মধ্যপ্রাচ্য

ইরানে শ্রীলঙ্কার হাওয়া, সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহত ৬

তেহরান, ১৯ মে – দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে নাকাল সিংহল দ্বীপের বাসিন্দারা। এ নিয়ে বিক্ষুব্ধ জনগণের আন্দোলনের তোড়ে মাহাবেলি নদীতে ভেসে গেছে প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসের গদি।

এখনো উত্তাপ কমেনি শ্রীলংকায়। দক্ষিণ এশিয়ার এই দ্বীপদেশের বাতাস লেগেছে ইরানে। পারস্য দেশটিতে খাদ্যের দাম বেড়েছে ৩০০ শতাংশ। দেওয়ালে পীঠ ঠেকে যাওয়া ইরানিরা নেমে গেছেন রাজপথে।

একটু একটু করে তীব্র হচ্ছে সরকারবিরোধী আন্দোলন। বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে দেশটির বিভিন্ন প্রদেশে। তাদের দাবি একটাই-সরকারের পদত্যাগ। এ আন্দোলন ঠেকাতে কঠোর হয়েছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। ইসফাহান প্রদেশে মঙ্গলবার বড় ধরনের সমাবেশ করেছে সরকারবিরোধীরা। গত সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভে সরকারি বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছেন অন্তত ৬ বিক্ষোভকারী। আলআরাবিয়া।

সাম্প্রতিক সময়ে ইরানে বেড়েই চলেছে দ্রব্যমূল্য। মুরগি, সয়াবিন তেল, ডিম এবং দুধের দাম বেড়েছে ৩০০ শতাংশের বেশি। এ নিয়েই ক্ষুব্ধ দেশটির নাগরিকরা। এ কারণে শুধু ইসফাহানই নয়, ইরানের কমপক্ষে ৮টি প্রদেশে তীব্র হয়েছে সরকারবিরোধী আন্দোলন। খুজিস্তান, লরিস্তান, চারমহল, বখতিয়ারি, কোহগিলুয়েহ ও বয়ের আহমাদ এবং আরদেবিলে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

বিক্ষোভকারীরা দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি ও প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়েছেন। গণমাধ্যমে বিক্ষোভের খবর প্রচারে বিধিনিষেধ থাকায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের উপরেই নির্ভর করতে হচ্ছে তথ্যের জন্য।

বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে আন্দোলনকারীরা বলছেন, আলি খামেনির মৃত্যু হোক, ইব্রাহিম রাইসির মৃত্যু হোক। তারা আলি খামেনিকে স্বৈরশাসক বলেও উল্লেখ করেন। আন্দোলন থামাতে কঠিন অবস্থান নিয়েছে সরকার। বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজে গুলির শব্দ শোনা গেছে। গত সপ্তাহে বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত সরকারি বাহিনীর গুলিতে ৬ বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন অধিকারকর্মীরা। যদিও ইরান সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নিহতের খবর প্রচার করেনি। তবে একজন সংসদ-সদস্য জানিয়েছেন, খুজিস্তানে বিক্ষোভ চলাকালে একজন নিহত হয়েছেন।

আর কোনো বিবরণ দেননি তিনি। একই সময়ে রাষ্ট্রীয় মিডিয়া একজন ব্যক্তির ফুটেজ প্রকাশ করেছে- যেখানে লোকটি বলেছেন তার ছেলেকে চারমহাল এবং বখতিয়ারিতে শাসকবিরোধীরা গুলি করে হত্যা করেছে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, কর্তৃপক্ষ বিবৃতি দেওয়ার জন্য লোকটিকে চাপ দিয়েছিল। সাদাত হাদিপুর নামে তার ছেলে সরকারি নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিহত হয়েছিল। এরই মধ্যে কয়েকডজন বিক্ষোভকারীকে আটকের অভিযোগ উঠে এসেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানের জনবিক্ষোভে সরকারের পতন দাবি করা হয়েছিল। চলতি বিক্ষোভেও তার ব্যত্যয় ঘটেনি। ২০২১ সালে পানির অভাবে বিক্ষোভ হয়েছিল। ২০১৯ সালে রাতারাতি জ্বালানির দাম বৃদ্ধির দরুন বিক্ষোভে উত্তাল হয়েছিল ইরান। ২০২১ এবং ২০১৯ উভয়ক্ষেত্রেই বিক্ষোভের আগুন ছিল অরাজনৈতিক। এ অবস্থায় সরকার পরিবর্তনের দাবি ইসলামি প্রজাতন্ত্রটির রাজনীতিকদের জন্য পরীক্ষা বলে মনে করেন রাজনীতি বিশ্লেষকরা।

এন এ/ ১৯ মে

Back to top button