হাজি সেলিমের এমপি পদ থাকবে না। দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম জানান, হাজি মোহাম্মদ সেলিমের সাজা বহালের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর সেটি দুদকের পক্ষ থেকে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। এরপর স্পিকার সংসদ সদস্য পদ বাতিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

সংবিধান ও নির্বাচনি আইন অনুযায়ী, ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে ন্যূনতম দুবছর দণ্ডিত হলে সংসদ সদস্য হওয়ার ও থাকার যোগ্যতা হারান যে কেউ। মুক্তিলাভের পাঁচ বছর পার না-হওয়া পর্যন্ত ভোটে অংশ নেওয়া যায় না।

ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য ব্যবসায়ী হাজি সেলিম আওয়ামী লীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের উপদেষ্টমণ্ডলীতে রয়েছেন। বিগত কমিটিতে তিনি সদস্য ছিলেন। তার আগে অবিভক্ত ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটিতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি।

রাজেয়াপ্ত সম্পত্তি দিতে হবে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে
আদালতের রায়ে আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য হাজি সেলিমের স্ত্রী মৃত্যুবরণ করায় মামলা থেকে তাকে অব্যাহতি (অ্যাবেট) দেওয়া হয়। তবে সেলিমের দুই ধারায় দেওয়া ১৩ বছরের কারাদণ্ডাদেশের মধ্যে এক ধারার (১০ বছর) দণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট।

অপর ধারার দণ্ড (৩ বছর) থেকে তাকে খালাস দেন আদালত। একইসঙ্গে ১০ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে এক বছরের কারাদণ্ড দেন।

আর যেসব সম্পত্তি নিয়ে এ সাজা দেওয়া হয়েছে তা বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে নিতে হবে।

এ রায় পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে তাকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে। কিন্তু তা করেননি তিনি। আজ রবিবার আদালতে আত্মসমর্পণ করতে পারেন এই সাংসদ।

বধির সংস্থার জায়গা দখল
লালবাগের এমপি হাজি সেলিম বাংলাদেশ বধির সংস্থার এক একর জমি দখল করে রেখেছেন। সেলিমের কাছ থেকে দুবার এই সম্পত্তি দখল মুক্ত করা হলেও আবারও তা দখল করে নেন তিনি। সরকার বলছে, জমিটা দখলমুক্ত করে সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হবে বধিরদের কল্যাণে।

সূত্র : ঢাকা টাইমস
এন এ/ ২২ মে

Back to top button